আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দাম পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে অবস্থান করছে।
বিপুল পরিমাণ বৈশ্বিক মজুদ এবং জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতার কারণে পণ্যটির বাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
আইসিই এক্সচেঞ্জে গত মঙ্গলবার অপরিশোধিত চিনির দাম কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও সামগ্রিক চিত্রে দেখা গেছে নিম্নমুখী প্রবণতা।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত চিনির দাম কমে পাউন্ডপ্রতি ১৩ ডলার ৪৬ সেন্টে নেমেছে। গত শুক্রবার এ দাম ১৩ ডলার ২২ সেন্ট পর্যন্ত নেমেছিল, যা পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে সাদা চিনির দাম দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি টন ৪১৯ ডলার ৭০ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। বাজারে চিনির অতিরিক্ত সরবরাহ দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে বলে জানান বাজার বিশ্লেষকরা।
ব্রোকার প্রতিষ্ঠান এডমিস জানায়, ২০২৫-২৬ মৌসুমে চিনির বিপুল উদ্বৃত্ত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আশার কথা, পরের মৌসুমে এ উদ্বৃত্ত কমে সামান্য ঘাটতি দেখা দিতে পারে। জ্বালানি তেলের দাম কমাকেও চিনির দরপতনের একটি বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সাধারণত তেলের দাম কমলে চিনিকলগুলো ইথানল উৎপাদন কমিয়ে সরাসরি চিনি উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। এতে বাজারে চিনির সরবরাহ বাড়ে এবং দাম কমে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনায় তেলের বাজারে কিছুটা স্বস্তি দেখা দিয়েছিল। তবে যুদ্ধের প্রভাবে তেল সংকট দেখা দিলে ফের বায়োফুয়েল হিসেবে চিনির চাহিদা বাড়তে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
এদিকে চিনির নিম্নমুখী দামের কারণে বড় বড় উৎপাদক প্রতিষ্ঠান ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের অ্যাসোসিয়েটেড ব্রিটিশ ফুডসের চিনি ইউনিট সম্প্রতি বড় ধরনের লোকসানের কথা জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আশঙ্কা করছে, ইউরোপের বাজারে অস্বাভাবিক কম দামের কারণে বছরজুড়ে বড় অংকের আর্থিক ক্ষতি হতে পারে।
এ জাতীয় আরো খবর..