২০২৫ সাল নিয়ে আইইএর প্রতিবেদন

নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারে কমেছে বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণের গতি

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৪-২৩, | ২১:১৬:০২ |
বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ ২০২৫ সালে তুলনামূলক ধীরগতিতে বেড়েছে।

বিশ্বজুড়ে সৌরশক্তির ব্যাপক প্রসার এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এর মূল কারণ বলে উল্লেখ করেছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)। খবর বিজনেস লাইন।

আইইএ জানায়, উন্নত দেশগুলোয় নিঃসরণ বাড়লেও উন্নয়নশীল দেশে সৌরবিদ্যুতের প্রসারে কার্বন নিঃসরণ ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় ছিল। উল্লেখ্য, গত বছর মোট ৬৯২ গিগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি সক্ষমতা যুক্ত হয়েছে বিশ্বজুড়ে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।

সংস্থাটির তথ্যানুযায়ী, বিশ্বজুড়ে ২০২৫ সালে জ্বালানি খাত থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ বেড়েছে দশমিক ৪ শতাংশ। সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় বৃদ্ধির এ হার বেশ মন্থর। এর পেছনে মূল কারণ হিসেবে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় সৌরশক্তির ব্যবহার বৃদ্ধিকে চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি। একই সময় বৈশ্বিক জ্বালানি চাহিদার প্রবৃদ্ধি কমে ১ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা গত দশকের গড় চাহিদার তুলনায় কিছুটা কম। বিশেষ ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের উচ্চ মূল্যের কারণে প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদাও কমেছে।

দীর্ঘদিনের প্রবণতার ব্যতিক্রম দেখা গেছে গত বছরের পরিসংখ্যানে। ২০১৮ সালের পর প্রথমবারের মতো বার্ষিক কার্বন নিঃসরণ বেড়েছে উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোয়।

নেতিবাচক এ ধারার নেতৃত্বে ছিল যুক্তরাষ্ট্র। গ্যাসের দাম চড়া থাকায় দেশটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কয়লার ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। ডেটা সেন্টারগুলোর উচ্চ চাহিদা, শক্তিশালী শিল্প প্রবৃদ্ধি এবং তীব্র শীতের কারণে ২০০০ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জ্বালানি চাহিদা দেখা গেছে। উল্লেখ্য, ১৯৯০ সাল থেকে তিন দশকে যুক্তরাষ্ট্রের মাত্রাতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণের ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রায় ১০ লাখ কোটি (১০ ট্রিলিয়ন) ডলারের সমপরিমাণ ক্ষতি হয়েছে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে।

এদিকে উন্নত দেশগুলো যখন নিঃসরণ কমাতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন চীন ও ভারতের মতো দেশগুলো আশার আলো দেখাচ্ছে। আইইএর মতে, সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা বাড়ার ফলে চীনে গত বছর কার্বন নিঃসরণ কমেছে। অন্যদিকে ভারতে এবারই প্রথম কার্বন নিঃসরণ কমার ঐতিহাসিক রেকর্ড তৈরি হয়েছে। এর আগে ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকট এবং ২০২০ সালের মহামারীর সময় দেশটিতে নিঃসরণ কমতে দেখা গিয়েছিল।

আইইএ জানিয়েছে, প্রবল বর্ষা বা শক্তিশালী মৌসুমি বায়ু এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধি ভারতের এ অর্জনকে সম্ভব করেছে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..