ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কা ও পশ্চিমা দেশগুলোর একের পর এক নিষেধাজ্ঞায় রাশিয়ার অর্থনীতি এখন টালমাটাল।
তবে নাজুক পরিস্থিতি আড়াল করতে রুশ সরকার অর্থনৈতিক তথ্য জালিয়াতি বা পরিবর্তন করছে বলে দাবি করেছে সুইডেনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা। সুইডিশ মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি সার্ভিস (মাস্ট) চলতি সপ্তাহে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করে। খবর ইউরো নিউজ।
তথ্য গোপনের নেপথ্যে
সুইডিশ গোয়েন্দাদের মতে, রাশিয়া নিজেকে যতটা শক্তিশালী হিসেবে তুলে ধরছে দেশটির অর্থনীতি বাস্তবে ততটা স্থিতিস্থাপক নয়। দাপ্তরিক পরিসংখ্যানে জিডিপি হ্রাস ও শিল্প উৎপাদন কমে যাওয়ার কথা বলা হলেও তা এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যেন মনে হয় রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাব কাটিয়ে উঠছে। কিন্তু বাস্তবে দেশটির অর্থনীতি এখন মূলত ঋণের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও বড় ধরনের বাজেট ঘাটতিতে ভুগছে। কিন্তু দেশটি তা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করছে না।
তেলের বাজার ও বাজেট সংকট
রাশিয়া কয়েক মাস ধরে উচ্চ মূল্যে জ্বালানি তেল বিক্রি করে রাজস্ব বাড়িয়েছে, তবে বাজেট ঘাটতি মেটানোর জন্য তা যথেষ্ট নয় বলে উল্লেখ করেছে সুইডিশ গোয়েন্দা সংস্থা। মাস্ট জানায়, রাশিয়ার বাজেট ঘাটতি পুরোপুরি দূর করতে হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বছরজুড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের বেশি থাকতে হবে।
পাশাপাশি বর্তমানে রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল্যস্ফীতির হার ৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ দাবি করলেও গোয়েন্দা সংস্থাটির প্রধান থমাস নিলসনের মতে, প্রকৃত মূল্যস্ফীতি দেশটির বর্তমান সুদহার ১৫ শতাংশের কাছাকাছি।
যুদ্ধের লক্ষ্যের সঙ্গে অর্থনীতির অমিল
অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি হলেও ইউক্রেনে যুদ্ধের কৌশলগত লক্ষ্য থেকে রাশিয়া পিছিয়ে আসবে না বলে মনে করেন থমাস নিলসন। তিনি বলেন, ‘এটি একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, অর্থনৈতিক নয়।’ তবে তিনি এও জানান, নিষেধাজ্ঞা এবং অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতা ও যুদ্ধের গতি ভবিষ্যতে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
গোয়েন্দা সংস্থা জানায়, রাশিয়া বর্তমানে ইইউ ও ন্যাটো দেশগুলোয় ‘হাইব্রিড’ বা মিশ্র ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে।
রাশিয়ার অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে দুটি অন্ধকারের চিত্র তুলে ধরেছেন থমাস নিলসন। তার মতে, রুশ অর্থনীতি এখন হয়তো দীর্ঘমেয়াদি মন্দা অথবা বড় ধরনের ধাক্কার মুখোমুখি হবে। যে পথেই যাক না কেন, দেশটির অর্থনীতি চূড়ান্ত আর্থিক বিপর্যয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এমনকি দেশটিতে একটি আসন্ন ব্যাংকিং সংকটেরও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
পুতিনের অবস্থান
এদিকে অর্থনীতির নেতিবাচক পরিসংখ্যানকে গুরুত্ব দিতে নারাজ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি দাবি করেন, এ নিম্নগতি কেবল ঋতুভিত্তিক পরিবর্তনের কারণে হয়েছে। শীতকালীন আবহাওয়া ও ক্যালেন্ডারের হিসাবের কারণে সাময়িকভাবে পরিসংখ্যান কিছুটা দুর্বল মনে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সুইডিশ গোয়েন্দা সংস্থার মতে, দেশটির বর্তমান অর্থনৈতিক চাপ ও কাঠামোগত দুর্বলতা ভবিষ্যতে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ও বিশ্লেষকরা রুশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বাভাসের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলছেন, বছরের শেষে দেশটির মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে।
এ জাতীয় আরো খবর..