উত্তেজনার মাঝেও আমেরিকায় বিশ্বকাপ খেলতে পুরোপুরি প্রস্তুত ইরান

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৪-২৩, | ১৯:৫০:০৫ |
চলমান যুদ্ধ আর ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝেও ফুটবলের জাদুতে কি তবে বরফ গলবে? আমেরিকা ও ইসরায়েলের সাথে সংঘাতের আবহে ফিফা বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে যে ধোঁয়াশা ছিল, তা কাটিয়ে তেহরান সোজা জানিয়ে দিয়েছে- তারা প্রস্তুত।

বুধবার সরকারি মুখপাত্র ফাতেমা মোহাজেরানি নিশ্চিত করেছেন, ইরানের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় জাতীয় দলের জন্য সব ধরণের সুযোগ-সুবিধা ও প্রস্তুতির কাজ গুছিয়ে এনেছে। যুদ্ধের দামামা ছাপিয়ে এখন তিব্বতি বাঘদের লক্ষ্য উত্তর আমেরিকার মাঠ।

গত ১৬ এপ্রিল ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বেশ কড়া সুরেই জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান বিশ্বকাপে খেলছে। তার মতে, খেলাধুলাকে রাজনীতির বাইরে রাখা উচিত। তিনি বলেন, ইরানি ফুটবলাররা তাদের দেশের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে, তারা যোগ্যতা অর্জন করেছে এবং তারা খেলতে চায়।

আমেরিকা ও ইসরাইলের সাথে ইরানের চলমান যুদ্ধ থাকলেও ফিফা স্পষ্ট করেছে, তেহরানের বিশ্বকাপ যাত্রায় তারা কোনো বাধা বরদাশত করবে না।

মজার বিষয় হলো, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মার্চ মাসে ইরানি দলকে স্বাগত জানানোর কথা বললেও এক অদ্ভুত ‘উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, খেলোয়াড়দের জীবন ও নিরাপত্তার কথা চিন্তা করলে তাদের এই টুর্নামেন্টে আসা কতটা সমীচীন হবে।



তবে ট্রাম্পের এই প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারিকে খুব একটা পাত্তা না দিয়ে ইরান তাদের সূচি অনুযায়ী এগোচ্ছে। গ্রুপ ‘জি’-তে থাকা ইরানের তিনটি ম্যাচই আমেরিকায়, দুটি লস অ্যাঞ্জেলেসে এবং একটি সিয়াটলে। অ্যারিজোনার টাসকনে হবে তাদের বেস ক্যাম্প।

ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের প্রভাবে এক সময় ইরান বিশ্বকাপ বয়কট করার হুমকি দিয়েছিল। এমনকি তারা ফিফার কাছে তাদের ম্যাচগুলো আমেরিকা থেকে সরিয়ে মেক্সিকোতে নেওয়ার অনুরোধও করেছিল। কিন্তু ফিফা সেই প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দেয়।

৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির পর এবং ইসলামাবাদে কোনো চূড়ান্ত সমাধান ছাড়াই শান্তি আলোচনা শেষ হওয়ার প্রেক্ষাপটে, ইরানের এই বিশ্বকাপ প্রস্তুতি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।

সব মিলিয়ে ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া ৪৮ দলের এই মহাযজ্ঞে ইরান অংশ নিয়ে বিশ্বকে কী বার্তা দেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। একদিকে যুদ্ধের হুংকার, অন্যদিকে ফুটবলের উন্মাদনা, মাঠের লড়াই শেষ পর্যন্ত রাজনীতির লড়াইকে ছাপিয়ে যেতে পারে কি না, তা নিয়ে এখন সরগরম ক্রীড়াবিশ্ব।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..