বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সরবরাহকৃত ফার্নেস অয়েলের ভোক্তাপর্যায়ের মূল্য কমানো হয়েছে। নতুন নির্ধারিত দাম প্রতি লিটার ৭০ টাকা ১০ পয়সা, যা আজ রবিবার রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে। এর আগে ফার্নেস অয়েল প্রতি লিটার ৮৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। ফলে প্রতি লিটারে দাম কমল প্রায় ১৫ টাকা ৯০ পয়সা।
আজ রবিবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এ সংক্রান্ত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। বিইআরসি জানায়, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন, ২০০৩-এর ধারা ৩৪ (৪) ও ৩৪ (৬) অনুযায়ী ফার্নেস অয়েলের ভোক্তাপর্যায়ের মূল্যহার পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফার্নেস অয়েলের মূল্য পুনর্নির্ধারণের জন্য বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন ২০২৪ সালের ২০ জানুয়ারি কমিশনে প্রস্তাব দাখিল করে। পরবর্তীতে তেল বিপণন কোম্পানিগুলোও ফার্নেস অয়েল বিপণনে তাদের বিপণন চার্জ ও সমন্বিত পরিবহন চার্জ বৃদ্ধির প্রস্তাব দেয়। এর মধ্যে মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড ২০২৫ সালের ২৬ মে, স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি লিমিটেড ৩ জুন, যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড ২৬ জুন এবং পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড ১১ জুলাই প্রস্তাব জমা দেয়।
এসব প্রস্তাবের ওপর চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি বিইআরসি গণশুনানি গ্রহণ করে। প্রস্তাবকারী প্রতিষ্ঠান ও আগ্রহী পক্ষগুলোকে গণশুনানির পর ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত লিখিত মতামত দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। কমিশন জানায়, সব প্রস্তাব ও মতামত বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণের পর আইনের আওতায় ক্ষমতা প্রয়োগ করে এই মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিপিসি সরবরাহকৃত ফার্নেস অয়েলের ভোক্তাপর্যায়ের মূল্য প্রতি লিটার ৭০ দশমিক ১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ফার্নেস অয়েল বিপণনে পদ্মা অয়েল কোম্পানি, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, যমুনা অয়েল কোম্পানি এবং স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানির বিপণন চার্জ প্রতি লিটার ৭২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া সমন্বিত পরিবহন চার্জ ধরা হয়েছে প্রতি লিটার ১ টাকা ২০ পয়সা।
বিইআরসি জানায়, ফার্নেস অয়েলের পুনর্নির্ধারিত এই মূল্যহার রোববার রাত ১২টা থেকে সারা দেশে কার্যকর হবে। মূল্য পুনর্নির্ধারণ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
ফার্নেস অয়েলের দাম কমায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় কমবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এ জাতীয় আরো খবর..