✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-২০, | ০০:১৯:৫১ |বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মহিষাদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেতে প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ একটি ভাঙা সেতু পার হতে হচ্ছে শতাধিক কোমলমতি শিক্ষার্থীকে। সেতুটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাওয়ায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শঙ্কা নিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করছে তারা। একই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে শিক্ষক-কর্মচারীদেরও।
স্থানীয়রা জানান, সুগন্ধা নদীর তীরবর্তী মহিষাদী গ্রামের একমাত্র কার্পেটিং সড়কটি ইতোমধ্যে নদীভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। নদীর কূলঘেঁষা ওই সড়কের মুখেই অবস্থিত মহিষাদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে যাওয়ার একমাত্র সংযোগ পথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে জরাজীর্ণ ওই সেতুটি।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয় ভবন থেকে সুগন্ধা নদীর দূরত্ব ২০ ফুটেরও কম। বিদ্যালয়ে প্রবেশের একমাত্র সংযোগ সেতুটির বেশ কয়েকটি অংশ ভেঙে গেছে। কোথাও সেতুর পাটাতন নেই, আবার কোথাও তৈরি হয়েছে বড় ফাঁকা অংশ। এসব ঝুঁকিপূর্ণ অংশ পেরিয়েই বিদ্যালয়ে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মুবিন বলেন, দুইবার ফাঁক থেকে নিচে পড়ে গেছি। তাই এখন মা-বাবা দিয়ে যায়। সেতুটি পার হওয়ার সময় সামান্য অসাবধানতায় যেকোনো সময় শিক্ষার্থীরা নদীতে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অভিভাবকরা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চৈতালি রানি দাস জানান, ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে প্রায় ১০০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। নদীভাঙন ও অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে বিদ্যালয়ের ভবন ও শ্রেণিকক্ষগুলোও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার একমাত্র সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-কর্মচারীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। দ্রুত সেতুটি সংস্কার এবং নদীভাঙন থেকে বিদ্যালয়টি রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম শাহিন বলেন, ভাঙা সেতুর কারণে প্রতিদিন সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে আমরা আতঙ্কে থাকি। কখন কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যায়, সেই শঙ্কা সবসময় কাজ করে। দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণ না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। একই সঙ্গে নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া না হলে অদূর ভবিষ্যতে বিদ্যালয়টিও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসামা উল হুসনা বলেন, ‘আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি, কিছু করা যায় কি না।’