সর্বশেষ :
দৈনন্দিন এই ১৫ অভ্যাস গোপনে আপনার দাঁত নষ্ট করে দিচ্ছে সাড়ে ৬ মিনিটেই ৯৮ শতাংশ চার্জ করা যাবে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি এক স্বপ্ন, তিন যোদ্ধা রোনালদোর ৯৭০ বিশ্বজুড়ে অস্ত্র প্রতিযোগিতার হিড়িক, সামরিক ব্যয় ছাড়াল ২.৮৮ ট্রিলিয়ন ডলার ভারতের মতো বিশ্বের কেউ কি সীমান্তে সাপ-কুমির ছাড়ার পরিকল্পনা করেছিল? ৬৩তম দিন: ট্রাম্পের হামলার আভাসে নতুন জটিল পরিস্থিতিতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ছে, বাজেটে নতুন পরিকল্পনা রেমিট্যান্সের ভিত্তি স্থাপন করেন শহীদ জিয়া, পূর্ণতা দিয়েছেন খালেদা : রাষ্ট্রপতি ইসরায়েলে কারানির্যাতনে ৬০ কেজি ওজন হারিয়েছেন ফিলিস্তিনি সাংবাদিক

বিশ্বজুড়ে অস্ত্র প্রতিযোগিতার হিড়িক, সামরিক ব্যয় ছাড়াল ২.৮৮ ট্রিলিয়ন ডলার

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-০১, | ১৬:১০:৫৫ |

বিশ্বব্যাপী সামরিক ব্যয় এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআরআই) সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বের দেশগুলো তাদের সামরিক খাতে মোট ২ দশমিক ৮৮ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। আগের বছরের তুলনায় এই ব্যয় ২ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি।

সহজভাবে বললে, বর্তমানে পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের বিপরীতে সামরিক খাতে ব্যয়ের পরিমাণ ৩৫০ ডলার।

এই বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ একদিকে যেমন আধুনিক সমরাস্ত্রের মজুদ বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে প্রশ্ন তুলছে সাধারণ মানুষের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বাজেট নিয়ে।

শীর্ষ পাঁচ ব্যয়কারী দেশ
বিশ্বের মোট সামরিক ব্যয়ের ৫৮ শতাংশই সম্পন্ন করে মাত্র পাঁচটি দেশ। ২০২৫ সালেও বরাবরের মতো এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যার পরিমাণ ৯৫৪ বিলিয়ন ডলার। চীন খরচ করেছে ৩৩৬ বিলিয়ন ডলার, রাশিয়া ১৯০ বিলিয়ন ডলার, জার্মানি ১১৪ বিলিয়ন ডলার এবং ভারত ব্যয় করেছে ৯২ বিলিয়ন ডলার।

বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্র একাই যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে, তা তালিকার পরবর্তী ৬টি দেশের সম্মিলিত ব্যয়ের চেয়েও বেশি। 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে প্রতিবছরই দেশটি এই শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখেছে। ১৯৪৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সামরিক খাতে অন্তত ৫৩ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে, যা বিশ্বের মোট ঐতিহাসিক সামরিক ব্যয়ের ৫১ দশমিক ৫ শতাংশ।

সামরিক ব্যয়ের ঐতিহাসিক পরিক্রমা
গত ৭৫ বছরের ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, যুদ্ধের সময় সামরিক ব্যয় বাড়ে এবং শান্তির সময় তা কমে। 

১৯৫০-এর দশকে কোরিয়ান যুদ্ধের প্রভাবে সামরিক ব্যয় ২৮৪ বিলিয়ন থেকে বেড়ে ১৯৫৩ সালে ৭৮৮ বিলিয়নে দাঁড়ায়। স্নায়ুযুদ্ধের চরম উত্তেজনায় এবং ভিয়েতনাম যুদ্ধের প্রভাবে ১৯৬০-এর দশকের শেষভাগে বিশ্বব্যাপী সামরিক ব্যয় প্রথমবারের মতো এক ট্রিলিয়ন ডলারের গণ্ডি অতিক্রম করে। ১৯৮৮ সালে এটি ১ দশমিক ৭ ট্রিলিয়নে পৌঁছালেও স্নায়ুযুদ্ধ শেষে ১৯৯১ সালে তা কমে ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়নে নেমে আসে।

তবে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধের কারণে ২০০৯ সালে এই ব্যয় প্রথমবারের মতো ২ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। 

২০১৪ সালে রাশিয়ার ক্রিমিয়া দখলের পর থেকে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো তাদের জিডিপির ২ শতাংশ সামরিক খাতে ব্যয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করে। ফলে গত এক দশকে ইউরোপের সামরিক ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিশেষ করে পূর্ব ইউরোপে এই বৃদ্ধির হার ১৭৩ শতাংশ।

দ্রুততম অস্ত্রসজ্জিত দেশ ও মাথাপিছু ব্যয়
মাথাপিছু সামরিক ব্যয়ের দিক থেকে বর্তমানে শীর্ষে অবস্থান করছে কাতার। ২০০৬ সালে যেখানে দেশটির মাথাপিছু ব্যয় ছিল ১ হাজার ২৩১ ডলার, ২০২২ সালে তা ৩৪০ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ৪২৮ ডলারে পৌঁছেছে। 

এর পরই রয়েছে ইসরায়েল (৫ হাজার ১০৮ ডলার) এবং নরওয়ে (৩ হাজার ৪০ ডলার)। 

তবে শতাংশের হিসাবে সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে ইউক্রেনে। রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ২০০৬ সালের তুলনায় দেশটির মাথাপিছু সামরিক ব্যয় ৩ হাজার ৩৮৭ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ১৯৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

অস্ত্র ব্যবসার নিয়ন্ত্রক যারা
২০১৬ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বিশ্বে ২৯৫ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র কেনাবেচা হয়েছে। এই বিশ্ববাজারের ৩৯ শতাংশ (১১৫ বিলিয়ন ডলার) দখল করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের এই আধিপত্যের মূলে রয়েছে তাদের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা শিল্প ও সরকারি নীতি। পেন্টাগনের চুক্তির অর্ধেকের বেশি বরাদ্দ পায় লকহিড মার্টিন, বোয়িং এবং নর্থরোপ গ্রুম্যানের মতো পাঁচটি শীর্ষ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।

অস্ত্র রপ্তানিতে রাশিয়ার অবস্থান দ্বিতীয় (১৩ শতাংশ), এরপর যথাক্রমে ফ্রান্স (৯ দশমিক ৩ শতাংশ), চীন (৫ দশমিক ৫ শতাংশ) এবং জার্মানি (৫ দশমিক ৫ শতাংশ)।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বনাম সামরিক খাত
একটি দেশের বাজেটের সীমাবদ্ধতা থাকায় সামরিক খাতে ব্যয় বাড়লে তা সরাসরি শিক্ষা বা স্বাস্থ্য খাতে চাপ বাড়ে। আল জাজিরার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১৩৭টি দেশের মধ্যে ১১৪টি দেশ তাদের জিডিপির সবচেয়ে বড় অংশ ব্যয় করে স্বাস্থ্য খাতে। ১৪টি দেশ শিক্ষা খাতে ব্যয় করে। সামরিক খাতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় ৯টি দেশ।

আধুনিক সামরিকীকরণে প্রযুক্তির দাপট
একবিংশ শতাব্দীর সামরিক ব্যবস্থা কেবল ভারি ট্যাংক বা বিমান বাহিনীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এখনকার যুদ্ধক্ষেত্রে দাপট দেখাচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ড্রোন এবং সাইবার যুদ্ধ সরঞ্জাম।

পেন্টাগন এখন বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করছে। গত বছর ওপেনএআই, এক্সএআই এবং অ্যানথ্রোপিককে সামরিক কাজে এআই ব্যবহারের জন্য ২০০ মিলিয়ন ডলার করে চুক্তি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্যালান্টিয়ারের মতো প্রতিষ্ঠানের এআই-নির্ভর টার্গেটিং সিস্টেম গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর কার্যক্রমের মতো যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে। সূত্র: আল জাজিরা

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..