সর্বশেষ :
গণমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে ৩ ধাপ পেছাল বাংলাদেশ, শীর্ষে কোন দেশ? এবার নিজস্ব প্রযুক্তিতে শক্তিশালী ড্রোন বানাল নাইজেরিয়া বাড়ছে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাত, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতা চায় লেবানন ইরান যুদ্ধ : ২০২২ সালের পর তেলের সর্বোচ্চ দাম দেখছে এশিয়া ইরানকে টলাতে ‘মোয়িং দ্য গ্রাস’ কৌশল নেবে যুক্তরাষ্ট্র? রাশিয়ার ট্যাংককে বিশ্বসেরা ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িকীর জার্মানিতে মার্কিন সেনা কমানোর পরিকল্পনা করছেন ট্রাম্প ‘তাইওয়ান স্বাধীনতা’ কী, দেশটি কি সত্যিই স্বাধীন রাষ্ট্র? যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইসরায়েলে একদিনে এলো ৬ হাজার ৫০০ টন সামরিক সরঞ্জাম জরিপের ফল উড়িয়ে মমতা বললেন, রেকর্ড জয়ের পথে তৃণমূল

ইরানকে টলাতে ‘মোয়িং দ্য গ্রাস’ কৌশল নেবে যুক্তরাষ্ট্র?

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৪-৩০, | ২১:২৮:১৭ |
মাসছাড়ানো যুদ্ধে থেমে গেছে তাও মাসখানেক আগে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এতটুকুও কমেনি। ইরান কয়েকটি দাবি তুলে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে রেখেছে। হামলা না চালালেও যুক্তরাষ্ট্র হরমুজে পাল্টা অবরোধ দিয়ে রেখেছে। 

যুদ্ধ পরিস্থিতির এই অবস্থায় আলোচনায় এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ কৌশল নিয়ে। বিশ্লেষকদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো ইসরাইলের মতো ‘মোয়িং দ্য গ্রাস’  কৌশল নিতে পারে। এই সামরিক শব্দটির অর্থ বাড়ার আগেই কেটে ফেলা। অর্থাৎ সীমিত আক্রমণের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে দুর্বল রাখা হয়। ইসরাইল হামাস ও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে এই কৌশল মেনে চলে।

লন্ডনের কিংস কলেজের গবেষক মাইকেল কার বলেন, এ ধরনের কৌশল নিলে ইরান পাল্টা কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত বা কুয়েতে হামলা চালাতে পারে এবং মার্কিন জাহাজেও ড্রোন হামলা করতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, শুধু সামরিক হামলার মাধ্যমে ইরানকে নতিস্বীকার করানো সম্ভব নয়। বরং এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও এর বড় প্রভাব পড়বে। তাছাড়া ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার কারণে এই কৌশল ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

গত মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ‘খারাপ কোনো চুক্তিতে তাড়াহুড়া করবে না’। এর একদিন আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার নিরাপত্তা উপদেষ্টারা ইরানের নতুন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেন।

৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও সামরিক উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, পরিস্থিতি ‘ফ্রোজেন কনফ্লিক্ট’ বা স্থবির সংঘাতে পরিণত হতে পারে। যেখানে গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হবে এবং যেকোনো সময় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়তে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, স্থায়ী কোনো সমাধান ছাড়া স্বল্পমাত্রার সংঘাত ও মাঝেমধ্যে হামলা—এই পথটাই দুই পক্ষের জন্য আপাতত সহজ বিকল্প হতে পারে। যদিও এতে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ দীর্ঘায়িত হবে।

কাতারের জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির বিশেষজ্ঞ মেহরান কামরাভা বলেন, এই ‘না-যুদ্ধ, না-চুক্তি’ পরিস্থিতি উভয় পক্ষের জন্যই ব্যয়বহুল। ইরান দীর্ঘদিন বন্দর অবরুদ্ধ রাখতে পারবে না, আবার যুক্তরাষ্ট্রও অনির্দিষ্টকাল অবরোধ বজায় রাখতে পারবে না।

মার্কিন থিংক ট্যাঙ্ক কুইন্সি ইনস্টিটিউটের হিসাবে, যুদ্ধের প্রথম মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের খরচ হয়েছে ২০ থেকে ২৫ বিলিয়ন ডলার। আর ২০০৩ সালের ইরাকের মতো বড় আকারের স্থল অভিযান চালাতে হলে মাসে ৫৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত লাগতে পারে। যা এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র বহন করতে পারবে না বা চাইবে না।

গত ১৩ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নৌ অবরোধ জারি করেছে এবং অঞ্চলে বড় ধরনের সামরিক শক্তি মোতায়েন করেছে। অন্যদিকে, ইরানও হরমুজ প্রণালীতে টোল আরোপ করে পাল্টা চাপ সৃষ্টি করছে। এর প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রেও পড়েছে—জ্বালানির দাম প্রায় চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

নরওয়ের পিস রিচার্স ইনস্টিটিউট অসলোর গবেষক চ্যান্ডলার উইলিয়ামস বলেন, এই সংঘাত পরিকল্পনার চেয়ে দীর্ঘায়িত হয়েছে। যদি এটি আরও বাড়ে অথবা ‘দীর্ঘস্থায়ী’ সংঘাতে রূপ নেয়, তাহলে তা আরও জটিল হয়ে উঠবে।

যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপের পাশাপাশি প্রয়োজন হলে আবার হামলার হুমকি দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইছে। অন্যদিকে ইরান হরমুজ প্রণালীকে কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে, যাতে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় ছাড় দিতে বাধ্য হয়। এতে শঙ্কা বাড়ছে যুদ্ধের ভবিষৎ নিয়ে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..