সর্বশেষ :
গণমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে ৩ ধাপ পেছাল বাংলাদেশ, শীর্ষে কোন দেশ? এবার নিজস্ব প্রযুক্তিতে শক্তিশালী ড্রোন বানাল নাইজেরিয়া বাড়ছে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাত, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতা চায় লেবানন ইরান যুদ্ধ : ২০২২ সালের পর তেলের সর্বোচ্চ দাম দেখছে এশিয়া ইরানকে টলাতে ‘মোয়িং দ্য গ্রাস’ কৌশল নেবে যুক্তরাষ্ট্র? রাশিয়ার ট্যাংককে বিশ্বসেরা ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িকীর জার্মানিতে মার্কিন সেনা কমানোর পরিকল্পনা করছেন ট্রাম্প ‘তাইওয়ান স্বাধীনতা’ কী, দেশটি কি সত্যিই স্বাধীন রাষ্ট্র? যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইসরায়েলে একদিনে এলো ৬ হাজার ৫০০ টন সামরিক সরঞ্জাম জরিপের ফল উড়িয়ে মমতা বললেন, রেকর্ড জয়ের পথে তৃণমূল

‘তাইওয়ান স্বাধীনতা’ কী, দেশটি কি সত্যিই স্বাধীন রাষ্ট্র?

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৪-৩০, | ২১:২১:৩৪ |
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আগামী মাসে বেইজিংয়ে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হবেন। বৈঠকে চীন ‘তাইওয়ান স্বাধীনতা’ ইস্যুকে আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তুলতে পারে। এ বৈঠককে সামনে রেখে নতুন করে ‘তাইওয়ান স্বাধীনতা’ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

তাইওয়ান নিয়ে নানা আলোচিত প্রশ্নের উত্তর তুলে এনেছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

তাইওয়ানের ইতিহাস ও বর্তমান আনুষ্ঠানিক নাম কী?
তাইওয়ান আগে ‘ফরমোসা’ নামে পরিচিত ছিল। দ্বীপটিতে হাজার বছর ধরে আদিবাসীদের বসবাস রয়েছে। ১৬০০-এর দশকে এখানে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য ডাচ ও স্প্যানিশরা শাসন করে। ১৬৮৪ সালে চিং রাজবংশ তাইওয়ানকে ফুজিয়ান প্রদেশের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে এবং ১৮৮৫ সালে এটিকে আলাদা প্রদেশ হিসেবে ঘোষণা করে।

‘তাইওয়ান স্বাধীনতা’ কী, দেশটি কি সত্যিই স্বাধীন রাষ্ট্র?
অবরোধ বজায় রাখার ঘোষণা ট্রাম্পের, ‘বাস্তব পদক্ষেপের’ হুঁশিয়ারি তেহরানের
চীন-জাপান যুদ্ধে চিং রাজবংশ পরাজিত হলে ১৮৯৫ সালে তাইওয়ান জাপানের উপনিবেশে পরিণত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে ১৯৪৫ সালে এটি চীনের ‘রিপাবলিক অব চায়না’ সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

১৯৪৯ সালে মাও সেতুংয়ের কমিউনিস্ট বাহিনীর কাছে পরাজিত হয়ে রিপাবলিক অব চায়না সরকার তাইওয়ানে চলে আসে এবং সেখানে তাদের রাজধানী স্থাপন করে। ‘রিপাবলিক অব চায়না’ এখনো তাইওয়ানের আনুষ্ঠানিক নাম। মাও এরপর ‘পিপলস রিপাবলিক অব চায়না’ প্রতিষ্ঠা করেন এবং দাবি করেন যে তিনিই পুরো চীনের বৈধ সরকার, যার মধ্যে তাইওয়ানও অন্তর্ভুক্ত।

তাইওয়ানের আন্তর্জাতিক অবস্থান কী?
দীর্ঘ সময় ধরে তাইওয়ানের সরকারও নিজেকে পুরো চীনের বৈধ সরকার হিসেবে দাবি করত। তবে ১৯৭১ সালে জাতিসংঘে চীনের আসন বেইজিং দখল করে নেয়। বর্তমানে মাত্র ১২টি দেশ তাইপের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখে, যার মধ্যে বেশিরভাগই ছোট উন্নয়নশীল দেশ।

অধিকাংশ বড় পশ্চিমা দেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা তাইওয়ানের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক কিন্তু ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখে। তারা তাইওয়ানের পাসপোর্ট স্বীকৃতি দেয় এবং একে অপরের রাজধানীতে কার্যত দূতাবাস পরিচালনা করে। তাইওয়ানের নাগরিকরা তাদের পাসপোর্ট ব্যবহার করে বেশিরভাগ দেশে ভ্রমণ করতে পারেন।

রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ১৯৭৯ সালে তাইপের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক ছিন্ন করে। তবে আইন অনুযায়ী, তাইওয়ানকে আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে ওয়াশিংটন বাধ্য। যুক্তরাষ্ট্রের ‘এক চীন নীতি’ অনুযায়ী, তারা তাইওয়ানের সার্বভৌমত্ব নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো অবস্থান নেয় না।

চীন বলছে, তারা শক্তি প্রয়োগ করেও তাইওয়ানকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে। তারা তাইওয়ানকে ‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থা’ মডেল গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছে, যা হংকংয়ের মতো স্বায়ত্তশাসনের কথা বলে। তবে তাইওয়ানের কোনো বড় রাজনৈতিক দল এই প্রস্তাব সমর্থন করে না।

তাইওয়ানে জনমত জরিপে বারবার দেখা গেছে, বেশিরভাগ মানুষ বর্তমান অবস্থা বজায় রাখতে চায়। চীন আরও দাবি করে, ১৯৭১ সালের জাতিসংঘের প্রস্তাব ২৭৫৮ অনুযায়ী আন্তর্জাতিকভাবে তাইওয়ান চীনের অংশ হিসেবে স্বীকৃত। তবে তাইপে সরকার বলছে, এই প্রস্তাবে তাইওয়ানের নাম বা অবস্থান নিয়ে কোনো উল্লেখ নেই। যুক্তরাষ্ট্রও বলেছে, চীন এই প্রস্তাবকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করছে।

তাইওয়ান কি ইতোমধ্যে স্বাধীন দেশ?
তাইওয়ান নিজস্ব সরকার দ্বারা পরিচালিত, নিজস্ব সেনাবাহিনী, পাসপোর্ট ও মুদ্রা রয়েছে এবং জনগণ নিজেদের নেতা নির্বাচন করে। এসব দিক থেকে এটি কার্যত একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের মতোই কাজ করছে, যদিও অধিকাংশ দেশ আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয় না।

তাইওয়ান সরকার বলছে, ‘রিপাবলিক অব চায়না’ একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং চীনের (পিপলস রিপাবলিক অব চায়না) তাইওয়ানের প্রতিনিধিত্ব করার কোনো অধিকার নেই।

তাইপে কি ‘রিপাবলিক অব তাইওয়ান’ ঘোষণা করতে পারে?
রয়টার্স জানিয়েছে, এটি করা অত্যন্ত কঠিন হবে। এর জন্য সংবিধান সংশোধন করতে হবে, সংসদে বড় ধরনের সমর্থন লাগবে এবং পরে গণভোট প্রয়োজন হবে। শুধু প্রেসিডেন্ট চাইলে এটি ঘোষণা করতে পারবেন না।

সংসদের অন্তত ৭৫ শতাংশ সদস্যের সমর্থন লাগবে। বর্তমানে শাসক দল ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টি (ডিপিপি) এবং বিরোধী কুয়োমিনতাং (কেএমটি) সমান আসন ধরে রেখেছে। ডিপিপি ২০১৬ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকলেও এখনো সংবিধান পরিবর্তনের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। কেএমটি নাম পরিবর্তনের বিরোধিতা করে।

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট কী বলেন?
চীন বর্তমান প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তেকে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ বলে আখ্যা দেয়। তিনি আগে নিজেকে ‘তাইওয়ান স্বাধীনতার কর্মী’ বলেছিলেন। তবে তিনি বলেন, তার অর্থ হলো তাইওয়ান ইতোমধ্যেই একটি স্বাধীন দেশ। ২০২৪ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি একাধিকবার বলেছেন, ‘রিপাবলিক অব চায়না’ এবং ‘পিপলস রিপাবলিক অব চায়না’ এই দুটি একে অপরের অধীন নয়। বেইজিং এটিকে স্বাধীনতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখে।

স্বাধীনতা ঠেকাতে চীনের আইন আছে কি?
২০০৫ সালে চীন ‘অ্যান্টি-সেকেশন আইন’ পাস করে, যা অনুযায়ী তাইওয়ান স্বাধীনতা ঘোষণা করলে বা শান্তিপূর্ণ পুনর্মিলনের সব সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আইনি ভিত্তি তৈরি হয়। তবে আইনটি অস্পষ্ট এবং বিস্তারিত নির্দেশনা নেই।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..