টেসলার তৈরি সাইবারট্রাকের বিক্রি আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় নিজের পকেট থেকেই তা সচল রাখার চেষ্টা করছেন কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক।
বাজার ধস ঠেকাতে গেল বছরের শেষ প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হওয়া প্রতি পাঁচটি সাইবারট্রাকের একটি কিনেছে মাস্কের নিজেরই কোম্পানি স্পেসএক্স, যা এ খাতের প্রযুক্তিগত ও ব্যবসায়িক সংকটকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট।
‘এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল মবিলিটি’র সর্বশেষ নিবন্ধনের তথ্য অনুসারে, মাস্কের মালিকানাধীন টেসলার তৈরি সাইবারট্রাকের সবচেয়ে বড় ক্রেতা তারই আরেক কোম্পানি স্পেসএক্স।
২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রিত প্রতি পাঁচটি সাইবারট্রাকের মধ্যে প্রায় একটি কিনেছে মাস্কের মহাকাশ কোম্পানিটি।
এ তথ্য প্রথম প্রকাশ করেছে মার্কিন বাণিজ্য প্রকাশনা ব্লুমবার্গ। স্পেসএক্স এসব ইলেকট্রিক ট্রাক কিনতে ১০ কোটি ডলারের বেশি খরচ করেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বাণিজ্য প্রকাশনাটি।
স্পেসএক্স টেসলার বিক্রি সচল রাখার চেষ্টা করলেও চতুর্থ প্রান্তিকে সাইবারট্রাকের বিক্রির পরিমাণ ক্রমাগত কমছে। স্পেসএক্স এ কেনাকাটা না করলে চতুর্থ প্রান্তিকে সাইবারট্রাকের নিবন্ধন প্রায় ৫১ শতাংশ কমে যেত।
এ বছরের শুরুর দিকে টেসলা বিশ্বের শীর্ষ ইলেকট্রিক গাড়ি নির্মাতার অবস্থান হারিয়েছে এবং মার্কিন এ প্রতিদ্বন্দ্বীকে টপকে গেছে চীনা ইভি জায়ান্ট বিওয়াইডি।
এক দশক ধরে প্রতি বছর বিক্রি বাড়লেও মাস্কের এ কোম্পানিটি গেল দুই বছর ধরে টানা ধসের মুখে পড়েছে। এছাড়া প্রযুক্তির উন্নয়নেও টেসলা পিছিয়ে পড়েছে, যেখানে বিওয়াইডি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কিছু অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে।
২০২৫ সালে শেনজেনভিত্তিক এ কোম্পানিটি এমন এক ব্যাটারি উন্মোচন করেছে, যা পেট্রোল ট্যাংক পূর্ণ করতে যতটুকু সময় লাগে ঠিক ততটুকু সময়েই চার্জড হতে পারে।
এ বিষয়টিকে এই শিল্পের সংশ্লিষ্টরা দীর্ঘদিন ধরে ইলেকট্রিক গাড়ির জন্য বিশেষ এক মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও ইউরোপের অন্যান্য কট্টর ডানপন্থী রাজনীতিবিদদের প্রতি মাস্কের সরব ও আর্থিক সমর্থনের কারণে টেসলা বয়কটের মুখে পড়েছে, যা কোম্পানিটির বিক্রিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
‘অ্যাক্সিওস হ্যারিস’-এর আমেরিকার ১০০টি সুপরিচিত কোম্পানির র্যাঙ্কিংয়ে ‘চরিত্র’ বিভাগে সবার শেষে এবং ‘নৈতিকতা’ ও ‘নাগরিকত্ব’ বিভাগে তালিকার একদম নিচের দিকে স্থান পেয়েছে টেসলা।
বর্তমানে, সাইবারট্রাক চরম বিতর্কিত বাহন হয়ে দাঁড়িয়েছে , যাকে সমালোচকরা বিদ্রূপ করে ‘মাগামোবাইল’ ও ‘ডেপ্লোরিয়ান’ নামে ডাকছেন।
২০২৩ সালে লঞ্চের আগে মাস্ক ভবিষ্যদ্বাণী করে বলেছিলেন, ২০২৫ সালের মধ্যে টেসলা বছরে আড়াই লাখ সাইবারট্রাক বিক্রি করবে।
তবে গত বছর প্রকৃত বিক্রির পরিমাণ ছিল ২০ হাজারের কিছু বেশি, যা ২০২৪ সালের ৩৮ হাজার ৯৬৫টির তুলনায় অনেক কম।
এ জাতীয় আরো খবর..