অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের অনুমতি ছাড়াই ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে আইনি চাপে ছিল টেক জায়ান্ট গুগল।
অবশেষে মামলাটি নিষ্পত্তিতে বড় অংকের অর্থ পরিশোধে সম্মত হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ‘টেইলর বনাম গুগল এলএলসি’ শীর্ষক একটি যৌথ মামলায় গত জানুয়ারিতে গুগল ১৩ কোটি ৫০ লাখ ডলারের একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছে। খবর সিনেট।
কয়েক বছর ধরে গুগলের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল কোম্পানিটি ব্যবহারকারীদের সম্মতি ছাড়াই অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস থেকে তথ্য সংগ্রহ বা ‘হার্ভেস্টিং’ করছে। যদিও গুগল আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের কোনো দোষ স্বীকার করেনি, তবে আইনি জটিলতা এড়াতে তারা এ বিপুল পরিমাণ অর্থ দিতে সম্মত হয়েছে। এর আগে ক্যালিফোর্নিয়ায় একই ধরনের একটি মামলায় ৩১ কোটি ৪০ লাখ ডলার দিতে হয়েছিল গুগলকে।
বর্তমান মামলার চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আগামী ২৩ জুন আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। আদালত এ সমঝোতাকে ন্যায়সংগত মনে করে অনুমোদন দিলে অর্থ বিতরণের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমঝোতার অর্থ পেতে হলে একজন ব্যবহারকারীকে চারটি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে। এক. আবেদনকারীকে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত একজন ব্যক্তি হতে হবে। দুই. তাকে সেলুলার ডেটা প্ল্যানসহ একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ডিভাইস ব্যবহার করতে হবে। তিন. ২০১৭ সালের ১২ নভেম্বর থেকে শুরু করে আদালতের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার দিন পর্যন্ত যেকোনো সময়ে ডিভাইসটি ব্যবহার করে থাকতে হবে এবং আবেদনকারীকে ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দাদের জন্য নির্ধারিত ‘সুপো বনাম গুগল এলএলসি’ মামলার সদস্য হওয়া চলবে না।
এছাড়া আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি গুগলকে গুগল প্লে সার্ভিসের শর্তাবলিতেও পরিবর্তন আনতে হবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, গুগলকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে ডিভাইস ব্যবহারের বাইরে থাকলেও কিছু ডেটা ট্রান্সফার হতে পারে এবং ওয়াই-ফাই না থাকলে সেলুলার ডেটা ব্যবহার করা হতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ব্যবহারকারী যদি ‘অ্যালাউ ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটা ইউজ’ অপশনটি বন্ধ করে রাখেন, তবে গুগল আর কোনো তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে না। ডিভাইস সেটআপ করার সময় এখন থেকে ব্যবহারকারীদের সম্মতি নেয়া বাধ্যতামূলক করেছে সংশ্লিষ্ট আদালত ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ।
এ জাতীয় আরো খবর..