বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি পাঁচ বার নির্বাচন করে তিন বার জয়ী হয়েছেন। এবার তিনি এমপি হওয়ার পাশাপাশি পেয়েছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব। এতে তার এলাকায় বইছে খুশির জোয়ার, মিষ্টি বিতরণ করে এ অর্জনকে উদযাপন করছেন বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শাহবাজ মাহমুদ চৌধুরী জিদান এবং রায়পুর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মাহফুজুর রহমান রিদয় পৃথকভাবে নেতাকর্মীদের নিয়ে শহরের জনসাধারণের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করেন। রাতে বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা শহরের উপকণ্ঠে মিষ্টি বিতরণ করেন।
ছাত্রদল নেতা জিদান চৌধুরী ও মাহফুজুর রহমান রিদয় বলেন, ‘এ্যানি লক্ষ্মীপুরের গর্ব। ছাত্র রাজনীতি থেকে তিনি সরকারের একজন মন্ত্রী। এ গৌরব শুধু বিএনপির নয়, লক্ষ্মীপুরসহ পুরো দেশের। তার হাত ধরে লক্ষ্মীপুরের উন্নয়ন হবে। তিনি কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক জোন হিসেবে লক্ষ্মীপুরকে ঢেলে সাজাবেন বলে আমরা আশাবাদী।’
দলীয় সূত্র জানায়, এ্যানি লক্ষ্মীপুর-৩ আসন থেকে ২০০১ সালে প্রথম ও ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বিতীয়বার বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ১ লাখ ৩৫ হাজার ৬১২ ভোট পেয়ে একই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
জানা যায়, ১৯৮০ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান লক্ষ্মীপুরে মূসার খাল খনন কর্মসূচিতে এসেছিলেন। তখন স্কুলজীবনেই এ্যানি চৌধুরী ছাত্রদলের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। ১৯৮৩ সালে তিনি ঢাকা তেজগাঁও কলেজ ছাত্রদলের সদস্য হন। পরে সরকারি বিজ্ঞান কলেজে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
১৯৮৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল ছাত্রদলের সদস্য, ১৯৮৭ সালে ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, ১৯৮৮ সালে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৮৯ সালে তিনি জিয়াউর রহমান হল ছাত্র সংসদের জিএস নির্বাচিত হন।
১৯৯০ সালে তিনি সর্বোচ্চ ভোটে ডাকসুর সদস্য নির্বাচিত হন এবং তিন বার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটে ডাকসুর ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করেন। ১৯৯২ সালে তিনি ডাকসুর ভারপ্রাপ্ত ভিপি ও ভারপ্রাপ্ত সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯২ সালে তিনি ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৯৩ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও ১৯৯৩-৯৬ সাল পর্যন্ত কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বপালন করেন। ১৯৯৬-৯৮ সালে তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৯ সালে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন।
জানা গেছে, অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি হয়ে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি এবং ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি হয়ে তিনি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি এবং বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালে তিনি বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০১৬ সালে তাকে বিএনপির প্রচার সম্পাদক করা হয়। তিনি বিএনপির ত্রাণ ও পুনর্বাসন কমিটির সমন্বয়ক, বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য সচিব এবং লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন।
২০০১-০৮ সাল পর্যন্ত তিনি সর্বদলীয় সংসদীয় গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০১০ সালে তিনি এ দলের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সভায় প্রতিনিধিত্ব করেন। ২০১৩ সালে জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এ্যানি।
এ জাতীয় আরো খবর..