✕

সর্বশেষ :
জার্মানিতে বিপজ্জনক ছায়াযুদ্ধের শঙ্কা রাহুল গান্ধীর আবেদনে ১৪ ত্রুটি ধরল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বাংলাদেশ-ইউএই যৌথ উদ্যোগে কক্সবাজারে সুপেয় পানি প্রকল্পের প্রস্তাব দিলেন এলজিআরডি মন্ত্রী মেহেরপুরে বাসের ধাক্কায় ভ্যানচালক নিহত পাকিস্তান সিরিজে শ্রীলঙ্কার টেস্ট দল ঘোষণা, অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস আরব আমিরাতে শ্রমবাজার ও নতুন সুযোগের সম্ভাবনা নিয়ে মাহ্দী আমিন-রাষ্ট্রদূতের বৈঠক কুমিল্লায় সকালে হাঁটতে বেরিয়ে গাড়িচাপায় স্বামী ও স্ত্রী নিহত কাদের মির্জা ও তার স্ত্রী-ছেলের বিরুদ্ধে দুদকের ৩ মামলা অবিবাহিতদের সবচেয়ে বেশি রাগিয়ে দেয় যেসব কথা দুর্গাপূজায় নৌপথে নিরাপত্তায় ১৬ নির্দেশনা

‘সাউন্ড বাইট’ থেকে ‘মোর জাম্প’- প্রথমদিনে মন্ত্রীরা যা বললেন

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির (বাঁ থেকে), শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বকুল ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। কোলাজ

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০২-১৮, | ২২:০০:৫৭ |
শপথগ্রহণের পরদিন আজ বুধবার সকালে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়েছিলেন নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সঙ্গে ছিলেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিকেলে সচিবালয়ে তারা যোগ দেন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে।

বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া ওই বৈঠকের মাধ্যমে সচিবালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেন তারেক রহমান। আজকের বৈঠকটি ছিল মূলত পরিচিতিমূলক সভা। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তাঁর দলের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দেশ পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে দিক নির্দেশনা দিয়েছেন।


ওই বৈঠকের পর মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা নিজ নিজ দপ্তরে যান। পরে নিজেদের প্রথমদিনের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে ব্রিফ করেন সাংবাদিকদের।

নির্বাচনে বিএনপির জয়ের পরপরই বিশ্লেষকদের মতামতে উঠে আসে, বাজার ও আর্থিক খাত নিয়ে নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জের কথা। এরই মধ্যে প্রথম চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে এসেছে রমজান মাসের বাজার পরিস্থিতি। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরও বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন।


টক লেবু, ‘সাউন্ড বাইট’, বাণিজ্যমন্ত্রী
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও বাজার পরিস্থিতি নিয়ে আশ্বস্ত করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, রমজান ও পরবর্তী সময়ে বাজার স্থিতিশীল রাখতে দেশে পর্যাপ্ত মজুত আছে। তিনি দাবি করেন, ‘পাইপলাইন’ ও দৈনন্দিন চাহিদা মেটানোর জন্য যে পরিমাণ পণ্য মজুত আছে তা রমজান মাস এবং পরবর্তী সময়ের বাজার স্থিতিশীল রাখার জন্য যথেষ্ট। এ বিষয়ে কারও কোনো শঙ্কার কারণ নেই।

কিন্তু বাজারের চিত্র ভিন্ন কিছু বলছে।  রোজা সামনে রেখে নিত্যপণ্যের বাজারে সেই পুরনো চিত্রই দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে অস্বাভাবিক দাম বেড়েছে ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গ বেগুন, লেবু ও কলার। দাম বাড়ার তালিকায় আছে শসা, কাঁচামরিচসহ আরও কয়েকটি পণ্য। শুধু রাজধানী নয়, এমন চিত্র অন্য জেলা শহরের বাজারেও।

মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, হাতিরপুলসহ কয়েকটি বাজারে প্রতি কেজি শসা বিক্রি হয় ৯০ থেকে ১০০ টাকায়। যা দুদিন আগে ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকা। এছাড়া, কেজিতে ৩০ থেকে ৫০ টাকা বেড়ে বেগুন বিক্রি হয় ১০০ থেকে ১৫০ টাকায়। বিক্রেতারা গোল বেগুন ১০০ এবং লম্বা বেগুন ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি করেন। সপ্তাহখানেক আগে এ বেগুনের কেজি ছিল ৬০ থেকে ৭০ টাকা। 

এছাড়া, কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে কাঁচামরিচ বিক্রি হয় ১৪০ থেকে ১৮০ টাকায়। কাঁচা পেঁপের কেজি ৮০ থেকে ১২০ ও উচ্ছে প্রতিকেজি ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হয়। এক সপ্তাহ আগে এই দুটি সবজি অন্তত ২০ থেকে ৩০ টাকা কমে কেনা গেছে। গত সপ্তাহের চেয়ে বাজারে লেবুর সরবরাহ বাড়লেও দর কমেনি। এখনও মাঝারি আকারের প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। 

ক্রেতাদের অভিযোগ, গত বছর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার শুরুতেই ব্যবসায়ীরা পুরনো কৌশল খুঁজছেন। নির্বাচনের কারণে যথাযথ বাজার তদারকি না থাকায় এ অবস্থা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। নতুন সরকার দ্রুত বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। আর বিক্রেতাদের দাবি, চাহিদা অনুযায়ী কিছু পণ্যের সরবরাহে টান আছে। যার প্রভাব পড়েছে দামে। 

রমজান এলে বাজার সিন্ডিকেটের বিষয়টিও সামনে আসে। বিষয়টি নিয়ে নতুন বাণিজ্যমন্ত্রী তাঁর প্রথম কর্মদিবসে বলেছেন, ‘আমি আপনাদের সাউন্ড বাইট দেব না। ইনশাআল্লাহ কাজ করে দেখাব।’

যত কম লোডশেডিং
নির্বাচনের ঠিক দুইদিন আগে রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র মালিকদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন’। তখন রমজান ও গ্রীষ্ম মৌসুম ঘিরে ব্যাপক লোডশেডিংয়ের আশঙ্কা করা হয়।

কারণ হিসেবে অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা বলেছিলেন, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) কাছে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক দেশীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর বকেয়া পাওনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। ফার্নেস অয়েলচালিত ৪০টি বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা পাওনা জমেছে বিপিডিবির কাছে। একেকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৮ থেকে ১০ মাসের বিল বকেয়া পড়েছে। সময়মতো বিল পরিশোধ না করায় ডলারের বিনিময় হার ও সুদের কারণে ৮ হাজার কোটি টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে। দ্রুত বকেয়া শোধ করা না হলে জ্বালানি সংকট দেখা দিতে পারে।

রমজানের ঠিক আগেরদিন দায়িত্ব নেওয়া বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর কাছেও এ বিষয়ে প্রশ্ন করেছিলেন সাংবাদিকরা। জবাবে নতুন মন্ত্রী বলেছেন, ‘এমন একটা খাতে আর এমন একটা সময়ে আসছি; কাল থেকেই রোজা শুরু হবে। বিদ্যুৎ ছাড়া কিছুই হয় না। রোজায় যত কম সম্ভব লোডশেডিং দিব, কারিগরি কারণে যেটা হয় সেটা আলাদা বিষয়।’

আর বকেয়া পরিশোধের বিষয়ে মন্ত্রী বলেছেন, তাড়াহুড়া না করে সরকারকে সময় দিতে হবে।

‘মোর মোর জাম্প’
মঙ্গলবার সংসদ ভবনের প্রবেশের সময় এহছানুল হক মিলনের জাম্পের একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বুধবার শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে সাংবাদিকদের প্রথমবার ব্রিফিংয়ের সময়ও ‘জাম্প’ প্রসঙ্গ ওঠে। তবে এবারের জাম্পটি শিক্ষাখাত সংশ্লিষ্ট।

মন্ত্রী নিজেই বলেছেন, শিক্ষা খাতে শুধু ‘হাই জাম্প’ দিলেই হবে না, দিতে হবে ‘মোর মোর জাম্প’।

২০২৪ সালের শুরু থেকে শিক্ষাখাত আলোচনার জন্ম দিয়েছিল শিক্ষাক্রম পরিবর্তন নিয়ে। গত বছরের জুনে তৎকালীন উপদেষ্টা সি আর আবরার ঘোষণা দিয়েছিলেন, ২০২৭ সাল থেকে মাধ্যমিকে নতুন শিক্ষাক্রম চালু হবে। প্রথম বছর ষষ্ঠ শ্রেণিতে, এরপর পর্যায়ক্রমে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত নতুন বা পরিমার্জিত শিক্ষাক্রম চালু করা হবে। বুধবার নতুন শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, শিক্ষাক্রম পরিবর্তন নয়, রিভিউ করা হবে।

বাসসের তথ্য অনুযায়ী, এহছানুল হক মিলন ১৭ বছরে শিক্ষা খাতের স্থবিরতা ও অনিয়ম দূর করে আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত কারিকুলাম প্রণয়নে কাজ করতে চেয়েছেন। বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ন্যানো টেকনোলজি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মতো আধুনিক প্রযুক্তিগুলো শিক্ষার মূল ধারায় যুক্ত করতে চেয়েছেন।

‘স্বাস্থ্যে সিন্ডিকেট চলবে না’
দেশের স্বাস্থ্যখাতে বহুল বিতর্কিত বিষয় ‘সিন্ডিকেট’। নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল এ নিয়ে বলেছেন, দুর্নীতিমুক্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গড়াই তাঁর প্রধান অগ্রাধিকার। 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট চলবে না। এই মন্ত্রণালয়ে কোনো দুর্নীতি হতে পারবে না। কারও চাপে কোনো কাজ হবে না। তিনি মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন।

জনবল সংকটের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যখাতে জনবল ঘাটতি আছে কিনা, তা যাচাই করা হবে। প্রয়োজন হলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। চিকিৎসকদের সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ডাক্তারদের সকাল ৯টার অফিসে ১২টায় গেলে চলবে না। সাতদিনের মধ্যে তিনি দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শন শুরু করবেন। এক মাসের মধ্যে চিকিৎসকদের নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

স্বাস্থ্যখাত নিয়ে দেশের মানুষের মধ্যে আস্থাহীনতা আছে স্বীকার করে সাংবাদিকদের মন্ত্রী বলেন, এটি দূর করতে হবে। চিকিৎসার মান বাড়াতে পারলে মন্ত্রী-এমপিসহ সাধারণ মানুষের বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার প্রবণতা কমবে। তিনি নিজেও চিকিৎসার ক্ষেত্রেও দেশীয় ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে চান। 

অন্যরা যা বললেন
অন্যদের মধ্যে বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ‘এক নম্বর’ কাজ হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের কথা উল্লেখ করেছেন। দেশকে ‘পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি’ থেকে বেরিয়ে এসে অর্থনীতির ‘গণতন্ত্রীকরণের’ কথা বলেছেন।

জেলা, উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভায় জনপ্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে যত দ্রুত সম্ভব স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

বিচারক মানেই সৎ উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেছেন, ‘যাদের মনে হবে চাকরির টাকায় সংসার চলে না, এই টাকায় পোষাবে না, তাদের চাকরি করার দরকার নেই। তারা ওকালতি করুক, কারণ তাদের অবসরের পরে ওকালতি করার সুযোগ থাকে। এটা আমার কমন মেসেজ।’

আর তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন আশ্বস্ত করেছেন; দেশে একটি ভয়মুক্ত গণমাধ্যমের পরিবেশ তৈরি করা হবে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..