সর্বশেষ :
ইরানি জাহাজ আটকের জেরে ইসলামাবাদ বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার শঙ্কা: আল জাজিরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক এখন দুর্বলতা : কানাডার প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক জাহাজ লক্ষ্য করে ইরানের ড্রোন হামলা যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে ইরানি জাহাজ আটক, নিন্দা জানাল চীন জাপানে ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা জারি ইউরেনিয়াম আমাদের মাটির মতোই পবিত্র : ইসমাইল বাঘাই ফের ক্লাস্টার বোমাযুক্ত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া সালমানের সিনেমায় ছিল আন্ডারওয়ার্ল্ডের যোগসূত্র হাজার গোল থেকে আর মাত্র ৩১ ধাপ দূরে রোনালদো হাম ও হামের উপসর্গে দেশে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

ট্রাম্পের মন্তব্যে ‘ঘুম উড়ে গেছে’ ইউরোপের!

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৪-০২-১৩, | ০৩:২৪:৪৮ |

গত শনিবার ট্রাম্প সাউথ ক্যারোলিনায় প্রচারসভায় বলেছেন, ‘ন্যাটোর শরিক দেশগুলি যদি তারা তাদের ভাগের অর্থ না দেয়, তাহলে তিনি যা খুশি করার জন্য রাশিয়াকে উৎসাহিত করবেন।’ ট্রাম্পের এই মন্তব্যে ইউরোপের দেশগুলির মধ্যে আতঙ্কের স্রোত বয়ে গেছে। কারণ, ট্রাম্পের আগামী নির্বাচনে জেতার একটা সম্ভবনা আছে।

এদিকে ন্যাটোর সেক্রেটারি জেনারেল স্টলটেনবার্গ বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, ‘ন্যাটোর শরিকদের নিয়ে ট্রাম্প যা বলেছেন, তার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর শরিক দেশের উপর সমানভাবে পড়বে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় সেনার ঝুঁকি বেড়ে যাবে।’

ইইউ-র পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান জোসেপ বরেল বলেছেন, ‘ন্যাটো কখনই এমন কোনো সামরিক জোট নয়, যা মার্কিন প্রেসিডেন্টের রসিকতার উপর নির্ভর করে।’ এটাই ছিল ট্রাম্পের বক্তব্যের উপর বরেলের প্রতিক্রিয়া।

ট্রাম্পের হুমকি ও ন্যাটো

প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন ন্যাটো থেকে সরে আসার হুমকি অনেকবার দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি একাধিকবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যে তাদের সুরক্ষা দিচ্ছে, তার জন্য ইউরোপকে অর্থ দিতে হবে। এর ফলে ন্যাটোর চুক্তির বহুআলোচিত পাঁচ নম্বর অনুচ্ছেদ পালন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ন্যাটোর কোনো একটি দেশ যদি আক্রান্ত হয়, তাহলে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র সেই আক্রমণকে নিজেদের উপর আক্রমণ হিসাবে দেখবে এবং তা প্রতিহত করবে।

ঘটনা হলো, ট্রাম্প আবার ন্যাটো নিয়ে সেই বিতর্কিত কথা বললেন। কূনীতিকদের মতে, প্রচারে নেমে এই কথা বলাটা খুবই উদ্বেগজনক। ন্যাটোর অনেক শরিক দেশই মনে করে, ট্রাম্প যদি আবার জিতে আসতে পারেন, তাহলে তিনি আগেরবারের থেকে অনেক বেশি করে শক্ত হাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে চাইবেন।

ব্রাসেলসের ইনস্টিটিউট ফর ইউরোপীয়ান স্টাডিজের এলিসন উডওয়ার্ড বলেছেন, ‘গতবার ট্রাম্প যখন প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তখন ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি আলোড়ন দেখা গিয়েছিল। একটা নাটকীয় পরিবর্তন দেখা দিয়েছিল। তাই যদি ট্রাম্প আবার ক্ষমতায় আসেন, তাহলে কী হবে, ইউরোপের দেশগুলির এই চিন্তা হওয়াটা স্বাভাবিক।’

ন্যাটোর সংকটের সময়

ট্রাম্পের এই হুমকি এমন একটা সময়ে এসেছে, যখন ইউক্রেনে রাশিয়া আরো তীব্র আক্রমণ করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে, যখন কিয়েভের জন্য নতুন প্যাকেজে সায় দেয়নি মার্কিন কংগ্রেস, যখন ইউরোপের দেশগুলি তাদের অস্ত্রের উৎপাদন বাড়াতে হিমশিম খাচ্ছে।

মার্কিন থিংক ট্যাংক জার্মান মার্শাল ফান্ড ইস্ট-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর মিশেল বারানওস্কি বলেছেন, ‘ট্রাম্পের মন্তব্য থেকে এই সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যাচ্ছে যে, তিনি ক্ষমতায় এলে রাশিয়া ন্যাটোর শক্তি পরীক্ষা করবে।’

তিনি বলেছেন, ‘ট্রাম্পের মন্তব্য ইউরোপের সুরক্ষা নিয়ে চিন্তা বাড়িয়েছে। ইউরোপের কোনো দেশের উপর আক্রমণ হলে যুক্তরাষ্ট্র পাশে দাঁড়াবে কিনা, সেই চিন্তা স্বাভাবিকভাবেই দেখা দিয়েছে।’

ব্রাসেলসের কূটনীতিকদের মুখেও একই চিন্তার কথা শোনা যাচ্ছে। তারা ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় জানাচ্ছেন, ট্রাম্পের মন্তব্যের ফলে এই সামরিক জোটের যা ক্ষতি হওয়ার তা হয়ে গেছে। ট্রাম্প যা বলেছেন তা হেঁয়ালির মতো। কারণ, ইউরোপের দেশগুলির সামনে এমন কোনো বিল নেই, যা তাদের ভরতে হবে।

প্রতিরক্ষাখাতে খরচ না করা

ট্রাম্পের মন্তব্যের অর্থ হলো, ইউরোপের দেশগুলি তাদের প্রতিশ্রুতিমতো জিডিপি-র দুই শতাংশ অর্থ প্রতিরক্ষাখাতে খরচ করছে না। ২০১৪ সালে ওয়েলসে ন্যাটো শীর্ষবৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল।

জার্মানি সম্ভবত এই বছর তাদের লক্ষ্যমাত্রা পূর্ণ করতে পারবে। সেটাও ১০ হাজার কোটি ইউরোর বিশেষ তহবিলের জন্য। রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করার পর ওই তহবিল তৈরি করা হয়।

তাই বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের কথার মধ্যেও যুক্তি আছে। এস্তোনিয়ার প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘ট্রাম্পের কথায় ইউরোপের কিছু দেশের ঘুম ভাঙবে।’

সূত্র: ডয়েচে ভেলে

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..