✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-২০, | ১৪:৩৬:৫০ |বগুড়ায় নিজের মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে এক ব্যক্তিকে (৫১) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় বগুড়া শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. মারুফ হোসেন এই রায় দেন। একই সঙ্গে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ওই ব্যক্তি শেরপুর উপজেলার বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, আদালত প্রতিষ্ঠার পর বগুড়ার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে এটিই প্রথম রায় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। শিশুদের প্রতি সহিংসতার মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য চলতি বছরের জানুয়ারিতে আদালতটি প্রতিষ্ঠা করা হয়।
জানা যায়, ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বাড়িতে অন্য কেউ না থাকার সুযোগে ওই ব্যক্তি তার ৯ বছর বয়সী মেয়েকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। বিষয়টি কাউকে জানালে মেয়েকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। ওই ঘটনার পর শিশুটির আচরণে পরিবর্তন দেখা যায়। সে বাড়ির কাজ করা বন্ধ করে দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তার সৎমা তাকে মারধর করতে থাকেন। একপর্যায়ে শিশুটি সৎমাকে বাবার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগের কথা জানায়। তবে তিনি বিষয়টি বিশ্বাস না করে শিশুটির ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেন। পরে নির্যাতন থেকে মুক্তি পেতে শিশুটি তার দুই সহপাঠীকে বিষয়টি জানায়। তাদের কাছ থেকে ঘটনা জানতে পেরে স্থানীয় বাসিন্দারা থানায় অভিযোগ করেন। এরপর ভুক্তভোগীর মা (আসামির দ্বিতীয় স্ত্রী) ২০২০ সালের ৩১ অক্টোবর স্বামীর বিরুদ্ধে শেরপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানির পর বৃহস্পতিবার আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট আলী আসগর বলেন, মামলার তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন শেষে আদালত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আজকের এই রায় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। পরবর্তীতে কোনো বাবা বা অন্যরা যেন মেয়েদের ওপর এমন ঘটনা না ঘটাতে পারে।