সর্বশেষ :
উৎপাদন বাড়াতে সপ্তাহে শতাধিক কর্মী নিচ্ছে বোয়িং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জেরে নিশানের গাড়ি বিক্রি নেমেছে অর্ধেকে টু সিটার ইভি আনছে রোলস রয়েস বাজারে আসবে মাত্র ১০০ গাড়ি যুক্তরাষ্ট্রের মেইনে নিষিদ্ধ হচ্ছে বড় ডেটা সেন্টার ভিয়েতনামে চালু হচ্ছে ভিনগ্রুপের প্রথম আন্তঃনগর বুলেট ট্রেন চীনে আইফোনের সরবরাহ বেড়েছে ২০ শতাংশ জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিক চীনের জিডিপি বেড়েছে ৫% ডেটা সেন্টারের চাহিদা মেটাতে পারমাণবিক বিদ্যুতে বিনিয়োগ টেক জায়ান্টদের ময়মনসিংহ মেডিকেলে ছাত্রদলের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ, ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি উৎপাদন পুনরুদ্ধারে দুই বছর লাগবে: আইইএ

আইইএর প্রতিবেদন

মার্চে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে রেকর্ড উল্লম্ফন

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৪-১৮, | ১২:৩১:৩৬ |
পশ্চিম এশিয়ার চলমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সরবরাহ সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম চলতি বছরের মার্চে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) জানিয়েছে, বিশ্ব বর্তমানে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ জ্বালানি তেল সরবরাহ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে শোধনাগারগুলো বিকল্প তেলের উৎসের খোঁজে মরিয়া হয়ে ওঠায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম মার্চে ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছিল। খবর দ্য হিন্দু বিজনেসলাইন।

আইইএর এপ্রিলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের সরবরাহ প্রতিদিন ১ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল কমে গেছে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে দৈনিক জ্বালানি তেলের সরবরাহ দাঁড়িয়েছে মাত্র ৯ কোটি ৭০ লাখ ব্যারেলে। পশ্চিম এশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় ক্রমাগত হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকার চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। সংস্থাটি এ পরিস্থিতিকে ইতিহাসের বৃহত্তম সরবরাহ বিপর্যয় হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

বিভিন্ন দেশের তেল শোধনাগারগুলো এখন পশ্চিম এশিয়ার জ্বালানি তেলের বিকল্প খুঁজতে হিমশিম খাচ্ছে। বাজারে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল না থাকায় প্রতিযোগিতা বেড়েছে এবং দাম নিয়ন্ত্রণে রাখাও অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বর্তমানে নর্থ সি ডেটেড ক্রুড বা অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৩০ ডলারে লেনদেন হচ্ছে, যা সংঘাত শুরু হওয়ার আগের তুলনায় অন্তত ৬০ ডলার বেশি। শুধু অপরিশোধিত জ্বালানি তেলই নয়, পরিশোধিত জ্বালানি পণ্যের দামও অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। সিঙ্গাপুরের বাজারে ডিজেল ও সমজাতীয় জ্বালানির দাম ব্যারেলপ্রতি ২৯০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা একটি নতুন বিশ্ব রেকর্ড।

জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর জন্য এ পরিস্থিতি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে যেসব দেশ জ্বালানির জন্য সরাসরি মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল, তাদের অর্থনীতিতে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। অনেক দেশ বাধ্য হয়ে উচ্চমূল্যে জ্বালানি তেল কিনছে। ফলে তাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে টান পড়ছে এবং মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। বিকল্প উৎস থেকে তেল সংগ্রহের চেষ্টা চললেও সামগ্রিক সরবরাহ কমে যাওয়ায় এ প্রচেষ্টা খুব একটা ফলপ্রসূ হচ্ছে না।

সম্প্রতি দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা কিছুটা স্বস্তি দিলেও তা স্থায়ী কোনো সমাধান আনতে পারেনি। আইইএ জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির ফলে বাজারে সাময়িক স্থিতিশীলতা এলেও হরমুজ প্রণালিতে নিয়মিত জাহাজ চলাচল শুরু হবে কিনা, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। দীর্ঘস্থায়ী শান্তির কোনো নিশ্চয়তা না থাকায় বাজার বিশ্লেষকরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

এদিকে ইরানের বন্দরগুলোয় মার্কিন অবরোধ পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জির বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এ অবরোধ ইরানের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিতে পারে। আর যদি তা হয় তাহলে দেশটি আরো কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে। ইরান এরই মধ্যে হুমকি দিয়েছে, তাদের জাহাজের ওপর কোনো ধরনের হুমকি এলে তারা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য বন্দরগুলোয় হামলা চালাবে। ফলে জ্বালানি ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বের সব দেশ এখন পশ্চিম এশিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে। হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণের ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনগুলোয় জ্বালানি তেলের বাজারদর। এ সংকটের সমাধান না হলে বিশ্ব অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদি মন্দার মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ওমান সাগর ও পারস্য উপসাগরীয় এ উত্তেজনা প্রশমিত না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববাসীকে উচ্চমূল্যেই জ্বালানি ব্যবহার করতে হতে পারে বলে ধারণা করছেন আইইএর বিশেষজ্ঞরা।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..