✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-১৯, | ০১:১৭:২৪ |অর্থই জীবনের সবকিছু নয়। আবার অর্থ ছাড়া চলেও না। প্রতিদিনের আয় ব্যয়ের সাথে বিনিয়োগের ভাবনাটাও আপনার মাথায় রাখা জরুরি। কর্মক্ষম সময়ে আপনি দিনরাত পরিশ্রম করে অর্থ উপার্জন করলেন, সেই অর্থে বিলাসী জীবনযাপন করলেন। কিন্তু অবসরে গিয়ে দেখলেন আপনার ভান্ডার শূন্য, তখন কিন্তু আপনি ভীষণ ভীষণ বিপদে পড়বেন।
ভারতের মিরা অ্যাসেট ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজারস-এর ভাইস চেয়ারম্যান এবং সিইও স্বরূপ মহান্তি ৩৫ বছর বয়সেও যারা বিনিয়োগ শুরু করেননি, তাদের জন্য এই কঠোর বার্তা দিয়েছেন। ভারতের অন্যতম শীর্ষ এই বিনিয়োগ ব্যবস্থাপক বলেছেন, ’আপনার বেতন একদিন বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু আপনার চিকিৎসার খরচ বন্ধ হবে না। এবং আপনি আপনার জীবনের শেষ বছরগুলো অর্থহীন অবস্থায় কাটাতে পারেন।’
তিনি বলেন, ’চাকরিজীবী পেশাদারদের অবশ্যই এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে যে, তাদের নিয়মিত আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও তারা কয়েক দশক বেঁচে থাকতে পারেন।
একটি পডকাস্টে মহান্তি বলেন, ‘৩৫ বছর বয়সে একজন ব্যক্তিকে উপলব্ধি করতে হবে যে তিনি অনেক দিন বাঁচবেন। কোনো এক সময়ে, একজন চাকরিজীবী মানুষের নিয়মিত আয় বন্ধ হয়ে যাবে। তখন আপনার কাছে কত টাকা আছে তার ওপর ভিত্তি করেই আপনাকে বাকি জীবন কাটাতে হবে।’ যিনি সময়মত বিনিয়োগ করতে ব্যর্থ হয়েছেন, তার জন্য তিনি সেই ভবিষ্যৎকে একটি ’ভীষণ, ভীষণ ভীতিজনক পরিস্থিতি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
মহান্তি বলেন, ’সেই সময়ে আপনার একমাত্র বন্ধু হবে টাকা। আপনি যা কিছু করতে চাইবেন, সবই টাকা দ্বারা নির্ধারিত হবে। আপনি যদি ৩৫ বছর বয়সে এসেও এটি উপলব্ধি করতে না পারেন, তবে আপনি ইতিমধ্যেই নিজের প্রতি অনেক বড় অবিচার করে ফেলেছেন।’ দেরি করার খেসারত অনেক বড় হতে পারে ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ’একজন দেরিতে শুরু করা বিনিয়োগকারী চক্রবৃদ্ধি মুনাফার বহু বছর হারিয়ে ফেলেন।’
ব্যাখ্যা করে মহান্তি বলেন, ’ধরুন আপনি ১০ কোটি টাকা উপার্জন করতে চান এবং যদি ২০ বছর বয়সে শুরু করেন, তবে ১২ শতাংশ হারে আপনাকে প্রতি মাসে ১০ থেকে ২০ হাজার রুপি বিনিয়োগ বিনিয়োগ করতে হবে। কিন্তু আপনি যদি সেটি ৪০ বছর বয়সে শুরু করেন, তবে সম্ভবত আপনাকে প্রতি মাসে প্রায় ২ লাখ টাকা বা এই জাতীয় কিছু বিনিয়োগ করতে হবে।’ তিনি বলেন, ’এটিই সেই সুযোগের মূল্য, যা ইতিমধ্যেই আপনার হাতছাড়া হয়ে গেছে।’ মহান্তি বলেন, ‘৩৫ বছর বয়সেও আপনার অবস্থা খুব খারাপ নয়। আপনি শুরু করতে পারেন। তবে টাকার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আপনি আপনার বার্ধক্যের প্রতি সবচেয়ে বড় যে অবিচারটি করবেন, তা হলো গতকালের মধ্যেই বিনিয়োগ শুরু না করা।’
মহান্তি বলেন, ’একটি ভালো চিকিৎসা বীমা না থাকা আরেকটি বড় ভুল। কারণ আপনার স্বাস্থ্য অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং স্বাস্থ্যসেবা দিন দিন ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে। একজন ভালো আর্থিক পরিকল্পনাকারীর সাহায্য নিন। এমনভাবে বিনিয়োগ শুরু করুন যেন আগামীকাল বলে কিছু নেই, কারণ এটাই আপনার এই মুহূর্তের জরুরি প্রয়োজন।’
শুধু বিনিয়োগ করাই নয়, প্রয়োজনের সময় হিসাব করে অর্থ খরচ করতে পারাটাও জরুরি। খরচের ব্যাখ্যা দিয়েছেন রিটায়ারমেন্ট স্ট্র্যাটেজিস্ট মিলিন্দ দেওগাঁওকর। তিনি বলেন, একজন ব্যক্তি একটি বড় অঙ্কের তহবিল গড়ে তোলার পরও এই উদ্বেগ পুরোপুরি দূর নাও হতে পারে। অনেক অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি টাকা খরচ করতে ভয় পান। কারণ তারা জানেন না যে তাদের সঞ্চয় শেষ না করে ঠিক কতটুকু টাকা তারা নিরাপদভাবে তুলতে পারবেন। তিনি বলেন, এই অনিশ্চয়তার কারণে অনেকে টাকা থাকা পরও ভ্রমণ বাতিল করেন, তুলনামূলক ছোট ঘর বেছে নেন এবং এমনকি স্বাস্থ্য পরীক্ষাও পিছিয়ে দেন।
দেওগাঁওকরের অনুমান অনুযায়ী, ৬ থেকে ৭ শতাংশ সাধারণ মূল্যস্ফীতি এবং ১২ থেকে ১৪ শতাংশ চিকিৎসা খাতের মূল্যস্ফীতির কারণে, একজন প্রথাগত ভারতীয় অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে তাদের ব্যক্তিগত পরিস্থিতি এবং সম্পদ বণ্টনের ওপর ভিত্তি করে বার্ষিক টাকা তোলার পরিমাণ আড়াই থেকে সাড়ে ৩ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হতে পারে। ৩ শতংশ হারে টাকা তোলার নিয়ম অনুযায়ী, ২ কোটি টাকার একটি তহবিল থেকে প্রতি মাসে ৬০ হাজার রুপি টাকা পাওয়া যাবে। আর ৩ কোটি টাকার তহবিল থেকে পাওয়া যাবে প্রতি মাসে ৯০ হাজার রুপি। তিনি মেট্রো সিটি বা বড় শহরে বসবাসকারী এবং বেসরকারি হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল একজন অবসরপ্রাপ্ত দম্পতির জন্য ৩৫ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকার একটি পৃথক স্বাস্থ্যসেবা বা জরুরি তহবিল রাখার পরামর্শ দেন। এটি না থাকলে, একবার বড় ধরনের হাসপাতালে ভর্তির খরচ মেটাতে গিয়ে একটি পরিবারকে ভুল সময়ে তাদের মূল অবসরকালীন তহবিল ভাঙতে বাধ্য হতে হবে। দেওগাঁওকর বলেন, ‘অবসর জীবনের কাছাকাছি পৌঁছানো অধিকাংশ মানুষই ৩০ বছর ধরে শুধু কীভাবে টাকা জমাতে হয় তা শিখেছেন। কিন্তু কীভাবে সেই টাকা তুলতে হয়, তা শেখার পেছনে তারা প্রায় কোনো সময়ই দেননি।’
স্বরূপ মহান্তি জোর দিয়ে বলেন যে, তার এই সতর্কবার্তা কোনো আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা নয়। তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের ভয় দেখাচ্ছি না। আমি একটি নির্মম সত্য আপনাদের সামনে তুলে ধরছি। আপনি যদি ৯৫ বছর বয়স পর্যন্ত বাঁচেন, তবে আপনার কাছে টাকা না থাকলে জীবনের শেষ ১০ বা ১৫ বছর অত্যন্ত নির্মম হতে পারে।’