✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-১৯, | ০০:০৩:২০ |সৌদি আরবের শিক্ষা কারিকুলাম ও পাঠ্যপুস্তকে বড় ধরনের পরিবর্তনের খবর পাওয়া গেছে। দেশটির নতুন পাঠ্যবই থেকে ‘মুসলিমরা কখনোই জেরুজালেমের অধিকার ছেড়ে দেবে না’ শীর্ষক গুরুত্বপূর্ণ বাক্যটি অপসারণ করা হয়েছে।
ইসরায়েলভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর মনিটরিং পিস অ্যান্ড কালচারাল টলারেন্স ইন স্কুল এডুকেশন (ইমপ্যাক্ট-এসই)-এর একটি সাম্প্রতিক পর্যালোচনায় এই তথ্যটি সামনে এসেছে। সংস্থাটি সৌদি আরবের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও দেশটির শিক্ষা কারিকুলামে এখনো ইসরায়েলকে ‘দখলদার’ হিসেবে বর্ণনা করা এবং ফিলিস্তিন ইস্যুতে অতীতে জায়নবাদী এক নেতার ঘুষের প্রস্তাব তুলে ধরার সমালোচনা করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই মাসের শেষের দিকে প্রকাশিত ওই পর্যালোচনায় বলা হয়, সৌদি পাঠ্যবইয়ে ব্যবহৃত পূর্বের বাক্যটি এমন ইঙ্গিত বহন করত যেন জেরুজালেমে মুসলিমদের উপস্থিতি ও নিয়ন্ত্রণ হুমকির মুখে রয়েছে। সংস্থাটির মতে, ওই অংশটির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধারণা তৈরি হতে পারত যে জেরুজালেম হলো মুসলিম এবং অন্যান্য বিশেষত ইসরায়েলি গোষ্ঠীর মধ্যকার একটি চলমান সংঘাতময় এলাকা। অথচ বাস্তবে সাম্প্রতিক সময়েও অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের ঐতিহাসিক আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের আশকারায় চরমপন্থী ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের প্রার্থনার অনুমতি দেওয়াসহ নানা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে।
ইমপ্যাক্ট-এসই তাদের প্রতিবেদনে দাবি করেছে যে, নতুন পাঠ্যক্রম থেকে ধর্মীয় চরমপন্থা ও ইহুদিবিদ্বেষমূলক বিভিন্ন অংশ বাদ দেওয়া হয়েছে। এমনকি পবিত্র কোরআনের কিছু আয়াত এবং হাদিসের উল্লেখও আগের চেয়ে সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। সংস্থাটি দাবি করছে, এর ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অমুসলিম বা অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি মনোভাব ইতিবাচক হবে।
তবে কেবল ধর্মীয় বিষয়ই নয়, ঐতিহাসিক মানচিত্র এবং ভৌগোলিক পরিচিতির ক্ষেত্রেও সৌদি কর্তৃপক্ষ পরিবর্তন এনেছে। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের নতুন বইগুলোতে পূর্বের যেসব মানচিত্রে পুরো এলাকাকে ‘ফিলিস্তিন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল, সেখান থেকে ফিলিস্তিন নামটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে, যদিও সরাসরি ‘ইসরায়েল’ নামটি এখনো যুক্ত করা হয়নি। এছাড়া একাদশ শ্রেণির একটি ইতিহাস বইয়ে ‘জায়নবাদী শত্রু’ শব্দগুচ্ছের পরিবর্তে ‘ইসরায়েলি দখলদারিত্ব’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও ইসরায়েলি সংস্থাটির মতে, ইসরায়েলকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করার অবস্থান থেকে পুরোপুরি সরে আসতে হলে এই পরিবর্তনও যথেষ্ট নয়।
এদিকে, পাঠ্যবইয়ে জায়নবাদীদের ‘ধূর্ত ও প্রবঞ্চক’ হিসেবে বর্ণনা করা এবং সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠাতা বাদশাহ আবদুল আজিজকে জায়নবাদী নেতা চাইম উইজম্যানের ঘুষ দেওয়ার চেষ্টার ঘটনাটির বর্ণনা থাকা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে ইসরায়েলি সংস্থাটি। তাদের মতে, এটি শিক্ষার্থীদের মনে জায়নবাদ সম্পর্কে চক্রান্তমূলক ধারণা দেয়। যদিও ঐতিহাসিক নথি প্রমাণ করে যে ১৯৪০ সালের মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক স্মারক অনুযায়ী উইজম্যান ফিলিস্তিনিদের জর্ডান ও ইরাকে পুনর্বাসনের বিনিময়ে বিপুল অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন, যাকে বাদশাহ আবদুল আজিজ চরম জঘন্য অপরাধ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেন।
সূত্র: মিডলইস্ট আই