✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-১৮, | ২০:৪৬:৫৬ |জুলাই মাসে ব্যাট ও বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অলরাউন্ডার জাস্টিন গ্রিভস আইসিসি পুরুষদের ‘প্লেয়ার অফ দ্য মান্থ’ নির্বাচিত হয়েছেন। এই কৃতিত্ব অর্জন করতে গিয়ে তিনি ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক এবং বাংলাদেশের ব্যাটার তানজিদ হাসানকে পেছেনে ফেলেছেন।
সেরা খেলোয়াড় হওয়ার পর এই ক্রিকেটার নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দেশের মাটিতে খেলাটা আমার জন্য একটি স্মরণীয় মাস ছিল। বিশেষ করে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের বিপক্ষে ব্যাট ও বল উভয় ক্ষেত্রেই অবদান রাখতে পারাটা আমার কাছে অত্যন্ত বিশেষ একটি বিষয়। টেস্ট ক্রিকেটে এমন পারফরম্যান্স সবসময়ই আমার কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে, বিশেষ করে যখন তা ঘরের মাঠের দর্শকদের সামনে আসে।
গ্রিভস ভবিষ্যতে একইভাবে ভালো খেলা চালিয়ে যাওয়ার আশা প্রকাশ করেন।
এই অলরাউন্ডার আরও বলেন, দলের গুরুত্বপূর্ণ কিছু পারফরম্যান্সে নিজের ভূমিকা রাখতে পেরে আমি আনন্দিত এবং আশা করি ভবিষ্যতেও অর্থপূর্ণ অবদান রাখতে পারব। আমি আমার সতীর্থ ও দলের স্টাফদের তাদের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানাই এবং আগামীতে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাই।
আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে সাফল্য পেয়েছেন গ্রিভস। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ ড্র করা এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে স্মরণীয় জয়ের ক্ষেত্রেই তিনি অবদান রেখেছেন। একজন প্রকৃত অলরাউন্ডারের মতোই জুলাই মাসে ব্যাট ও বল হাতে নিজের ছাপ রেখেছেন গ্রিভস।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে তার প্রথম উল্লেখযোগ্য অবদানটি ছিল ব্যাটিংয়ে। প্রতিপক্ষের বিশাল প্রথম ইনিংসের সংগ্রহ (৯ উইকেটে ৫৪৯ রান, ইনিংস ঘোষণা) মোকাবিলা করতে গিয়ে স্বাগতিকরা যখন ১৪৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছিল, তখন গ্রিভস দলের হাল ধরেন। তিনি দুর্দান্ত ১৮০ রানের ইনিংস খেলে শ্রীলঙ্কার স্কোরের কাছাকাছি পৌঁছাতে এবং মূল্যবান সময় পার করতে দলকে সহায়তা করেন। ১৪টি চার ও দুটি ছক্কায় তার এই ইনিংসটি শেষ পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টেস্ট ড্র করতে সহায়তা করে। একইসঙ্গে ঘরের মাঠে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের পাশাপাশি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট অর্জনে সহায়তা করে।
দ্বিতীয় টেস্টে মাঠে নামার আগে গ্রিভস নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেন এবং ইনিংসের সূচনা করতে নেমে ১১৪.২৮ স্ট্রাইক-রেটে ৩২ রান সংগ্রহ করেন। তার দ্বিতীয় স্মরণীয় কৃতিত্বটি আসে বোলিংয়ে; তারুবাতে পাকিস্তানের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপকে ধসিয়ে দিয়ে তিনি ক্যারিয়ারের প্রথমবার এক ইনিংসে পাঁচ উইকেট শিকার করেন।
এই কৃতিত্ব অর্জনের পথে তিনি টানা পাঁচটি ‘উইকেট-মেডেন’ ওভার করেন। তার এই স্পেলটি পাকিস্তানকে ২৪৪/৪ থেকে ২৬৭/৯-এর বিপর্যয়ে ঠেলে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজকে প্রথম ইনিংসে গুরুত্বপূর্ণ লিড এনে দেয়। দ্বিতীয় ইনিংসে ফিরে এসে তিনি প্রথম দুই ওভারে পরপর উইকেট তুলে নেন; এর ফলে এই টেস্ট ম্যাচে টানা সাত ওভারে তার শিকারের সংখ্যা দাঁড়ায় সাতটিতে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ পাকিস্তানকে ১২০ রানে অল-আউট করে ৯০ রানের জয় তুলে নেয়। এই দুটি টেস্টেই গ্রিভস 'প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ' নির্বাচিত হন।