দক্ষিণ সুদানে খাদ্যসংকট ঝুঁকিতে ৬ লাখ শরণার্থী

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-১৫, | ১৪:১৫:২৪ |

তীব্র অর্থ সংকটের কারণে দক্ষিণ সুদানে আশ্রয় নেওয়া সাড়ে ৬ লাখের বেশি শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে খাদ্য সহায়তা হারানোর চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। এর ফলে বাধ্য হয়ে তাদের অনেকেই সহায়তার খোঁজে যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদানে ফিরে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।

গতকাল শুক্রবার বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি এবং জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা জানিয়েছে, দক্ষিণ সুদান বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ খাদ্যসংকটের মুখোমুখি। দেশটির মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি, প্রায় ৭৮ লাখ মানুষ মারাত্মক খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং ২২ লাখ শিশু তীব্র পুষ্টিহীনতার শিকার। এর ওপর ২০২৩ সালে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রতিবেশী সুদান থেকে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৩ হাজার নতুন শরণার্থী ও প্রত্যাবর্তনকারী দক্ষিণ সুদানে প্রবেশ করছে। জরুরি ভিত্তিতে নতুন অর্থায়ন পাওয়া না গেলে আগামী সেপ্টেম্বর মাসই হতে যাচ্ছে ২ লাখ ৪০ হাজার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শরণার্থীর জন্য খাদ্য সহায়তার শেষ মাস। এর আগে তহবিল ঘাটতির কারণে ডব্লিউএফপি পর্যায়ক্রমে সহায়তা কমাতে বাধ্য হয়েছিল এবং বর্তমানে শরণার্থীদের অর্ধেক রেশনে রাখা হয়েছে। ডব্লিউএফপির দক্ষিণ সুদান উপপরিচালক আদহাম এফেন্দি জানান, এটি কোনো ভবিষ্যতের আশঙ্কা নয়, বরং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ঘটা এক কঠিন বাস্তবতা। ইউএনএইচসিআর জানায়, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তাদের ৩৭ মিলিয়ন ডলারের যে তহবিল ঘাটতি রয়েছে তা মেটাতে না পারলে অক্টোবর থেকে কোনো শরণার্থীই আর খাদ্য সহায়তা পাবে না। বেঁচে থাকার জন্য পরিবারগুলো ইতোমধ্যেই খাবারের সংখ্যা কমাচ্ছে, সহায়-সম্পদ বিক্রি করছে এবং শিশুদের স্কুল থেকে ছাড়িয়ে নিচ্ছে। ডব্লিউএফপি জানায়, নতুন অর্থায়ন না এলে অক্টোবর থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত মানুষের সহায়তা বন্ধ হবে এবং নভেম্বরের মধ্যে দুর্ভিক্ষ ঝুঁকিতে থাকা আরও ৬ লাখ মানুষ তাদের জীবনরক্ষাকারী ত্রাণ হারাবে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..