✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-১২, | ১৪:৪৮:২৫ |ভূ-রাজনৈতিক উত্তাপ ও বৈশ্বিক ক্ষমতার দ্বন্দ্বের মধ্যেও আন্তঃরাষ্ট্রীয় অপরাধ মোকাবিলায় চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে কৌশলগত দ্বিপাক্ষিক আইন প্রয়োগকারী অংশীদারিত্ব গড়ে তুলছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। সংস্থাটির পরিচালক কাশ প্যাটেলের নেতৃত্বে বাস্তবমুখী এই পদক্ষেপে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তায় একটি নতুন মেরুকরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যেখানে গভীর রাজনৈতিক মতপার্থক্য পাশে সরিয়ে রেখে নাগরিক সুরক্ষা ও বৈশ্বিক অপরাধ দমনে যৌথ উদ্যোগকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।
দীর্ঘদিন অচলাবস্থা বজায় থাকার পর বেইজিংয়ের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের বরফ গলতে শুরু করেছে। দুই দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মধ্যকার দীর্ঘদিনের বরফ গলিয়ে এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল ২০২৫ সালের নভেম্বরে চীন সফর করেন এবং চীনের জননিরাপত্তা বিষয়ক উপমন্ত্রী শু দাতোংয়ের সাথে সাক্ষাৎ করেন। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের জুলাইয়ে তিনি পুনরায় চীন সফর করে দেশটির স্টেট কাউন্সিলর ও জননিরাপত্তা মন্ত্রী ওয়াং শিয়াওহোংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের মে ২০২৫-এর চীন সফর এবং ফেন্টানাইল মাদক উৎপাদনকারী রাসায়নিক রোধ সংক্রান্ত সমঝোতার ওপর ভিত্তি করেই এই সহযোগিতার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ উন্মোচিত হয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের এই যৌথ প্রয়াস কেবল আনুষ্ঠানিক বৈঠকেই সীমাবদ্ধ থাকেনি বরং প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে। বর্তমানে উভয় দেশের মধ্যে সাইবার জালিয়াতি, শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংস অপরাধ, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং পলাতক অপরাধী চিহ্নিতকরণ সংক্রান্ত চারটি বিশেষায়িত ওয়ার্কিং গ্রুপ নিয়মিত কাজ করছে। এই কাঠামোর অধীনে উভয় দেশের কর্মকর্তারা প্রতি মাসে একে অপরের দেশে গিয়ে পারস্পরিক তদারকি ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করছেন এবং প্রায় প্রতিদিনই দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। এর ইতিবাচক ফল হিসেবে সম্প্রতি ‘অপারেশন স্যান্ড ডলার’ নামক একটি সফল যৌথ অভিযানে এফবিআই, চীনের জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয় এবং দুবাই পুলিশ মিলে একটি বড় সাইবার স্ক্যাম চক্রের অবসান ঘটায়। এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ৩০০ জনকে গ্রেপ্তার, ৩০ কোটি ডলার সমমূল্যের অর্থ জব্দ এবং পাচারকৃত হাজার হাজার শ্রমিককে মুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
একই বাস্তববাদী নীতির অংশ হিসেবে রাশিয়ার সঙ্গেও যোগাযোগের একটি নতুন পথ উন্মুক্ত হচ্ছে। আগামী অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে কাশ প্যাটেল মস্কো এবং সেন্ট পিটার্সবার্গ সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যেখানে রাশিয়ান ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিস (এফএসবি) তাকে স্বাগত জানাবে। ২০১৩ সালে রবার্ট মুলারের পর এবারই প্রথম কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত এফবিআই পরিচালক রাশিয়া সফর করতে যাচ্ছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জারেড কুশনারের সাম্প্রতিক রাশিয়া সফর এবং প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাতের পর এই নিরাপত্তা সহযোগিতা নতুন গতি লাভ করেছে। রাশিয়ার আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিষয়ক বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিভও যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ার মধ্যকার এই উদীয়মান গোয়েন্দা ও আইন প্রয়োগকারী সহযোগিতাকে প্রকাশ্যে স্বাগত জানিয়েছেন।
এফবিআইয়ের এই পদক্ষেপের সমান্তরালে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্যান্য শীর্ষ বিভাগও বেইজিংয়ের সাথে কৌশলগত যোগাযোগ পুনর্বাহালের তাগিদ দিচ্ছে। পেন্টাগনের পলিসি প্রধান এলব্রিজ কোলবি এবং মার্কিন যুদ্ধের সচিব পিট হেগসেথ চীন-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সামরিক হটলাইন ও সংকট ব্যবস্থাপনা কৌশলগুলো পুনরায় চালু করার ওপর জোর দিয়েছেন। সামরিক বাহিনীর মধ্যকার এই যোগাযোগ স্থাপনের উদ্দেশ্য হলো সমুদ্র বা আকাশে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা যাতে বড় ধরনের সংঘাতের রূপ না নেয় তা নিশ্চিত করা।
সূত্র: আরটি