✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-০১, | ১২:০৭:৪১ |আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে বিশ্লেষকদের মধ্যে। দীর্ঘদিন ধরে সমাজবিজ্ঞানী ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা বলে আসছেন, এসব নিষেধাজ্ঞা লক্ষ্যবস্তু সরকারকে দুর্বল করতে না পারলেও সাধারণ মানুষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তবুও যুক্তরাষ্ট্র-এর নেতৃত্বে এই নীতি প্রয়োগ অব্যাহত রয়েছে।
সাম্প্রতিক ইরান সংশ্লিষ্ট সংঘাত পরিস্থিতি এই ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা আরও স্পষ্ট করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, নিষেধাজ্ঞার ফলে বিশ্ববাণিজ্যে ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর প্রবণতা বাড়ছে, যা ‘ডি-ডলারাইজেশন’ হিসেবে পরিচিত।
বিশেষ করে ক্রিপ্টোকারেন্সি, পণ্য বিনিময় (বার্টার) এবং হুন্ডির মতো বিকল্প লেনদেন ব্যবস্থা দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। চেইনঅ্যানালাইসিস-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত দেশগুলোর কাছে ক্রিপ্টোকারেন্সির প্রবাহ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এছাড়া চীনের মুদ্রা রেনমিনবির ব্যবহারও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাড়ছে। চীন ইতোমধ্যে তাদের বৈদেশিক বাণিজ্যের বড় অংশ নিজস্ব মুদ্রায় সম্পন্ন করছে, যা ডলারের আধিপত্যে চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন ধরনের অর্থনৈতিক লেনদেন পদ্ধতি গড়ে উঠছে, যেখানে ডলারবিহীন লেনদেনের প্রবণতা বাড়ছে। এই পরিবর্তন বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি বিকল্প কাঠামোর ইঙ্গিত দিচ্ছে।
যদিও বর্তমানে বৈশ্বিক বাণিজ্যে ডলারের প্রভাব এখনো শক্তিশালী, তবুও চলমান প্রবণতা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অর্থব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।