নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ঐতিহাসিক কোহিনূর হীরাটি ভারতকে ফিরিয়ে দেওয়া উচিত। বুধবার লোয়ার ম্যানহাটনে কিং চার্লসের সফরের আগে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। যদিও তিনি জানান, তার রাজার সঙ্গে সরাসরি কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা নেই। তিনি মূলত নাইন-ইলেভেন মেমোরিয়াল অ্যান্ড মিউজিয়ামে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
তবে যদি ব্যক্তিগতভাবে রাজা চার্লসের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেতেন, তাহলে কী বলতেন এমন প্রশ্নের জবাবে মামদানি বলেন, “আমি তাকে বলতাম, অমূল্য কোহিনূর হীরাটি ভারতকে ফিরিয়ে দিন।”
১০৫.৬ ক্যারেটের এই বিখ্যাত হীরাটি ১৮৪০-এর দশকে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের সময় এক ভারতীয় কিশোর রাজপুত্রের কাছ থেকে নেওয়া হয় এবং পরে রানী ভিক্টোরিয়ার কাছে উপস্থাপন করা হয়। বর্তমানে এটি লন্ডনের টাওয়ার অব লন্ডনে সংরক্ষিত ব্রিটিশ ক্রাউন জুয়েলসের অংশ।
নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, মামদানির পারিবারিক ও রাজনৈতিক পটভূমিও তার এই অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। উগান্ডায় জন্ম নেওয়া এই রাজনীতিক ভারতীয় বংশোদ্ভূত, এবং তার বাবা মাহমুদ মামদানি উপনিবেশবিরোধী চিন্তাধারার একজন বিশিষ্ট গবেষক। তার মা মীরা নায়ার একজন খ্যাতিমান চলচ্চিত্র নির্মাতা, যার কাজেও উপনিবেশিক অভিজ্ঞতা উঠে এসেছে।
উল্লেখ্য, ভারত দীর্ঘদিন ধরেই কোহিনূর হীরা ফেরত চেয়ে আসছে। মামদানি আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সরব হওয়ার জন্যও পরিচিত। তিনি গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের সমালোচক এবং ফিলিস্তিনের অধিকারের সমর্থক। অতীতে তিনি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে নিউইয়র্কে এলে গ্রেপ্তারের আহ্বান জানানোর কথাও বলেছেন। এছাড়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমালোচনা করেও বিতর্কে জড়িয়েছেন।
তবে শেষ পর্যন্ত কিং চার্লসের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয় নাইন-ইলেভেন মেমোরিয়াল অ্যান্ড মিউজিয়ামে, যেখানে তারা সৌজন্য বিনিময় করেন এবং রাজা ও রানী ক্যামিলা শহীদদের স্মরণে ফুল অর্পণ করেন।
এ জাতীয় আরো খবর..