তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তি ও সাইবার বুলিংয়ের মতো সমস্যাগুলো মোকাবিলায় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য আরও কঠোর বয়স যাচাইকরণ প্রক্রিয়া চালুর পরিকল্পনা করছে জাপানের যোগাযোগ মন্ত্রণালয়।
গত বুধবার একটি খসড়া পরিকল্পনায় এ প্রস্তাবনা পেশ করা হয়েছে। তবে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিদেশে গৃহীত ব্যবস্থার মতো ঢালাওভাবে বয়সভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা জাপানের জন্য কাম্য নয়; কারণ বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া যোগাযোগের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে।
কিয়োদো নিউজের বরাতে শনিবার মালয়েশিয়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য স্টারের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
খবরে বলা হয়, জাপানি বিশেষজ্ঞদের এক বৈঠকে এ প্রস্তাবিত নীতিটি খসড়া পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আগামী গ্রীষ্মের মধ্যে এ সংক্রান্ত চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। এরপর ‘চিলড্রেন অ্যান্ড ফ্যামিলি এজেন্সি’ নির্দিষ্ট পদক্ষেপগুলো নির্ধারণ করবে এবং কোনো আইনি সংশোধন প্রয়োজন কিনা তা যাচাই করে দেখবে।
খসড়াটিতে আরও প্রস্তাব করা হয়েছে যে, প্ল্যাটফর্মগুলোকে তাদের সেবার সঙ্গে জড়িত ঝুঁকিগুলো মূল্যায়ন ও প্রকাশ করতে হবে। পাশাপাশি তরুণ ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় তারা কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তাও জানাতে হবে।
বর্তমানে এক্স (সাবেক টুইটার) এবং ইনস্টাটাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে অ্যাকাউন্ট তৈরির জন্য ব্যবহারকারীর বয়স অন্তত ১৩ বছর হওয়া বাধ্যতামূলক। তবে বয়স যাচাইয়ের প্রক্রিয়াটি শুধুমাত্র নিবন্ধনের সময় ব্যবহারকারীর দেওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর করে। ফলে অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীরা সহজেই এ বিধিনিষেধ এড়িয়ে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারে।
উল্লেখ্য যে, গত বছর অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করেছে। মূলত আসক্তি, বুলিং এবং মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের সম্ভাব্য ঝুঁকি থেকে তরুণদের রক্ষা করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এছাড়া ইন্দোনেশিয়াও চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে শুরু করেছে।
এ জাতীয় আরো খবর..