এশিয়ার বৃহত্তম আর্ট ফেয়ার ‘আর্ট বাসেল হংকংয়ে’ এবার দেখা মিলেছে এক বিচিত্র শিল্পীর।
তবে এ শিল্পী কোনো মানুষ নয়, বরং একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এজেন্ট। গত বছর এর প্রতিটি কাজ বিক্রি হয়েছে ১ থেকে ১০০ ইথার (প্রায় ২ হাজার থেকে ৩ লাখ ডলার) মূল্যে। সম্প্রতি হংকংয়ের আর্ট ফেয়ারে দেখা যায়, দুটি ট্র্যাকিং ক্যামেরার সাহায্যে মেলায় আসা দর্শককে নীরবে পর্যবেক্ষণ করছিল বটো নামের একটি এআই এজেন্ট। এমনকি এর নির্মাতাও জানতেন না যে এটি ঠিক কী খুঁজছে। দেখা যায়, প্রতি ২ বা ৩ মিনিট অন্তর এআই এজেন্টটি ভিড়ের মধ্য থেকে একজনকে বেছে নিচ্ছে। এরপর তার চেহারার অভিব্যক্তি—সেটি আনন্দ, বিরক্তি বা বিভ্রান্তি যা-ই হোক না কেন, তা একটি ভার্চুয়াল চরিত্রে রূপান্তর করে নিজের মধ্যে বিশ্লেষণ করছে। সে তথ্যের ওপর ভিত্তি করে একটি বড় পর্দায় রিয়াল-টাইমে তৈরি হচ্ছিল পরাবাস্তব ডিজিটাল শিল্পকর্ম। এ প্রক্রিয়ায় তৈরি ২০টি ভিডিওচিত্রের প্রতিটি অন্তত ১২ হাজার ডলারে সংগ্রাহকদের কাছে বিক্রির প্রস্তাব দেয়া হয়। ‘বটো’ নামের এ এআই শিল্পী ২০২১ সাল থেকে ডিজিটাল ছবি তৈরি ও অনলাইনে বিক্রি করছে। প্রকল্পটির অন্যতম নির্মাতা জার্মান শিল্পী মারিও ক্লিংগেম্যান। তিনি জানান, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের পছন্দ-অপছন্দ বুঝতে পেরে বটোর শৈল্পিক দক্ষতা আরো উন্নত হয়েছে। এখন পর্যন্ত বটোর শিল্পকর্ম বিক্রি করে আয় হয়েছে ৬০ লাখ ডলারেরও বেশি। স্বায়ত্তশাসিত শিল্পীটি মূলত হাজার হাজার মানুষ দ্বারা পরিচালিত। প্রতি সপ্তাহে এটি একটি নির্দিষ্ট থিম বা বিষয়ের ওপর ৩৫০টি নতুন ডিজিটাল কাজ তৈরি করে। এরপর ‘বটো ডিএও’ নামের একটি অনলাইন সম্প্রদায়ের প্রায় ২৮ হাজার সদস্যের সামনে সেগুলো উপস্থাপন করা হয়। সক্রিয় পাঁচ হাজার সদস্য এসব কাজের নান্দনিক গুণাগুণ বিচার করে ভোট দেন। সপ্তাহের বিজয়ী শিল্পকর্মটি সুপাররেয়ার নামক অনলাইন প্লাটফর্মে এনএফটি হিসেবে নিলামে তোলা হয়। ২০২২ সালের তুলনায় এনএফটির বাজার কিছুটা পড়তির দিকে হলেও বটোর আয় কমেনি। গত অক্টোবরে বিখ্যাত নিলামকারী প্রতিষ্ঠান সথবিজ বটোর ছয়টি শিল্পকর্ম ৩ লাখ ৫১ হাজার ৬০০ ডলারে বিক্রি করেছে। —খবর ও ছবি সিএনএন
এ জাতীয় আরো খবর..