র‍্যাংকন অটোর ২৫ শতাংশ শেয়ার কিনছে জাপানের মিতসুবিশি

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৪-২৪, | ১৮:২২:৫০ |
বাংলাদেশের র‍্যাংকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের (র‍্যাইল) ২৫ শতাংশ ইকুইটি স্টেক কেনার জন্য কৌশলগত চুক্তি সই করেছে জাপানের মিতসুবিশি করপোরেশন। দেশে যানবাহনের উৎপাদন, বিক্রয় ও বিপণন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এই চুক্তি করা হয়েছে।

গতকাল ঢাকায় এই চুক্তি সই হয়। সরকারি বিভিন্ন প্রণোদনার সহায়তায় বাংলাদেশ এখন আমদানিনির্ভর অটোমোবাইল বাজার থেকে পর্যায়ক্রমে স্থানীয়ভাবে গাড়ি সংযোজন ও উৎপাদনের দিকে যাচ্ছে। এই অংশীদারত্বের ফলে প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষ জনবল তৈরি এবং গ্রাহকসেবার মানোন্নয়নে নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানি রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি উপস্থিত ছিলেন।

এই চুক্তির আওতায় বিশ্বের ৯০টিরও বেশি দেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী মিতসুবিশি করপোরেশন এখন থেকে র‍্যাংকন অটোর কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে যুক্ত হলো। এই যৌথ উদ্যোগের ফলে উৎপাদন সক্ষমতা ও বিপণন দক্ষতা বাড়বে। এছাড়া মিতসুবিশির বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং বিক্রয় ও বিপণন ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এই চুক্তি বর্তমান সরকারের অধীনে প্রথম বড় ধরনের প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই), যা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে একটি ইতিবাচক বার্তা। 

বিনিয়োগকারীকেও উৎসাহিত করবে। তিনি ব্যবসা সহজীকরণ, নিয়ন্ত্রক সংস্থার বোঝা হ্রাস ও ব্যবস পরিচালনার ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে সরকারের চলমান প্রচেষ্টার কথা বলেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, র‍্যাংকন মোটরসের সঙ্গে এই অংশীদারত্ব বাংলাদেশের অটোমোবাইল শিল্পের জন্য নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল, যার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো স্থানীয়ভাবে গাড়ি উৎপাদন সম্ভব হবে। 

অর্থমন্ত্রী একে কেবল একটি বাণিজ্যিক চুক্তি হিসেবে নয়, বরং শিল্পায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও হালকা প্রকৌশল খাতের বিকাশে বড় পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশে তৈরি গাড়ি একসময় রপ্তানি বাজারেও প্রবেশ করতে পারবে।

মিতসুবিশি করপোরেশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ডিভিশন সিওও হিরোইউকি এগামি বলেন, কোম্পানিটি এই যৌথ উদ্যোগে তাদের বৈশ্বিক অটোমোবাইল দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে আসবে।

র‍্যাংকন হোল্ডিংস লিমিটেডের গ্রুপ ম্যানেজিং ডিরেক্টর রোমো রউফ চৌধুরী এই চুক্তিকে বাংলাদেশের অটোমোবাইল শিল্পের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে স্থানীয় বাজারের জ্ঞানের সঙ্গে বৈশ্বিক অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটবে। এই খাতে এটিই প্রথম এ ধরনের অংশীদারত্ব এবং এটি বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্কের প্রতিফলন।

২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত র‍্যাংকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড মাল্টি-ব্র্যান্ড যানবাহন উৎপাদন ও সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠান। কোম্পানিটি গত বছরের জুনে স্থানীয়ভাবে 'মিতসুবিশি এক্সপ্যান্ডার' উৎপাদন শুরু করে, যা এখন দেশের শীর্ষ বিক্রীত ফ্যামিলি এসইউভি।

র‍্যাংকন বলছে, এই অংশীদারত্বের ফলে সাশ্রয়ী মূল্যে গাড়ি কেনা যাবে, বিক্রয়-পরবর্তী সেবার পরিধি বাড়বে এবং নায্যমূল্যে যন্ত্রাংশের প্রাপ্যতা নিশ্চিত হবে। এছাড়া এটি দেশব্যাপী বিপণন নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করার পাশাপাশি প্রযুক্তি ও জ্ঞান হস্তান্তর, দক্ষ জনবল তৈরি এবং ভ্যাট ও করের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখবে।

অন্যান্য প্রতিবেশীদের তুলনায় বাংলাদেশের অটোমোবাইল বাজার এখনো কিছুটা ছোট হলেও ব্যক্তিগত গাড়ি ও এসইউভির চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। 

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদন শুরু হলে গাড়ির দাম ও আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশের শিল্পভিত্তি আরও মজবুত হবে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..