মধ্যবিত্তের বোঝা কমাতে করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখের প্রস্তাব

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৪-২৩, | ১১:৫৫:২৬ |
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ব্যক্তিখাতে করমুক্ত আয়ের ন্যূনতম সীমা বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা করার প্রস্তাব জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। মূলত সীমিত ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের ওপর বোঝা কমিয়ে জীবনযাত্রায় স্বস্তি আনতে এমন প্রস্তাব করেছে ডিসিসিআই।

করমুক্ত আয়ের সীমা বর্তমানে রয়েছে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ করহার ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনার সুপারিশ করেছে সংগঠনটি।

সম্প্রতি রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় এই প্রস্তাবনাগুলো তুলে ধরা হয়।

ডিসিসিআই জানিয়েছে, করমুক্ত আয়সীমা পাঁচ লাখ করা হলে বিপুলসংখ্যক করদাতাকে কর দিতে হবে না। এ শ্রেণি মূলত সীমিত আয় ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির করদাতা। এমনিতে জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধির কারণে খরচ বাড়ছে। আবার করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো না হলে করের টাকাও দিতে হবে। করমুক্ত আয়সীমা পাঁচ লাখ টাকা হলে এই সীমিত আয়ের শ্রেণির করদাতারা কিছুটা স্বস্তি পাবেন।

তাদের প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য উচ্চ মূল্যস্ফীতির এই সময়ে সীমিত ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের ওপর করের বোঝা কমিয়ে তাদের জীবনযাত্রায় কিছুটা স্বস্তি আনা। বর্তমানে প্রায় সাড়ে ৮ শতাংশ মূল্যস্ফীতির কারণে অনেক করদাতার প্রকৃত আয় কমছে। পাশাপাশি নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বেড়েছে। এখন যদি করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো না হয়, তাদের ভোগান্তি বাড়বে।

এমন পরিস্থিতিতে করমুক্ত সীমার এই পরিবর্তন কার্যকর হলে বিপুলসংখ্যক করদাতা সরাসরি উপকৃত হবেন এবং তাদের ভোগান্তি লাঘব হবে বলে মনে করছে ডিসিসিআই।

ব্যক্তিখাতের পাশাপাশি করপোরেট খাতেও সংস্কারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। এর মধ্যে অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার ২৭.৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ নির্ধারণ এবং বাণিজ্যিক আমদানিতে আগাম কর ৭.৫০ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

উদ্যোক্তারা মনে করেন, রাজস্ব কাঠামোর পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন ও রিফান্ড প্রক্রিয়া সহজ করা গেলে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমবে, যা বিনিয়োগ ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে।

ঢাকা চেম্বারের মতে, দেশের অর্থনীতির প্রায় ৮০ শতাংশ এখনো অনানুষ্ঠানিক খাতে রয়ে গেছে। কর জাল সম্প্রসারণের মাধ্যমে সম্ভাব্য করদাতাদের শনাক্ত করা গেলে সরকারের সামগ্রিক রাজস্ব আয় আরও বৃদ্ধি পাবে।

জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান জানান, শুল্কের হার কমানোর চেয়ে অ-শুল্ক প্রতিবন্ধকতা দূর করে ব্যবসার ব্যয় কমানো এবং কর ফাঁকিবাজদের চিহ্নিত করার ওপর এ বছর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।

এছাড়া আগামী বছর থেকে করপোরেট কর রিটার্ন ও রিফান্ড ব্যবস্থা অনলাইনে নিশ্চিত করার কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ঢাকা চেম্বারের পক্ষ থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাস্তবায়নের জন্য ২৩টি প্রস্তাবনা দেওয়া হয়। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবগুলো হলো করমুক্ত আয়ের সীমা ৫ লাখ টাকা করা এবং সর্বোচ্চ করহার ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনা, নন-লিস্টেড কোম্পানির করহার লিস্টেড কোম্পানির মতো ২৫ শতাংশ করা, আমদানি ও ভ্যাট ব্যবস্থায় সংস্কারের লক্ষ্যে উৎপাদনকারীদের আগাম কর পর্যায়ক্রমে বাতিল এবং বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের ক্ষেত্রে তা কমানো।

এ ছাড়া ভ্যাট সংগ্রহকে আধুনিক করতে ওয়েবসাইটের পাশাপাশি মোবাইল অ্যাপ চালু করার এবং অগ্রিম ভ্যাট ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করে কেবল চূড়ান্ত মূল্যের ওপর ভ্যাট নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে ভ্যাট ফেরত বা রিফান্ড প্রক্রিয়া সহজ করতে একটি ‘সিঙ্গেল স্টেপ’ বা এক দরজায় সব সেবা এমন ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..