বৈশ্বিক সামুদ্রিক (মেরিটাইম) খাতে নিজেদের অবস্থান আরো শক্তিশালী করতে গবেষণায় ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে সিঙ্গাপুর। আগামী পাঁচ বছরে এই অর্থ ব্যয় করা হবে। ২১শে এপ্রিল ‘সিঙ্গাপুর মেরিটাইম উইক’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশটির ভারপ্রাপ্ত পরিবহন মন্ত্রী জেফরি সিও এই ঘোষণা দেন।
মন্ত্রী জানান, স্বয়ংক্রিয় বন্দর পরিচালনা, বিকল্প জ্বালানি ও স্মার্ট জাহাজের মতো আধুনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবনে একটি নতুন ‘রোডম্যাপ’ বা রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।
এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো গবেষণার ফলাফলগুলোকে সরাসরি বাস্তব কাজে লাগানো। ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে বন্দরের কাজ আরো সহজ করা এবং জাহাজ থেকে কার্বন নিঃসরণ কমানোর বিষয়টিকে এখানে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে ‘ওশানস-এক্স’ নামে একটি নতুন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরির কথা জানানো হয়। এটি মূলত বিভিন্ন দেশের বন্দর কর্তৃপক্ষ, জাহাজ মালিক ও অংশীদারদের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে।
এর মাধ্যমে জাহাজের সঠিক অবস্থান জানা এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র সরাসরি জমা দেওয়া যাবে। এতে সময় বাঁচবে এবং ভুলত্রুটি কমবে বলে জানিয়েছে সিঙ্গাপুরের মেরিটাইম অ্যান্ড পোর্ট অথরিটি (এমপিএ)।
বর্তমানে সামুদ্রিক শিল্প বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। এর মধ্যে সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিকাশ অন্যতম।
এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এমপিএ ও সিঙ্গাপুর শিপিং অ্যাসোসিয়েশন একটি চুক্তি সই করেছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন শিপিং কম্পানিকে এআই ব্যবহারে দক্ষ করে তোলা হবে। আগামী ২০২৬ সালের শেষের দিকে এই কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় অস্থিরতা ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তজনা সামুদ্রিক বাণিজ্যে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির সাম্প্রতিক অচলাবস্থা বৈশ্বিক নৌপরিবহন ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে।
এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক নৌ সংস্থা (আইএমও) এবং সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে মিলে একটি নিরাপদ ও শক্তিশালী সামুদ্রিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন জেফরি সিও।
সূত্র : দ্য স্ট্রেইটস টাইমস