ওমান উপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর হাতে জব্দ করা একটি ইরানি জাহাজকে কেন্দ্র করে বিশ্বরাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন রিপাবলিকান নেত্রী নিকি হ্যালি দাবি করেছেন, জব্দ ওই জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সরঞ্জাম ছিল, যা চীন থেকে ইরানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, রোববার (১৯ এপ্রিল) ওমান উপসাগরে ইরানি পতাকাবাহী কন্টেইনার জাহাজ 'তুসকা' জব্দ করে মার্কিন বাহিনী। মার্কিন ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস স্প্রুএন্স থেকে বারবার সতর্ক করার পরেও জাহাজটি থামতে অস্বীকার করলে সেটির ইঞ্জিন রুমে গোলাবর্ষণ করে সেটিকে অচল করে দেওয়া হয়। এরপর মার্কিন মেরিন সেনারা জাহাজে আরোহণ করে সেটির নিয়ন্ত্রণ নেয়।
সামাজিকমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে নিকি হ্যালি বলেন, ওমান উপসাগরে জব্দ করা জাহাজটি চীন থেকে ইরানের দিকে যাচ্ছিল এবং এটি মিসাইল তৈরির কেমিক্যাল শিপমেন্টের সঙ্গে যুক্ত। বারবার নির্দেশ দিলেও এটি থামতে অস্বীকার করেছিল। এটি আরও একবার মনে করিয়ে দেয় যে চীন কীভাবে ইরানকে টিকিয়ে রাখছে—এই বাস্তবতা আর এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
এই ঘটনাকে 'সশস্ত্র জলদস্যুতা' হিসেবে অভিহিত করেছে তেহরান। ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, জাহাজে ক্রু মেম্বারদের পরিবার থাকায় তারা সরাসরি সংঘাতে জড়ায়নি। তবে এই ঘটনার প্রতিবাদে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, মার্কিন নৌ-অবরোধ না সরানো পর্যন্ত তারা কোনো আলোচনায় বসবে না।
মার্কিন গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সূত্রগুলো রয়টার্সকে জানিয়েছে, জাহাজটিতে এমন কিছু সরঞ্জাম থাকতে পারে যা শিল্প এবং সামরিক—উভয় কাজেই ব্যবহৃত হতে পারে। এর আগে ২০১৯ সাল থেকেই এই শিপিং লাইনের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল, কারণ তারা ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রোগ্রামের সরঞ্জাম পরিবহনে যুক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে।
এই ঘটনার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রসীমায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আটক কার্গো জাহাজ ‘তুসকা’কে দ্রুত ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে আমেরিকার ‘অপরাধমূলক’ কার্যক্রমের নিন্দা জানিয়েছে তেহরান। এই ঘটনায় চীন নিন্দা জানিয়েছে।
এ জাতীয় আরো খবর..