ঈদের আগেই দেশের আট বিভাগের আট উপজেলায় পরীক্ষামূলক (পাইলটিং) ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচি চালু করছে সরকার। এরই মধ্যে অর্থমন্ত্রীকে সভাপতি করে ‘ফ্যামিলি কার্ড প্রদান-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়। এরই মধ্যে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়েছে।
বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড চালু করার লক্ষ্যে কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় বসেন প্রধানমন্ত্রী। প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে এই কার্ড চালু হবে। তবে ফ্যামিলি কার্ডের জন্য কীভাবে আবেদন করতে হবে, তা এখনও জানানো হয়নি।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়; অর্থ ও পরিকল্পনা, স্বরাষ্ট্র, মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, শিল্প ও বাণিজ্য, তথ্য ও সম্প্রচার, খাদ্য, মৎস্য ও প্ৰাণিসম্পদ, কৃষিসহ ১২ মন্ত্রী। দুজন উপদেষ্টা, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা এই বৈঠকে ছিলেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপন সূত্রে জানা যায়, ফ্যামিলি কার্ড প্রদান-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে একটি উপযুক্ত নকশা এবং স্বচ্ছ সুবিধাভোগী নির্বাচন পদ্ধতি প্রণয়ন করবে। প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের আট বিভাগের প্রতিটিতে একটি উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের পাইলটিং ব্যবস্থা করা হবে।
এ ছাড়া নারীর জন্য বিদ্যমান অন্য কোনো কর্মসূচিকে এই প্রকল্পের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা যায় কিনা, কমিটি সেটিও পর্যালোচনা করবে। সুবিধাভোগীর নির্ভুল ডেটাবেজ প্রণয়নের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও ন্যাশনাল হাউসহোল্ড ডেটাবেজের মধ্যে আন্তঃসংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে একটি আধুনিক ডিজিটাল এমআইএস প্রণয়নের সুপারিশ করবে এই কমিটি।
অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে সভাপতি করে ১৫ সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন– মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী, মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও রেহান আসিফ আসাদ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব, স্থানীয় সরকার সচিব, পরিকল্পনা সচিব ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব।
প্রতি পরিবার মাসে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা পেতে পারে
বৈঠক শেষে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মন্ত্রী সমকালকে বলেন, পাঁচ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। ফ্যামিলি কার্ডধারী প্রতি পরিবার মাসে নগদ দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন। এই প্রকল্পের জন্য বেশ কিছু জেলা-উপজেলা চিহ্নিত করা হয়েছে। কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে হতদরিদ্র ও নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
ফ্যামিলি কার্ড হবে সর্বজনীন : সমাজকল্যাণমন্ত্রী
সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, ফ্যামিলি কার্ড হবে সর্বজনীন। কোনো ধর্মীয় বা রাজনৈতিক পরিচয় এখানে বিবেচ্য হবে না। সরাসরি কীভাবে উপকারভোগীর হাতে এই টাকা পৌঁছানো যায়, সে বিষয়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হবে। এখন যেসব কার্ড প্রচলিত আছে, সেগুলো চলমান থাকবে।
ঈদের আগেই ফ্যামিলি কার্ড পরীক্ষামূলক চালু: পরিবেশমন্ত্রী
বৈঠক শেষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী চান পরীক্ষামূলক প্রকল্প হিসেবে এই ঈদের আগে এই কার্যক্রম শুরু করতে। নির্বাচনের আগে দেওয়া ইশতেহার অনুযায়ী সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও নিত্যপণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে বামপন্থি রাজনৈতিক দল সিপিবির সাম্প্রতিক উদ্বেগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আবদুল আউয়াল মিন্টু ইতিবাচক সাড়া দেন। সিপিবি জানিয়েছিল, আগামী অর্থবছরে ফ্যামিলি কার্ড পূর্ণাঙ্গভাবে চালু না হলে তা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, কার্ড চালুর বিষয়ে কোনো অনিশ্চয়তা নেই, সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। কীভাবে কার্ড বিতরণ করা হবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে, তা নিয়ে এখন কারিগরি কাজ চলছে। পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পরবর্তীতে দেশজুড়ে এই কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ধাপে ধাপে দেশের সব পরিবারকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।
এ জাতীয় আরো খবর..