সর্বশেষ :
স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে দেশের প্রতিটি নাগরিককে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ডলফিনের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড চীন, সরানো হলো ১০ লাখের ‍অধিক মানুষ ইরান ইস্যুতে কার্টারের মতোই ফাঁদে পড়েছেন ট্রাম্প! আইসিসির ‘প্লেয়ার অফ দ্য মান্থ’ পুরস্কারের তালিকায় তানজিদ হরমুজ খোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা, বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম বাংলা কিউআর কোডে লেনদেন হবে ফ্রি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে রাজনৈতিক মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি : রিজভী আইসিসির সেরা ক্রিকেটারদের তালিকায় ম্যাথিউস-হারশিতা ও সিভার রদ্রিকে দলে ভেড়াতে মরিয়া বার্সেলোনা, অনিশ্চিত ডি ইয়ংয়ের ভবিষ্যৎ এশিয়ার তেলের বাজারের ‘ইরান-ধাক্কা’ একাই সামলে দিচ্ছে চীন

নুড়ি পাথর: উত্তরে পর্যটনের নতুন দিগন্ত

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৪-১১-২৪, | ০৪:১৩:০২ |

দেশের উত্তরের জেলা পঞ্চগড় কৃষির জন্য সুপরিচিত হলেও এখন পর্যটকদের নতুন গন্তব্য হয়ে উঠেছে। এখানকার অর্থনীতিতেও এসেছে অনেক পরিবর্তন। এখানে সামান্য গভীরতায় মাটি খুঁড়ে পাওয়া নুড়ি পাথর জেলার গ্রামীণ অর্থনীতির মেরুদণ্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাজার হাজার একর কৃষি জমি ও বসতবাড়ির নিচে পাথরের খনি। গত তিন দশকে উন্নত সড়ক যোগাযোগ জেলায় পর্যটন সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দিয়েছে।

তিন দিক থেকে ভারতবেষ্টিত পঞ্চগড়ের অনন্য ভৌগলিক সৌন্দর্য সারাদেশ থেকে টানছে দর্শনার্থীদের। এখানকার শীত পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় মৌসুম। এখানে শীত আসে অনেক আগে, যায়ও দেরিতে। শীতে এই জেলার তাপমাত্রা পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যায়। বিশেষ করে তেঁতুলিয়ায়।

জেলার সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্যটনের একটি বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্য। তেঁতুলিয়া থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার দূরে থাকলেও অক্টোবর-নভেম্বরে আকাশ পরিষ্কার থাকলে জেলার অনেক জায়গা থেকে এর তুষারাবৃত চুড়া দেখা যায়। প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটক এই দৃশ্য দেখতে মহানন্দার তীরে আসেন।

পর্বতের দৃশ্য ছাড়াও পঞ্চগড় এখন আরেকটি অনন্য দৃশ্যের জন্য পরিচিত। তা হলো—টিউলিপ বাগান। অনুকূল আবহাওয়া কৃষকদের এই ফুল চাষে আগ্রহী করেছে।

২০২২ সালে প্রথম টিউলিপ ফোটার পর থেকে বাগানগুলো দেশের পর্যটকদের আকৃষ্ট করছে।

বেশ কয়েক দশকে জেলার অর্থনীতি পাথর তোলা থেকে বদলে গেছে চা চাষে। পঞ্চগড় দেশের একমাত্র জায়গা যেখানে সমতল ভূমিতে চা বাগান আছে। ১৯৯০’র দশকে এ জেলায় শুরু হয় চা চাষ। এখন তেঁতুলিয়াসহ জেলাজুড়ে প্রায় ১০ হাজার একর বিস্তৃত চা বাগান আছে। এ ছাড়াও, আছে প্রায় ৫০টিরও বেশি টি এস্টেট।

এখানকার চা বিশ্বমানের। অর্গানিক চা উৎপাদনকারী হিসেবে পঞ্চগড়ের পরিচিতি বেড়েছে। যদিও এখন আর মাটি খুঁড়ে পাথর তোলা হয় না। তবুও নদী থেকে পাথর ও বালু তোলা জেলার অর্থনীতির অংশ। এর সঙ্গে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের জীবিকা জড়িত। তবে জেলার অর্থনীতি এখন পর্যটন, চা ও আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যের দিকে চলে গেছে। নদী থেকে সংগ্রহ করা বালি, বিশেষ করে ভজনপুরের সূক্ষ্ম বালি দেশের নির্মাণ কাজে ব্যবহার করা হয়।

দেশের একমাত্র শিলা জাদুঘর পঞ্চগড়ে। ১৯৮৪ স্থাপিত এই জাদুঘরে প্রাগ-ঐতিহাসিক পাথর রাখা আছে। এটি এই জেলার সাংস্কৃতিক গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে। এই জাদুঘরে আছে নানান গ্রামীণ নিদর্শনও।

মির্জা শাহ মসজিদ, গোলোকধাম মন্দির ও ভিতরগড়ের ধ্বংসাবশেষসহ বেশ কয়েকটি ঐতিহাসিক স্থান এই জেলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ধরে রেখেছে।

খুলনা থেকে বন্ধুদের নিয়ে তেঁতুলিয়ায় আসা আতিকুর রহমান জানান, তিনি গত পাঁচ বছরে তিনবার এখানে এসেছেন মূলত কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য দেখতে। ঢাকা থেকে সরাসরি বাসে পঞ্চগড় আসতে এখন প্রায় আট থেকে ১০ ঘণ্টা লেগে যায়। ঢাকা থেকে ট্রেনেও আসা যায় এই জেলায়।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, পঞ্চগড়ের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এখনো লুকানো রত্নের মতো। এই জেলার পর্যটনের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগাতে সরকারের আরও সহযোগিতা প্রয়োজন।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..