সর্বশেষ :
স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে দেশের প্রতিটি নাগরিককে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ডলফিনের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড চীন, সরানো হলো ১০ লাখের ‍অধিক মানুষ ইরান ইস্যুতে কার্টারের মতোই ফাঁদে পড়েছেন ট্রাম্প! আইসিসির ‘প্লেয়ার অফ দ্য মান্থ’ পুরস্কারের তালিকায় তানজিদ হরমুজ খোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা, বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম বাংলা কিউআর কোডে লেনদেন হবে ফ্রি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে রাজনৈতিক মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি : রিজভী আইসিসির সেরা ক্রিকেটারদের তালিকায় ম্যাথিউস-হারশিতা ও সিভার রদ্রিকে দলে ভেড়াতে মরিয়া বার্সেলোনা, অনিশ্চিত ডি ইয়ংয়ের ভবিষ্যৎ এশিয়ার তেলের বাজারের ‘ইরান-ধাক্কা’ একাই সামলে দিচ্ছে চীন

ড্রাগন চাষে প্রকৌশলী শাহীনের অভাবনীয় সাফল্য

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২২-০৯-১০, | ১০:৫৬:১৫ |

ড্রাগন ফল চাষ করে সাড়া ফেলেছেন সাতক্ষীরার সফটওয়্যার প্রকৌশলী শাহীনুর রহমান শাহীন। তিনি ২০ বিঘা বিলের জমিতে ড্রাগন চাষ করে নিজে যেমন লাভবান হয়েছেন, তেমনি এলাকার কিছু মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন।

শাহীন কলারোয়া উপজেলার তরুলিয়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক শওকাত আলীর ছেলে। তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে পাস করে চাকরির পেছনে ছোটেননি। ঢাকার শ্যামলীতে মিডিয়াসওয়ার লিমিটেড নামে সফটওয়্যার কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি সেই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থপনা পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন।

২০২০ সালে করোনা মহামারির মধ্যে লকডাউনে মানুষের ঘরে বন্দি থাকতে হয়। শাহীনের সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানও সাময়িক বন্ধ রাখতে হয়। সেই অবসরে ইউটিউব দেখে ড্রাগন চাষে আগ্রহী হয় শাহীন। তার কৃষিতে আগে থেকে আগ্রহ ছিল। এরপর পরিবারের অমত ও সামাজিক বাধা উপেক্ষা করে প্রথমে ১০ বিঘা জমিতে মাটি ভরাট করে ড্রাগন ফল চাষের উদ্যোগ নেন। সেখানে সফলও হন। তারপর কলারোয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের পরামর্শে সম্ভাবনা দেখে তিনি আরও ১০ বিঘা বিলের জমি ভরাট করে ড্রাগন চাষ শুরু করেন। এতে এখনও পর্যন্ত শাহীনের প্রায় ২ কোটি টাকা খরচ হয়েছে।

শাহীন পুরো প্রকল্পে পাইপ লাইন স্থাপন করে সেচের ব্যবস্থা করেছেন। চারিপাশে শক্ত বেড়া দিয়েছেন। পুরো প্রকল্পটি সিসি ক্যামেরা নিয়ন্ত্রিত। এক বছরের ব্যবধানে ২০২১ সালের মে থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত ৮ মাস ড্রাগন ফলশাহীনের বাবা শিক্ষক শওকাত আলী জানান, ছেলে বুয়েট থেকে ২০১৩ সালে সিএসই বিভাগে লেখাপড়া শেষ করেছে। এখন সে সফল ব্যবসায়ী। চাকরির পেছনে না ঘুরে সফটওয়্যার নির্মাণ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে। সেখানে ৩২ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। ড্রাগন ফলের প্রকল্পে নিয়মিত ১৫ জন কাজ করে।

জেলার তালা উপজেলার শুভাষিনী ডিগ্রি কলেজের কম্পিউটার ইনচার্জ মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি ও একই উপজেলার শ্রীমন্তকাটি গ্রামের মোহাম্মদ রেজাউল করিম বাবুল তুরুলিয়া গ্রামে আসেন ড্রাগন চাষ দেখতে। শাহীনের সাফল্য দেখে তারাও উৎসাহী হয়েছেন। তারা বলেন, এমন অত্যাধুনিক ড্রাগন চাষ প্রকল্প চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। তাদের প্রাথমিকভাবে কয়েক কাটা জমিতে ড্রাগন চাষ শুরু করার ইচ্ছা রয়েছে।

শাহীনুর রহমান শাহীন জানান, দুই বছরে ২০ বিঘা জমিতে ৫ হাজার সিমেন্টের পিলারে ২০ হাজার ড্রাগন গাছের চারা রোপন করেছেন। ১০ বিঘা জমিতে রোপণের প্রথম বছরেই ফল আসে। এরপর দ্বিতীয় বছরে আরও ১০ বিঘা জমিতে চাষ করেন। এখন প্রতি মাসে দেড় থেকে দুই হাজার কেজি ড্রাগন ফল বিক্রি করছেন তিনি।

শাহীন আরও বলেন, তিনি বেশিরভাগ সময় ঢাকায় অবস্থান করেন এবং সেখান থেকে সিসি টিভির মাধ্যমে ড্রাগন প্রকল্প পরিচালনা করেন। তার বাবা গ্রামে থেকে প্রকল্পটি দেখভাল করেন। তার জেলায় এটিই সবচেয়ে বড় ড্রাগন উৎপাদন প্রকল্প। তার এই সফলতা দেখে এখন অনেকে ড্রাগন চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

২০ বিঘার ড্রাগন বাগান আরও বাড়াতে চান এবং এ ফল বিদেশেও রফতানি করতে চান শাহীন। তোলা হয়। চলতি মৌসুমেও ক্ষেত থেকে গাছপাকা নিরাপদ ফল ২০০ টাকা কেজি দরে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা। সেই ব্যবসায়ীরা ফল পাঠিয়ে দিচ্ছেন সাতক্ষীরার বিভিন্ন বাজার, খুলনা শহর এবং ঢাকায়। গত দুই বছরে প্রায় ১৯ লাখ টাকার ফল বিক্রি করেছেন। তাছাড়া ‘ফলের আড়ৎ’ নামে শাহীনের ফেসবুক পেজ রয়েছে। কেউ চাইলে সেখান থেকে ফলের অর্ডার দিতে পারেন।


শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..