✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-১৭, | ২৩:২৩:০৮ |ইয়ারবাড এখন আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। রাস্তায় চলার সময় গান শোনা, ব্যায়াম করা, অনলাইনে কথা বলা কিংবা কাজের ফাঁকে অডিও শোনা প্রায় সব ক্ষেত্রেই অনেকেই দীর্ঘ সময় ইয়ারবাড ব্যবহার করেন। তবে দিনের পর দিন এভাবে কানে ইয়ারবাড লাগিয়ে রাখলে শ্রবণশক্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে বেশি শব্দে এবং দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহার করলে এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
ইয়ারবাডে কেন শ্রবণশক্তির ক্ষতি হতে পারে?
শুধু শব্দ কতটা জোরে বাজছে সেটিই গুরুত্বপূর্ণ নয়; কতক্ষণ এবং কতবার কানে সেই শব্দ পৌঁছাচ্ছে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ স্পিকারের তুলনায় ইয়ারবাড কানের পর্দার অনেক কাছাকাছি অবস্থান করে। ফলে বেশি ভলিউমে শব্দ শুনলে তা সরাসরি অন্তঃকর্ণে পৌঁছে শ্রবণ-সংক্রান্ত সংবেদনশীল কোষগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
অতিরিক্ত শব্দের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবে অন্তঃকর্ণের ক্ষুদ্র হেয়ার সেল বা শ্রবণকোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এই কোষগুলো শব্দকে বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তর করে মস্তিষ্কে পাঠাতে সাহায্য করে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, একবার এগুলো স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে গেলে স্বাভাবিকভাবে পুনরায় তৈরি হয় না।
অনেকে মাঝারি ভলিউমে ইয়ারবাড ব্যবহার করলেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা তা কানে লাগিয়ে রাখেন। এতে ব্যবহারের মধ্যবর্তী সময়ে কান পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ পায় না। আবার আশপাশের শব্দ বেশি হলে অনেক ব্যবহারকারী বাইরের আওয়াজ ঢেকে রাখতে ইয়ারবাডের ভলিউম আরও বাড়িয়ে দেন। এর ফলে শ্রবণশক্তির ওপর চাপ আরও বেড়ে যেতে পারে।
দীর্ঘদিন ইয়ারবাড ব্যবহারের আরেকটি সমস্যা হলো কানে অতিরিক্ত ময়লা বা কানের খৈল জমে যাওয়া। এর ফলে কান বন্ধ বা ভারী লাগতে পারে এবং সাময়িকভাবে শুনতে অসুবিধাও হতে পারে। তবে এটি স্থায়ী শ্রবণশক্তি হ্রাসের থেকে আলাদা সমস্যা।
গবেষণায় কী বলা হয়েছে?
২০২২ সালে কিউরিয়াস-এ প্রকাশিত একটি সাহিত্য পর্যালোচনায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ২৩টি গবেষণা বিশ্লেষণ করা হয়েছিল। সেখানে ব্যক্তিগত মিউজিক প্লেয়ার, ইয়ারফোন ও হেডফোন ব্যবহারের সঙ্গে শব্দজনিত শ্রবণ সমস্যার সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়। গবেষণাগুলোতে ব্যক্তিগত মিউজিক ডিভাইসের শব্দের মাত্রা ৭৮ থেকে ১৩৬ ডেসিবেল পর্যন্ত পাওয়া গেছে, যা দীর্ঘ সময় শোনা হলে কানের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
আরেকটি গবেষণায় দেখা যায়, প্রতিদিন দুই ঘণ্টা বা তার বেশি সময় ইয়ারফোন ব্যবহারকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার প্রবণতা তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল। অন্য একটি গবেষণায় কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে উচ্চ শব্দে হেডফোন ব্যবহারে অভ্যস্ত কিশোরদের শ্রবণ সমস্যার ঝুঁকি চার গুণেরও বেশি পাওয়া যায়।
প্রতিদিন কতক্ষণ ইয়ারবাড ব্যবহার করা উচিত?
ইয়ারবাড ব্যবহারের জন্য সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। কারণ ঝুঁকি নির্ভর করে শব্দের মাত্রা, ব্যবহারের সময় এবং কত ঘন ঘন ব্যবহার করা হচ্ছে এসব বিষয়ের ওপর। তবে শ্রবণস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে প্রচলিত একটি পরামর্শ হলো ‘৬০/৬০ নিয়ম’। অর্থাৎ ডিভাইসের সর্বোচ্চ ভলিউমের প্রায় ৬০ শতাংশের মধ্যে শব্দ রাখা এবং একটানা প্রায় ৬০ মিনিটের বেশি না শোনা। এরপর কিছু সময়ের জন্য ইয়ারবাড খুলে কানকে বিশ্রাম দেওয়া ভালো।
একটানা সারাদিন ইয়ারবাড কানে লাগিয়ে রাখার পরিবর্তে ব্যবহারের মাঝে নিয়মিত বিরতি নেওয়া বেশি নিরাপদ। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় উচ্চ শব্দে শোনার অভ্যাস এড়িয়ে চলা উচিত।
এদিকে জার্নাল অব অডিওলজি অ্যান্ড অটোলজি এ প্রকাশিত ২০২৫ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা একটানা এক ঘণ্টার বেশি সময় ইয়ারফোন ব্যবহার করেন, তাদের মধ্যে ইয়ারফোন-সম্পর্কিত কানের সংক্রমণের প্রবণতা তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে। তাই ইয়ারবাড পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন না হলেও কম ভলিউমে শোনা, দীর্ঘ সময় একটানা ব্যবহার না করা এবং নিয়মিত বিরতি নেওয়া শ্রবণস্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।