গোড়ালি মচকে গেলে অনেকেই এটিকে সাধারণ আঘাত মনে করে গুরুত্ব দেন না। কয়েক দিন পর ব্যথা বা ফোলা কমে গেলে স্বাভাবিক কাজেও ফিরে যান। কিন্তু আঘাতটি পুরোপুরি না সারলে দীর্ঘদিন পরও গোড়ালিতে ব্যথা, দুর্বলতা বা বারবার মচকে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
গোড়ালির আঘাত খুবই সাধারণ। হাঁটার সময় পা বেঁকে যাওয়া, খেলাধুলা করা বা অসমতল জায়গায় পা পড়ার কারণে গোড়ালির লিগামেন্টে টান লাগতে পারে বা ছিঁড়ে যেতে পারে। কখনো হাড় ভাঙা কিংবা পেশিকে হাড়ের সঙ্গে যুক্ত রাখা টেন্ডনেও আঘাত লাগতে পারে।
গোড়ালির আঘাতের লক্ষণ
গোড়ালি মচকে গেলে সাধারণত ব্যথা, ফোলা, কালশিটে দাগ এবং হাঁটতে কষ্ট হতে পারে। গোড়ালি দুর্বল বা নড়বড়ে লাগাও স্বাভাবিক। আঘাত গুরুতর হলে পায়ে ভর দেওয়া কঠিন হয়ে যেতে পারে। অনেক সময় মচকানো আর হাড় ভাঙার লক্ষণ কাছাকাছি হওয়ায় বিষয়টি সহজে বোঝা যায় না। তীব্র ব্যথা, অতিরিক্ত ফোলা, গোড়ালির আকৃতি বদলে যাওয়া বা পায়ে ভর দিতে না পারলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
কেন পুরোনো আঘাত থেকে সমস্যা হয়
গোড়ালির লিগামেন্ট পুরোপুরি শক্তি ফিরে না পেলে সেটি আগের মতো জয়েন্টকে ধরে রাখতে পারে না। ফলে গোড়ালি নড়বড়ে হয়ে যায় এবং হাঁটা বা দৌড়ানোর সময় আবার মচকে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। আঘাতের পর নিয়মিত ব্যায়াম ও পুনর্বাসন না করলেও গোড়ালির চারপাশের পেশি দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এতে শরীরের ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং অসমতল জায়গায় হাঁটার সময় গোড়ালি সহজেই বেঁকে যেতে পারে। বারবার আঘাত লাগলে জয়েন্টের ভেতরের তরুণাস্থিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দীর্ঘদিন এমন চলতে থাকলে গোড়ালিতে বাত বা আর্থ্রাইটিয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
যেসব লক্ষণ অবহেলা করা ঠিক নয়
আঘাতের পর নিচের সমস্যাগুলো থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো—
কয়েক দিন পরও ব্যথা বা ফোলা না কমা
হাঁটতে বা পায়ে ভর দিতে কষ্ট হওয়া
বারবার গোড়ালি মচকে যাওয়া
গোড়ালি নড়বড়ে বা দুর্বল মনে হওয়া
হাঁটা বা দৌড়ানোর সময় ব্যথা হওয়া
ব্যায়াম বা খেলাধুলার পর গোড়ালি ফুলে যাওয়া
গোড়ালির আকৃতি বদলে যাওয়া
পায়ের আঙুল অসাড়, ঠান্ডা বা নীলচে হয়ে যাওয়া
গোড়ালির সমস্যায় করণীয়
গোড়ালির পুরোনো আঘাতেরও চিকিৎসা সম্ভব। তবে কী ধরনের চিকিৎসা প্রয়োজন, তা নির্ভর করে আঘাতের ধরন ও বর্তমান সমস্যার ওপর। অনেক ক্ষেত্রেই অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয় না। ফিজিওথেরাপি, গোড়ালির পেশি শক্ত করার ব্যায়াম, ভারসাম্য বাড়ানোর অনুশীলন, প্রয়োজন অনুযায়ী গোড়ালির সাপোর্ট এবং উপযুক্ত জুতা ব্যবহারে উপকার পাওয়া যায়। তবে এসব চিকিৎসার পরও যদি গোড়ালি বারবার মচকে যায়, দীর্ঘদিন ব্যথা থাকে বা লিগামেন্টে গুরুতর ক্ষতি থাকে, তখন অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।
বহু বছর পরও কি চিকিৎসা সম্ভব
গোড়ালির আঘাত অনেক বছর আগের হলেও চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ থাকে। তবে সময় যত গড়ায়, সমস্যার কারণ খুঁজে বের করা তত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। পুরোনো আঘাতের কারণে লিগামেন্ট দুর্বল হয়ে গেছে কি না, জয়েন্টে কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না বা অন্য কোনো সমস্যা তৈরি হয়েছে, তা পরীক্ষা করে চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রয়োজনে চিকিৎসক এক্স-রে বা এমআরআই করতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রেই ফিজিওথেরাপি, নিয়মিত ব্যায়াম ও প্রয়োজনীয় সাপোর্টের মাধ্যমে গোড়ালির শক্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। গুরুতর ক্ষতি থাকলে অস্ত্রোপচারেরও প্রয়োজন হতে পারে।
গোড়ালির পুরোনো ব্যথা, দুর্বলতা বা বারবার মচকে যাওয়ার সমস্যা থাকলে সেটিকে স্বাভাবিক ভেবে ফেলে রাখা উচিত নয়। সময় পেরিয়ে গেলেও সঠিক চিকিৎসায় গোড়ালির সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
সূত্র: এনডিটিভি
এ জাতীয় আরো খবর..