একই কবরে চিরনিদ্রায় জোড়া লাগা যমজ বোন জয়নব-কুলসুম

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-১৩, | ১৪:৩৩:৪৪ |
সব চেষ্টা ব্যর্থ করে না-ফেরার দেশে চলে গেল কুষ্টিয়ার শরীর জোড়া লাগা যমজ দুই শিশু জয়নব ও উম্মে কুলসুম। তিন মাস বয়সী দুই বোনকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের বিলগাথুয়া গ্রামে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে একই কবরে দাফন করা হয়েছে। বুধবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে দুই শিশুর মরদেহ নিয়ে বাড়িতে পৌঁছান স্বজনেরা।

শিশু দুটির বাবা নাহিদ হাসান জানান, সোমবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর থেকেই তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। একপর্যায়ে শরীর নীল হয়ে যেতে শুরু করে। হাসপাতালে ভর্তির পর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে বুধবার তাদের আইসিইউতে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের প্রাণপণ চেষ্টার পরও শেষ রক্ষা হয়নি। বুধবার সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় দুই বোন।

তিনি আরও বলেন, ‘হাসপাতালের মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকেরা পূর্বের চিকিৎসার কাগজপত্র পর্যালোচনা করে জানিয়েছিলেন, দুই শিশুর হৃদপিণ্ডে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ধমনী ছিল না। ফলে জয়নব কিছুটা স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে পারলেও উম্মে কুলসুম তা পারছিল না। শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকায় সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত অস্ত্রোপচারের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না।’

শিশু দুটির চিকিৎসার বিষয়টি গণমাধ্যমে তুলে ধরায় গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি এবং সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন নাহিদ হাসান।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের বিলগাথুয়া মধ্যপাড়া গ্রামের নাহিদ হাসান (২৬) ও সানজিদা ইয়াছমিন মুক্তা (২২) দম্পতির ঘরে গত ৪ মে ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) জন্ম নেয় জয়নব ও উম্মে কুলসুম। জন্মের পর থেকেই তাদের বুক থেকে পেট পর্যন্ত অংশ পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত ছিল।

শিশু দুটির বিরল শারীরিক অবস্থার কথা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি সরকারের নজরে আসে। পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাদের চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। সরকারের ব্যবস্থাপনায় গত সোমবার তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সন্ধ্যায় মারা যায় দুই বোন।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..