বিশ্বের প্রথম ১০ ট্রিলিয়ন ডলারের কোম্পানি হওয়ার পথে এনভিডিয়া?

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-১৩, | ১৪:০৮:৫৫ |

মাত্র এক দশক আগেও সিলিকন ভ্যালির বাইরের মানুষের কাছে এনভিডিয়া নামটি ততটা পরিচিত ছিল না। স্রেফ কম্পিউটার গেমের গ্রাফিক্স কার্ড তৈরির মধ্যে সীমিত থাকা সেই সাধারণ প্রতিষ্ঠানটিই আজ পৃথিবীর সবচেয়ে দামি ও প্রভাবশালী সংস্থায় পরিণত হয়েছে। বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) যে জোয়ার বইছে, তার মূল ইঞ্জিন সরবরাহ করছে এই এনভিডিয়া। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ৫.৪ ট্রিলিয়ন ডলারে, আর বিগত পাঁচ বছরে এর শেয়ার দর বেড়েছে ৯৭৭ শতাংশের বেশি। এই অভাবনীয় সাফল্যের পর ওয়াল স্ট্রিটে এখন জোর আলোচনা চলছে, তবে কি এনভিডিয়া হতে যাচ্ছে বিশ্বের প্রথম ১০ ট্রিলিয়ন ডলারের মহা-প্রতিষ্ঠান?

উদ্বেগ আর কৌতুহলের কেন্দ্রে রয়েছে অর্থশাস্ত্রের একটি চিরন্তন নিয়ম। প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম সাধারণত খুব দ্রুত তার কার্যকারিতা ও আর্থিক মূল্য হারায়। কিন্তু এআই চিপের বাজারে এনভিডিয়া যেন অর্থশাস্ত্রের সেই পুরোনো নিয়মকেই বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক ত্রৈমাসিক আয় ৮১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা বার্ষিক হিসাবে প্রায় ৩৩০ বিলিয়ন ডলার ছুঁইছুঁই। বর্তমান প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী অর্থবছরে তাদের রাজস্ব আয় ৬৩০ বিলিয়ন ডলারের ঘর স্পর্শ করতে পারে। এটি কেবল বাজারমূল্যের উত্থান নয় বরং বিশ্ব অর্থনীতি কীভাবে পরিচালিত হবে; তার এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনকে নির্দেশ করে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ১০ ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছোঁয়ার অর্থ হলো বিশ্ব অর্থনীতি পুরোপুরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবকাঠামোর ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাওয়া।

এই অভাবনীয় অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করতে সম্প্রতি এনভিডিয়া অ্যাপোলো, কেকেআর, ব্ল্যাকরক এবং গোল্ডম্যান স্যাকসের মতো ওয়াল স্ট্রিটের নামিদামি অর্থলগ্নি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল অর্থায়ন চুক্তি করেছে। এর মাধ্যমে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এনভিডিয়ার চিপ সরাসরি কেনার বদলে ভাড়ায় বা লিজে নেওয়ার সুযোগ পাবে। প্রযুক্তি চিপের মতো দ্রুত পরিবর্তনশীল পণ্যের ওপর ভিত্তি করে এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দেওয়ার ঝুঁকি অনেক। 

তবে এনভিডিয়ার সিইও জেনসেন হুয়াংয়ের যুক্তি, তাদের তৈরি পুরোনো চিপগুলোর কার্যক্ষমতা মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ার পরও অবিশ্বাস্যভাবে বজায় থাকছে। যেমন, ছয় বছর পুরোনো এ১০০ চিপও এখনো বাজারে সমানভাবে চাহিদাসম্পন্ন। ক্যুডা সফটওয়্যার নিয়মিত আপডেট করার কারণে পুরোনো গ্রাফিক্স চিপগুলোকেও এআই কাজের উপযোগী রাখা সম্ভব হচ্ছে, যা এর বাজার দর কমতে দিচ্ছে না।

বর্তমানে এনভিডিয়া কেবল একজন চিপ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তারা পুরো এআই শিল্পের মূল আর্থিক মেরুদণ্ডে পরিণত হচ্ছে। ওপেনএআই, অ্যানথ্রোপিক, ইনটেল, কোরওয়েভ এবং নোকিয়ার মতো টেক জায়ান্ট ও স্টার্টআপগুলোর সঙ্গে আর্থিক বিনিয়োগ এবং পারস্পরিক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলেছে তারা। লিজ ব্যবস্থার মাধ্যমে যে বিশাল অঙ্কের মূলধন বাজারে ঢুকছে, তার বড় একটি অংশ ঘুরেফিরে এনভিডিয়ার ঘরেই রাজস্ব হিসেবে ফিরে আসছে। সত্তরের দশকে মাইক্রোসফট বা পরবর্তী সময়ে অ্যাপল যা করেছিল, এনভিডিয়া এখন তারচেয়েও ব্যাপক কিছু করছে। তবে এই আকাশচুম্বী সাফল্যের মাঝেও কিছু ঝুঁকি রয়ে গেছে। ভবিষ্যতে এআই মডেলগুলো যদি কম ক্ষমতাসম্পন্ন চিপে চলতে শেখে, কিংবা ডেটা সেন্টার অবকাঠামোর অতিরিক্ত খরচ বিশ্ববাজারে মন্দা আনে, তবে এনভিডিয়ার এই তাসের ঘর ধাক্কা খেতে পারে। 

সূত্র: এনডিটিভি

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..