✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-১৩, | ১৪:০৭:৩০ |মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন রক্ষার দাবিতে ফ্রান্সের অবস্থানকে ‘নির্লজ্জ ও দ্বিচারিতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডে ফ্রান্সের সমর্থন এবং ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনে তাদের অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি দেশটির নৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
ফ্রান্সসহ ২৬টি দেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কায়া কালাস ইরানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘটনায় নিন্দা জানানোর পর আরাগচি এ প্রতিক্রিয়া জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় আরাগচি বলেন, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে বিশ্বের অন্য দেশগুলোকে জ্ঞান দেওয়ার আগে ফ্রান্সের উচিত নিজেদের অবস্থান পর্যালোচনা করা। তিনি ফ্রান্সের এমন অবস্থানকে ‘নির্লজ্জ ও বিব্রতকর দ্বিচারিতা’ বলে মন্তব্য করেন।
আরাগচি বলেন, গাজায় ইসরায়েলের ‘গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ডে’ ফ্রান্সের সমর্থন এবং ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনে তাদের ভূমিকা দেশটির কথিত নৈতিক অবস্থানকে ধ্বংস করে দিয়েছে।
তার এই প্রতিক্রিয়া আসে ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতির পর। ওই বিবৃতিতে ফ্রান্সসহ ২৬টি দেশ এবং ইইউর পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান ইরানে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর এবং মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা ইরানকে মৃত্যুদণ্ডের প্রয়োগ বন্ধ এবং যাদের ‘বিচারবহির্ভূতভাবে আটক’ করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, তাদের মুক্তির আহ্বান জানান।
তবে ইরানের পক্ষ থেকে ফ্রান্সের এই সমালোচনাকে দ্বৈত নীতির উদাহরণ হিসেবে দেখা হয়েছে। তেহরানের অভিযোগ, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের রক্ষক হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করলেও গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের ভয়াবহ পরিণতির মধ্যেও ফ্রান্স দেশটির প্রতি সমর্থন অব্যাহত রেখেছে। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি আগ্রাসনের সময়ও ফ্রান্সের অবস্থান ছিল ইরানবিরোধী।
তেহরান এর আগেও বলে এসেছে, আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর অন্যদের নৈতিক শিক্ষা দেওয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নেই, যদি তারা গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত না করে এবং ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনকে সমর্থন করে। তথ্যসূত্র: তাসনিম নিউজ।