✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-১০, | ১৭:৩১:২৯ |কেউ বরফ ভাঙছেন, কেউ মাছ রাখার ড্রাম রং করছেন। ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করা হচ্ছে পল্টন ও ট্রাক। ককসিট দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ছোট ছোট পাত্র। সব প্রস্তুতি শেষ করে মাছ আহরণের অপেক্ষায় রাঙামাটি কাপ্তাই হ্রদের জেলেরা।
টানা তিন মাস ১৬ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে মঙ্গলবার মধ্যরাত ১২টা ১ মিনিট থেকে কাপ্তাই হ্রদে পুরোদমে মাছ আহরণ শুরু হচ্ছে। এ উপলক্ষে গত কয়েক দিন ধরে রাঙামাটি ফিশারিঘাটে মৎস্যজীবীদের মধ্যে কর্মচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। প্রায় ২৬ হাজার ৮৫৪ জেলে পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘ বেকার জীবন শেষে জাল হাতে হ্রদের পাড়ে মাছ আহরণের অপেক্ষায় রয়েছেন।
সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণ ও বাজারজাতকরণের ওপর দেওয়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাছের প্রজনন, বংশবৃদ্ধি এবং মা মাছের সুরক্ষায় প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমের আগে কাপ্তাই হ্রদে তিন মাসের জন্য মাছ আহরণ বন্ধ রাখা হয়। এ বছরও গত ২৪ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে মাছ আহরণ ও বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
নিষেধাজ্ঞার সময়ে কাপ্তাই হ্রদে প্রায় ৬০ মেট্রিক টন কার্পজাতীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এতে হ্রদে মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়বে।
বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) তথ্য অনুযায়ী, কাপ্তাই হ্রদে প্রায় ৪৫ প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। এর মধ্যে রয়েছে রুই, কাতলা, মৃগেল, চিতল, কালিবাউশ, বোয়াল, পাবদা, টেংরা, গজার, বাইম, শোল, টাকি, কৈ, আইড়, বাতাসি, বাটা, চাপিলা ও কেচকিসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ।
রাঙামাটি মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের ব্যবস্থাপক কমান্ডার মো. ফয়েস আল করিম বলেন, তিন মাস ১৬ দিন পর কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে। বন্ধকালীন সময়ে বিএফডিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মাছের সুরক্ষায় কাজ করেছেন। ফলে এবার হ্রদে মাছের উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় মাছের কিছুটা ক্ষতি হলেও বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা নেই। মাছ আহরণ শুরুকে কেন্দ্র করে ফিশারিঘাটে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে রাজস্ব আদায়ের মাধ্যমে মাছ আহরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হবে।
তিনি আরও জানান, রাঙামাটি ফিশারিঘাট ছাড়াও মারিশ্যা, কাপ্তাই ও মহালছড়িতে আরও তিনটি অবতরণকেন্দ্র রয়েছে। তবে কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণ শুরু হলেও অভয়াশ্রমগুলো আগের মতোই সংরক্ষিত থাকবে।