সর্বশেষ :
স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে দেশের প্রতিটি নাগরিককে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ডলফিনের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড চীন, সরানো হলো ১০ লাখের ‍অধিক মানুষ ইরান ইস্যুতে কার্টারের মতোই ফাঁদে পড়েছেন ট্রাম্প! আইসিসির ‘প্লেয়ার অফ দ্য মান্থ’ পুরস্কারের তালিকায় তানজিদ হরমুজ খোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা, বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম বাংলা কিউআর কোডে লেনদেন হবে ফ্রি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে রাজনৈতিক মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি : রিজভী আইসিসির সেরা ক্রিকেটারদের তালিকায় ম্যাথিউস-হারশিতা ও সিভার রদ্রিকে দলে ভেড়াতে মরিয়া বার্সেলোনা, অনিশ্চিত ডি ইয়ংয়ের ভবিষ্যৎ এশিয়ার তেলের বাজারের ‘ইরান-ধাক্কা’ একাই সামলে দিচ্ছে চীন

গাজা যুদ্ধের প্রভাব মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-০৩, | ১১:২৮:৫১ |

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদকে ঘিরে আরব-আমেরিকানদের মধ্যে ব্যাপক আশাবাদ তৈরি হয়েছে। তাদের বিশ্বাস, তিনি জয়ী হলে তা হবে একটি ‘ঐতিহাসিক’ অর্জন। তবে তার বিরুদ্ধে ইসরায়েলপন্থী শক্তিশালী লবি আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি (এআইপ্যাক) কোটি কোটি ডলার ব্যয় করে প্রচারণা চালাচ্ছে।

মিশিগানের ডিয়ারবর্ন শহর যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ আরব-আমেরিকান জনগোষ্ঠীর বসবাস সেখানে আবদুল এল-সায়েদের প্রতি সমর্থন ক্রমেই বাড়ছে। সমর্থকদের মতে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিদেশের যুদ্ধে ব্যয় না করে স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও স্থানীয় উন্নয়নে বিনিয়োগ করতে চান।

মিশিগানের স্থানীয় অধিকারকর্মী সুহাইলা আমেন বলেন, ফিলিস্তিন ও লেবাননে দীর্ঘদিনের যুদ্ধ এবং ধ্বংসযজ্ঞ আরব-আমেরিকানদের গভীরভাবে আহত করেছে। তিনি বলেন,‘আবদুল এল-সায়েদের জয় হলে তা হবে ঐতিহাসিক। এটি দেখাবে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সব রাজনীতিক ইসরায়েলের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেন না।’

মিশিগানে ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে এল-সায়েদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেসওম্যান হ্যালি স্টিভেন্স, যিনি প্রকাশ্যে ইসরায়েলপন্থী অবস্থানের জন্য পরিচিত। এআইপ্যাক ও অন্যান্য ইসরায়েলপন্থী সংগঠন তার পক্ষে ৫ কোটি ডলারেরও বেশি ব্যয় করেছে।

অন্যদিকে, মিসরের বংশোদ্ভূত চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আবদুল এল-সায়েদ গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে 'গণহত্যা' হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের অর্থ বিদেশি যুদ্ধে নয়, বরং দেশের জনগণের কল্যাণে ব্যয় হওয়া উচিত।

এল-সায়েদের সমর্থনে রয়েছেন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স, কংগ্রেসওম্যান আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ (এওসি) এবং অন্যান্য প্রগতিশীল নেতা। অন্যদিকে, হ্যালি স্টিভেন্সকে সমর্থন দিয়েছেন মিশিগানের গভর্নর গ্রেচেন হুইটমার ও সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার।

বিশ্লেষকদের মতে, মিশিগানের এই নির্বাচন এখন শুধু একটি সিনেট আসনের লড়াই নয়; বরং ইসরায়েল-ফিলিস্তিন প্রশ্নে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অভ্যন্তরীণ বিভক্তিরও প্রতীক হয়ে উঠেছে।

প্রচারণার সময় এল-সায়েদকে ধর্ম ও জাতিগত পরিচয় ঘিরেও আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছে। তবে তিনি বলেছেন, ভোটাররা তার নাম বা ধর্ম নয়, বরং তার নীতি ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতাকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন।

আগামী মঙ্গলবার ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারির ফল নির্ধারণ করবে, নভেম্বরে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের বিরুদ্ধে কে লড়বেন। অনেক বিশ্লেষকের মতে, সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পুনরুদ্ধারে ডেমোক্র্যাটদের জন্য মিশিগানের এই আসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..