সর্বশেষ :
স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে দেশের প্রতিটি নাগরিককে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ডলফিনের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড চীন, সরানো হলো ১০ লাখের ‍অধিক মানুষ ইরান ইস্যুতে কার্টারের মতোই ফাঁদে পড়েছেন ট্রাম্প! আইসিসির ‘প্লেয়ার অফ দ্য মান্থ’ পুরস্কারের তালিকায় তানজিদ হরমুজ খোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা, বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম বাংলা কিউআর কোডে লেনদেন হবে ফ্রি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে রাজনৈতিক মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি : রিজভী আইসিসির সেরা ক্রিকেটারদের তালিকায় ম্যাথিউস-হারশিতা ও সিভার রদ্রিকে দলে ভেড়াতে মরিয়া বার্সেলোনা, অনিশ্চিত ডি ইয়ংয়ের ভবিষ্যৎ এশিয়ার তেলের বাজারের ‘ইরান-ধাক্কা’ একাই সামলে দিচ্ছে চীন

অবিশ্বাস্য জয়ে জিএসএল চ্যাম্পিয়ন গায়ানা

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-০২, | ১৪:০২:৫৩ |

মাত্র ৮৫ রানে অলআউট হওয়ার পরও বল হাতে অসাধারণ প্রত্যাবর্তন করে সান ফ্রান্সিসকো ইউনিকর্নসকে ৭৯ রানে গুটিয়ে দিয়ে ছয় রানের অবিশ্বাস্য জয় তুলে নিয়েছে গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্স। এর মধ্য দিয়েই প্রথমবারের মতো গ্লোবাল সুপার লিগের (জিএসএল) শিরোপা জিতে নেয় গায়ানা।

প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিলেও শুরু থেকেই বিপর্যয়ে পড়ে গায়ানা। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই ফিরে যান জনসন চার্লস। পরের বলগুলোতেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে দলটি।

রাহমানউল্লাহ গুরবাজ করেন ৮ রান, মোহাম্মদ হারিস ৬, শিমরন হেটমায়ার ৪, মোহাম্মদ নবী ২, অধিনায়ক রোভম্যান পাওয়েল ২ এবং গুডাকেশ মোতি ২ রান করে সাজঘরে ফেরেন। ৮.৫ ওভারে রোমারিও শেফার্ড রানআউট হলে মাত্র ২৯ রানেই ৮ উইকেট হারিয়ে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় গায়ানার ইনিংস।

এমন সংকটের সময় ইনিংস পুনর্গঠনের দায়িত্ব নেন ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস ও ম্যাথিউ ফোর্ড। নবম উইকেটে দুজন মিলে ৪১ রানের মূল্যবান জুটি গড়ে দলকে কিছুটা লড়াই করার মতো অবস্থানে নিয়ে যান। ফোর্ড ২৩ বলে ২৮ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল দুটি চার ও দুটি ছক্কা। অন্য প্রান্তে প্রিটোরিয়াস ৩০ বলে অপরাজিত ১৭ রান করেন। শেষদিকে ইমরান তাহির ১১ রান যোগ করলে ১৮.৫ ওভারে ৮৫ রানে অলআউট হয় গায়ানা।

সান ফ্রান্সিসকোর হয়ে পিটার সিডল ও অনিরুদ্ধ ইমানুয়েল তিনটি করে উইকেট নেন। সিডল চার ওভারে ১৮ রান দিয়ে তিন উইকেট শিকার করেন, আর ইমানুয়েল চার ওভারে মাত্র ৭ রান খরচায় তিন ব্যাটারকে ফেরান। এছাড়া ফ্যাবিয়ান অ্যালেন, ক্যালাম স্টো এবং করিমা গোর একটি করে উইকেট নেন।

মাত্র ৮৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই গায়ানার পেসারদের আক্রমণের মুখে পড়ে ইউনিকর্নস। ইনিংসের প্রথম বলেই টিম রবিনসনকে ফিরিয়ে দেন ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস। এরপর গুডাকেশ মোতির বলে আউট হন কনর এস্টারহুইজেন। অধিনায়ক হাসান খান কিছুটা আক্রমণাত্মক শুরু করলেও প্রিটোরিয়াসের শিকার হয়ে ফেরেন ৯ রান করে।

দলকে আশা দেখাচ্ছিলেন অলিভার পিক। ২৮ বলে ৩১ রানের ইনিংসে তিনি তিনটি চার ও একটি ছক্কা মারেন। তবে অপর প্রান্ত থেকে নিয়মিত উইকেট পড়তে থাকায় সেই ইনিংস বড় হতে পারেনি। সঞ্জয় কৃষ্ণমূর্তি ২৪ বলে ৯ রান করেন, আর হ্যামাদ আজম, করিমা গোরে ও অনিরুদ্ধ ইমানুয়েল কেউই উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারেননি।

ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন মোহাম্মদ নবী ও ইমরান তাহির। নবী চার ওভারে মাত্র ১২ রান দিয়ে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন। তাহিরও চার ওভারে ১৬ রান খরচায় দুটি উইকেট নিয়ে ইউনিকর্নসের রান তোলার গতি পুরোপুরি থামিয়ে দেন। ১১.১ ওভারে অলিভার পিক আউট হওয়ার পর মাত্র দুই বলের ব্যবধানে আরও একটি উইকেট হারিয়ে ৫৮ রানে ৮ উইকেট হারায় ইউনিকর্নস।

শেষদিকে পিটার সিডল কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। তিনি অপরাজিত ১৩ রান করেন। তবে অপর প্রান্তে উইকেট পড়তে থাকায় সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি। শেষ ব্যাটার ক্যালাম স্টো রানআউট হলে ১৮.৩ ওভারে ৭৯ রানেই শেষ হয়ে যায় ইউনিকর্নসের ইনিংস।

গায়ানার হয়ে ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস তিন ওভারে ২৪ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন এবং ব্যাট হাতে অপরাজিত ১৭ রান যোগ করে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন। মোহাম্মদ নবীও তিন উইকেট নিয়ে জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এছাড়া ইমরান তাহির দুটি এবং গুডাকেশ মোতি একটি উইকেট নেন।

পুরো টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে মোহাম্মদ নবী টুর্নামেন্টসেরার পুরস্কার জিতেছেন। তিনি ব্যাট হাতে ৫৩ রান করার পাশাপাশি বল হাতে নিয়েছেন ১০ উইকেট।

মাত্র ৮৫ রানের পুঁজি নিয়ে টি-টোয়েন্টি ফাইনাল জেতা বিরল ঘটনা। কিন্তু গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্স দেখিয়ে দিল, শিরোপা জিততে সবসময় বড় স্কোরের প্রয়োজন হয় না।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..