✕

সর্বশেষ :
জার্মানিতে বিপজ্জনক ছায়াযুদ্ধের শঙ্কা রাহুল গান্ধীর আবেদনে ১৪ ত্রুটি ধরল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বাংলাদেশ-ইউএই যৌথ উদ্যোগে কক্সবাজারে সুপেয় পানি প্রকল্পের প্রস্তাব দিলেন এলজিআরডি মন্ত্রী মেহেরপুরে বাসের ধাক্কায় ভ্যানচালক নিহত পাকিস্তান সিরিজে শ্রীলঙ্কার টেস্ট দল ঘোষণা, অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস আরব আমিরাতে শ্রমবাজার ও নতুন সুযোগের সম্ভাবনা নিয়ে মাহ্দী আমিন-রাষ্ট্রদূতের বৈঠক কুমিল্লায় সকালে হাঁটতে বেরিয়ে গাড়িচাপায় স্বামী ও স্ত্রী নিহত কাদের মির্জা ও তার স্ত্রী-ছেলের বিরুদ্ধে দুদকের ৩ মামলা অবিবাহিতদের সবচেয়ে বেশি রাগিয়ে দেয় যেসব কথা দুর্গাপূজায় নৌপথে নিরাপত্তায় ১৬ নির্দেশনা

তার আশায় গুড়ে বালি

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-২৯, | ১৩:৫৬:০৪ |

ইরানের ক্ষমতার পট পরিবর্তনের আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আবার উঠে এসেছিলেন দেশটির শেষ শাহের পুত্র রেজা পাহলভি। ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর প্রায় সাড়ে চার দশক ধরে নির্বাসনে থাকা পাহলভি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ও আন্তর্জাতিক মঞ্চকে কাজে লাগিয়ে নিজেকে ইরানের পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন নেতা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা চালান। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অনীহা, বিরোধীদের মধ্যকার বিভাজন এবং অর্থদাতাদের অসন্তোষের কারণে তার সেই প্রচেষ্টা বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে।

সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা এবং পরবর্তী পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে রেজা পাহলভি বিশ্ব দরবারে নিজের অবস্থান শক্ত করার জোর প্রয়াস চালান। তিনি ঘোষণা দেন, ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের পতন হলে তিনি ইরানের ক্ষমতা হস্তান্তরের অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত। তিনি নিজের এই ভূমিকাকে কোনো স্থায়ী শাসক হিসেবে নয় বরং গণতন্ত্রে পৌঁছানোর একটি সেতু হিসেবে বর্ণনা করেন। এই উদ্দেশ্যে তিনি পশ্চিমা বিশ্বের বিভিন্ন রাজধানীতে সফর করেন, প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং নিজের প্রচারণার জন্য তহবিল সংগ্রহ করেন। মার্কিন রক্ষণশীল রাজনৈতিক সম্মেলনে দেওয়া তার বক্তব্য পাহলভিপন্থী ও ইরানি-আমেরিকানদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছিল।

তবে সেই রাজনৈতিক উদ্যম বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন শেষ পর্যন্ত পাহলভিকে ইরানের পরবর্তী শাসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার ব্যাপারে কোনো আগ্রহ দেখায়নি। স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন, পাহলভি ব্যক্তিগতভাবে ভালো মানুষ হলেও নিজ দেশের জনগণের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা কতটা, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। পরবর্তীতে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতেও শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের কোনো শর্ত রাখা হয়নি এবং মার্কিন শীর্ষ নেতৃত্ব স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় যে পাহলভিকে ক্ষমতায় বসানো তাদের লক্ষ্যের অংশ নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের এই দূরত্বের পাশাপাশি বিরোধীদের নিজস্ব বিভাজনও পাহলভির পথকে কঠিন করে তুলেছে। রাজতন্ত্রকামী, প্রজাতন্ত্রকামী, ধর্মনিরপেক্ষ আন্দোলনকারী এবং বিভিন্ন জাতিগত গোষ্ঠীর সমন্বয়ে গঠিত বিরোধী শিবিরগুলো ইসলামিক শাসনের অবসান চাইলেও পরবর্তী ইরানের নেতৃত্ব কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে একমত হতে পারেনি। বারবার প্রচেষ্টা সত্ত্বেও বিরোধী জোটগুলোকে এক ছাতার নিচে আনতে ব্যর্থ হয়েছেন পাহলভি। একই সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সমর্থকদের কিছু আক্রমণাত্মক মন্তব্য ও কৌশল নিয়ে প্রধান অর্থদাতাদের মধ্যেও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়।

তা সত্ত্বেও রেজা পাহলভি দাবি করছেন, ইরানের ভেতরের সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন নেটওয়ার্কের সঙ্গে তার সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে এবং দেশটির বর্তমান শাসকগোষ্ঠী ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। তবে আন্তর্জাতিক সমর্থনের অভাব এবং নিজস্ব শিবিরের অভ্যন্তরীণ কোন্দল কাটিয়ে তিনি কতটা এগোতে পারবেন, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকদের মনে গভীর সংশয় রয়ে গেছে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..