সর্বশেষ :
স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে দেশের প্রতিটি নাগরিককে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ডলফিনের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড চীন, সরানো হলো ১০ লাখের ‍অধিক মানুষ ইরান ইস্যুতে কার্টারের মতোই ফাঁদে পড়েছেন ট্রাম্প! আইসিসির ‘প্লেয়ার অফ দ্য মান্থ’ পুরস্কারের তালিকায় তানজিদ হরমুজ খোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা, বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম বাংলা কিউআর কোডে লেনদেন হবে ফ্রি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে রাজনৈতিক মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি : রিজভী আইসিসির সেরা ক্রিকেটারদের তালিকায় ম্যাথিউস-হারশিতা ও সিভার রদ্রিকে দলে ভেড়াতে মরিয়া বার্সেলোনা, অনিশ্চিত ডি ইয়ংয়ের ভবিষ্যৎ এশিয়ার তেলের বাজারের ‘ইরান-ধাক্কা’ একাই সামলে দিচ্ছে চীন

ইয়েমেনে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব, দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থায় বাড়ছে উদ্বেগ

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-২৬, | ২২:৫৪:৫৬ |

ইয়েমেনে আবারও ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়ছে মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বর। ক্রমবর্ধমান সংক্রমণ ঠেকাতে দেশটির স্বাস্থ্যকর্মীরা মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আক্রান্তদের চিকিৎসায় ব্যাপক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

বন্দরনগরী মুকাল্লার ঘনবসতিপূর্ণ আল-কুদ এলাকায় স্বাস্থ্যকর্মীদের একটি দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে মশার লার্ভার সন্ধান করছে। প্রচণ্ড গরম ও আর্দ্রতার মধ্যেও তারা জমে থাকা পানি, খোলা পানির ট্যাংক ও ড্রেন পরীক্ষা করে ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার বাহক মশার প্রজননস্থল শনাক্ত করছে।

জাতীয় ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির (এনএমসিপি) কর্মকর্তা সালেম বিন শাবজ জানান, অনেক এলাকায় অভিযান চালানোর পরও মশার প্রজননস্থল পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব হচ্ছে না। খোলা পানির ট্যাংক ও জমে থাকা নোংরা পানি এখনো মশার বংশবিস্তারের বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, 'পানির ট্যাংক ঢেকে রাখার মতো ছোট একটি পদক্ষেপও ডেঙ্গু প্রতিরোধে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।'

ইয়েমেনের সরকারি নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত ৭ হাজার ৮১৫টি সন্দেহভাজন ডেঙ্গু আক্রান্তের তথ্য পাওয়া গেছে। এ সময়ে মারা গেছেন অন্তত ৩৩ জন। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে হাদরামাউত প্রদেশে, যেখানে ২ হাজার ২০৪টি কেস শনাক্ত হয়েছে। এরপর রয়েছে এডেন, আবিয়ান, শাবওয়া ও তাইজ প্রদেশ।

দীর্ঘদিনের যুদ্ধ, অর্থনৈতিক সংকট ও দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থার কারণে ডেঙ্গুর এই প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। দেশটির হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বাড়ছে, অথচ চিকিৎসা অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ঘাটতি রয়েছে।

মুকাল্লার সরকারি ইবনে সিনা হাসপাতালের ল্যাব প্রধান মোহাম্মদ ওমর জানান, মে মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি থাকাকালে এক দিনে ৬০টির বেশি সন্দেহভাজন রোগীর নমুনা পরীক্ষা করতে হয়েছে।

স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, অনেক রোগী দেরিতে হাসপাতালে আসছেন। অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে কেউ কেউ চিকিৎসা নিতে দেরি করছেন, আবার অনেকে শুরুতে ডেঙ্গুর উপসর্গকে সাধারণ জ্বর ভেবে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। ফলে কিছু রোগী গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।

হাদরামাউত বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক আবদুল্লাহ বিন ঘৌথ জানান, ইয়েমেনে ডেঙ্গু এখন প্রায় স্থায়ী রোগে পরিণত হয়েছে। এর নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই এবং প্রতিরোধের জন্য কার্যকর ভ্যাকসিনও সহজলভ্য নয়। ফলে মশা নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: আল জাজিরা

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..