সর্বশেষ :
স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে দেশের প্রতিটি নাগরিককে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ডলফিনের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড চীন, সরানো হলো ১০ লাখের ‍অধিক মানুষ ইরান ইস্যুতে কার্টারের মতোই ফাঁদে পড়েছেন ট্রাম্প! আইসিসির ‘প্লেয়ার অফ দ্য মান্থ’ পুরস্কারের তালিকায় তানজিদ হরমুজ খোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা, বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম বাংলা কিউআর কোডে লেনদেন হবে ফ্রি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে রাজনৈতিক মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি : রিজভী আইসিসির সেরা ক্রিকেটারদের তালিকায় ম্যাথিউস-হারশিতা ও সিভার রদ্রিকে দলে ভেড়াতে মরিয়া বার্সেলোনা, অনিশ্চিত ডি ইয়ংয়ের ভবিষ্যৎ এশিয়ার তেলের বাজারের ‘ইরান-ধাক্কা’ একাই সামলে দিচ্ছে চীন

বিশ্বকাপ ফাইনালের আলোচনায় কেন ইসরায়েল-ফিলিস্তিন প্রসঙ্গ?

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-১৯, | ২৩:১৭:২৭ |
বিশ্বকাপ ফাইনাল মানেই ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই। তবে আজ নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচকে ঘিরে মাঠের বাইরেও চলছে ভিন্ন এক আলোচনা। দুই দেশের সরকারপ্রধানের বিপরীতমুখী অবস্থান, কয়েকজন আলোচিত ব্যক্তিত্বের মন্তব্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিতর্কের কারণে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুও এই ম্যাচের আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছে।

আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার এই বিভাজনের মূলে রয়েছে দুই দেশের রাষ্ট্রনেতাদের ইসরায়েল-ফিলিস্তিন বিষয়ক বিপরীতমুখী পররাষ্ট্রনীতি। আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ে মাইলেই ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ইসরায়েলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মিত্রে পরিণত হয়েছেন। অন্যদিকে, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের অন্যতম কড়া সমালোচক এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতির জোরালো সমর্থক।

এই রাজনৈতিক মেরুকরণ সরাসরি মাঠের বাইরের সমীকরণে প্রভাব ফেলেছে। সম্প্রতি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে আর্জেন্টিনার প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, ‘আমরা আর্জেন্টিনার পাশে আছি। আগামীকালের ম্যাচের জন্য তাদের শুভকামনা।’ অন্যদিকে স্পেনে লামিন ইয়ামালের ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে উদযাপনের ছবি নতুন করে আলোচনায় আসে। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই ম্যাচটিকে দুই ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতীক হিসেবে দেখার চেষ্টা করছেন।

আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক নিয়েও অতীতে বিভিন্ন সময় আলোচনা হয়েছে। অন্যদিকে লা লিগা জয়ের উৎসবে ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে দেখা গিয়েছিল স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালকে। এই দুই ঘটনার কারণে সমর্থকদের একটি অংশ ম্যাচটিকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও ব্যাখ্যা করছে।

তবে বাস্তবতা হলো, মাঠে নামা ২২ ফুটবলারের লড়াই কোনো রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির প্রতিনিধিত্ব করে না। বিশ্বকাপের ফাইনাল মূলত ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণের মঞ্চ। তারপরও বিশ্বের বড় রাজনৈতিক ইস্যুগুলো প্রায়ই খেলাধুলার আলোচনায় জায়গা করে নেয়, আর এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শেষ পর্যন্ত শিরোপা নির্ধারণ হবে ফুটবলীয় দক্ষতা, কৌশল ও পারফরম্যান্সে। কিন্তু ম্যাচের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেটি দেখিয়ে দিয়েছে আধুনিক বিশ্বে খেলাধুলা অনেক সময় মাঠের সীমানা ছাড়িয়ে বৃহত্তর বৈশ্বিক বাস্তবতার সঙ্গেও জড়িয়ে পড়ে। তাই আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনাল শুধু ফুটবলীয় উত্তেজনার জন্য নয়, মাঠের বাইরের নানা আলোচনার কারণেও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..