সর্বশেষ :
স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে দেশের প্রতিটি নাগরিককে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ডলফিনের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড চীন, সরানো হলো ১০ লাখের ‍অধিক মানুষ ইরান ইস্যুতে কার্টারের মতোই ফাঁদে পড়েছেন ট্রাম্প! আইসিসির ‘প্লেয়ার অফ দ্য মান্থ’ পুরস্কারের তালিকায় তানজিদ হরমুজ খোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা, বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম বাংলা কিউআর কোডে লেনদেন হবে ফ্রি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে রাজনৈতিক মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি : রিজভী আইসিসির সেরা ক্রিকেটারদের তালিকায় ম্যাথিউস-হারশিতা ও সিভার রদ্রিকে দলে ভেড়াতে মরিয়া বার্সেলোনা, অনিশ্চিত ডি ইয়ংয়ের ভবিষ্যৎ এশিয়ার তেলের বাজারের ‘ইরান-ধাক্কা’ একাই সামলে দিচ্ছে চীন

আইডিয়া বাতিল করেছিল স্টারবাকস, পরে পুরো কোম্পানিই কিনে নেন তিনি

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-১৫, | ১১:৩৮:১৫ |

১৯৮৩ সাল। হাওয়ার্ড শুল্টজ তখন স্টারবাকস-এর মার্কেটিং ডিরেক্টর। ব্যবসার কাজে তিনি ইতালির মিলানে যান। সেখানে একটি ছোট কফির দোকানে ঢুকে তিনি অবাক হয়ে যান। দোকানে কোনো টেবিল বা মেন্যু নেই। কিন্তু কফি প্রস্তুতকারক সবার নাম জানেন। খুব দ্রুত কাজ করছেন, যেন কোনো পারফরম্যান্স! মানুষ সেখানে শুধু কফি পান করছে না, সুন্দর একটা সময়ও কাটাচ্ছে।

শুল্টজ ভাবলেন, এমন দোকান যুক্তরাষ্ট্রে কেন নেই? দেশে ফিরে তিনি তার বসকে একটা প্রস্তাব দিলেন। বললেন, ‘আমাদের শুধু কফির বীজ বিক্রি করা বন্ধ করা উচিত। কফি খাওয়ার আনন্দ বা অনুভূতিটা বিক্রি করতে হবে। কিন্তু বস সোজা ‘না’ বলে দিলেন। শুল্টজ অনেক হিসাব-নিকাশ নিয়ে আবার গেলেন। বস এবারও রাজি হলেন না। কারণ, স্টারবাকস-এর মালিকরা শুধু কফির বীজই বিক্রি করতে চেয়েছিলেন।

এরপর শুল্টজ চাকরি ছেড়ে দিলেন! পরিচিতদের কাছ থেকে ৪ লাখ ডলার জোগাড় করে সিয়াটলে একটি কফির দোকান খুললেন। নাম দিলেন ‘ইল জোর্নালি’। অনেকেই তাকে বোকা ভেবেছিল। কিন্তু তার দোকানটি দারুণ চলল। মাত্র দুই বছরে তার তিনটি শাখা হলো। প্রতিদিন কফি নিতে লম্বা লাইন পড়ত।

এরপর এল ১৯৮৭ সাল। স্টারবাকস-এর মালিকরা সব বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। দাম চাইলেন ৩৮ লাখ ডলার। শুল্টজ মাত্র ছয় সপ্তাহের মধ্যে এই টাকা জোগাড় করলেন। এরপর যেই কোম্পানি তাকে দুবার ফিরিয়ে দিয়েছিল, তিনি সেই কোম্পানিটিই কিনে নিলেন!

শুল্টজ তার ‘ইল জোর্নালি’ শাখাগুলোকে স্টারবাকস-এর সাথে একীভূত করলেন এবং সাথে সাথেই ব্যবসার ধরন পুরোপুরি পালটে দিলেন। দোকানে বাজতে লাগল মৃদু সুরের গান, বসল আরামদায়ক চেয়ার, আর কফির কাপে হাতে লেখা হতে লাগল ক্রেতার নাম। এটি শুধু কফির দোকান রইল না। হয়ে উঠল বাড়ি ও অফিসের মাঝের এক আরামের জায়গা।

দশ বছরে স্টারবাকস-এর ১ হাজার শাখা তৈরি হয়। বর্তমানে ৮৪টি দেশে তাদের ৩৬ হাজার শাখা রয়েছে! আসল কথা হলো— আগের মালিকরা শুধু কফি বুঝতেন, আর শুল্টজ মানুষকে বুঝেছিলেন। ব্যবসায় যে ব্যক্তি মানুষের মন বোঝেন, তিনি সবসময় জয়ী হন।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..