সর্বশেষ :
স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে দেশের প্রতিটি নাগরিককে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ডলফিনের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড চীন, সরানো হলো ১০ লাখের ‍অধিক মানুষ ইরান ইস্যুতে কার্টারের মতোই ফাঁদে পড়েছেন ট্রাম্প! আইসিসির ‘প্লেয়ার অফ দ্য মান্থ’ পুরস্কারের তালিকায় তানজিদ হরমুজ খোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা, বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম বাংলা কিউআর কোডে লেনদেন হবে ফ্রি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে রাজনৈতিক মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি : রিজভী আইসিসির সেরা ক্রিকেটারদের তালিকায় ম্যাথিউস-হারশিতা ও সিভার রদ্রিকে দলে ভেড়াতে মরিয়া বার্সেলোনা, অনিশ্চিত ডি ইয়ংয়ের ভবিষ্যৎ এশিয়ার তেলের বাজারের ‘ইরান-ধাক্কা’ একাই সামলে দিচ্ছে চীন

বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ইবাদত

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-১২, | ১০:১৯:৩০ |
প্রকৃতি মহান আল্লাহ তাআলার অসীম কুদরতের এক অনন্য নিদর্শন। কখনো নির্মল আকাশ, স্নিগ্ধ বৃষ্টি ও সবুজ শ্যামল প্রকৃতি মানুষের জীবনে শান্তি ও সমৃদ্ধির বার্তা নিয়ে আসে; আবার কখনো অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও ভয়াবহ বন্যা মানুষের জীবনকে বিপর্যস্ত করে তোলে। মুহূর্তের মধ্যেই জনপদ পরিণত হয় জলরাশিতে, ভেঙে যায় ঘরবাড়ি, তলিয়ে যায় ফসলের ক্ষেত, ধ্বংস হয় জীবিকার অবলম্বন এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়। ক্ষুধা, তৃষ্ণা, রোগব্যাধি ও অনিশ্চয়তার অন্ধকারে তাদের প্রতিটি দিন হয়ে ওঠে এক কঠিন সংগ্রাম।

এমন সময়ে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো কেবল মানবিক সহানুভূতির বহিঃপ্রকাশ নয়; বরং এটি একজন মুমিনের ঈমানের দাবি।
মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘তোমরা নেককাজ ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে একে অপরকে সহযোগিতা করো; পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে সহযোগিতা করো না।’ (সুরা : মায়েদা, আয়াত : ২)

এই আয়াত ইসলামী সমাজব্যবস্থার একটি মৌলিক নীতি ঘোষণা করেছে। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খাদ্য, আশ্রয়, চিকিত্সা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসা নিঃসন্দেহে সত্কাজের অন্তর্ভুক্ত। তাই বন্যাকবলিত মানুষের সাহায্যে অংশগ্রহণ করা কেবল একটি সামাজিক দায়িত্ব নয়; এটি আল্লাহর নির্দেশ পালনও বটে।

কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তাআলা সাহাবায়ে কেরামের আত্মত্যাগের প্রশংসা করে বলেন, ‘তারা নিজেরা অভাবগ্রস্ত হলেও অন্যদেরকে নিজেদের ওপর অগ্রাধিকার দেয়।’ (সুরা : হাশর, আয়াত : ৯)

এই মহান চরিত্রই একজন প্রকৃত মুসলমানের পরিচয়। নিজের স্বাচ্ছন্দ্যের কিছু অংশ ত্যাগ করে বন্যার্ত মানুষের মুখে অন্ন তুলে দেওয়া, তাদের জন্য বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা—এই আয়াতেরই বাস্তব প্রতিফলন।
রাসুলুল্লাহ (সা.) মানবসেবার মর্যাদা বর্ণনা করে বলেন, ‘যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণে নিয়োজিত থাকে, আল্লাহ তাআলা তার প্রয়োজন পূরণ করেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৪৪২; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৫৮০)

আল্লাহর সাহায্য লাভের অন্যতম উপায় হলো মানুষের উপকার করা। তাই বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানে আল্লাহর রহমত ও সাহায্য লাভের পথ সুগম করা। অন্য একটি প্রসিদ্ধ হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,

‘পারস্পরিক ভালোবাসা, দয়া ও সহমর্মিতায় মুমিনরা একটি দেহের ন্যায়। দেহের একটি অঙ্গ ব্যথিত হলে সমগ্র দেহ জেগে থাকে এবং কষ্ট অনুভব করে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬০১১)

এই হাদিস আমাদের শিক্ষা দেয়, দেশের এক প্রান্তে মানুষ যখন বন্যায় অসহায়, তখন অন্য প্রান্তের মুসলমান নিশ্চিন্ত থাকতে পারে না। তাদের কষ্ট অনুভব করা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করা ঈমানেরই দাবি।

রাসুলুল্লাহ (সা.) আরো ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের একটি দুনিয়াবি কষ্ট দূর করবে, আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তার একটি কষ্ট দূর করবেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৬৯৯)

অতএব, ক্ষুধার্তকে খাদ্য দেওয়া, তৃষ্ণার্তকে পানি পান করানো, গৃহহীনকে আশ্রয় দেওয়া, অসুস্থের চিকিত্সার ব্যবস্থা করা এবং অসহায় শিশুর মুখে হাসি ফোটানো—এসব কাজ কেবল মানবিকতা নয়; বরং আখিরাতের মুক্তিরও পাথেয়।

আজ আমাদের সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, সামাজিক সংগঠন, মসজিদ-মাদরাসা, তরুণ সমাজ এবং প্রতিটি সচেতন নাগরিকের উচিত বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। সাহায্য শুধু অর্থ দিয়েই নয়; শ্রম, সময়, দক্ষতা, চিকিত্সাসেবা, উদ্ধারকাজ, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা কিংবা আন্তরিক দোয়ার মাধ্যমেও হতে পারে। ইসলামে সামর্থ্যানুযায়ী সহযোগিতাই প্রকৃত দায়িত্ব।

তবে ত্রাণ বিতরণে অবশ্যই ইখলাস, সততা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে। লোক দেখানো, প্রচারের উদ্দেশ্যে দান করা কিংবা অসহায় মানুষের আত্মসম্মান ক্ষুণ্ন করা ইসলামের শিক্ষা নয়। আল্লাহ তাআলা একনিষ্ঠতার সঙ্গে তাঁর সন্তুষ্টির জন্যই সব আমল করার নির্দেশ দিয়েছেন।

পরিশেষে বলা যায়, বন্যা আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি পরীক্ষা, আর এই পরীক্ষায় বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের ঈমান, মানবতা ও নৈতিকতার পরীক্ষা। আসুন, বিপদগ্রস্ত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে যার যা সামর্থ্য আছে তা নিয়ে এগিয়ে আসি। মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে অসহায় মানুষের প্রকৃত খেদমত করার তাওফীক দান করুন, আমাদের দান-সদকা কবুল করুন এবং দেশ ও জাতিকে সব ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে হেফাজত করুন। আমিন।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..