সর্বশেষ :
স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে দেশের প্রতিটি নাগরিককে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ডলফিনের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড চীন, সরানো হলো ১০ লাখের ‍অধিক মানুষ ইরান ইস্যুতে কার্টারের মতোই ফাঁদে পড়েছেন ট্রাম্প! আইসিসির ‘প্লেয়ার অফ দ্য মান্থ’ পুরস্কারের তালিকায় তানজিদ হরমুজ খোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা, বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম বাংলা কিউআর কোডে লেনদেন হবে ফ্রি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে রাজনৈতিক মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি : রিজভী আইসিসির সেরা ক্রিকেটারদের তালিকায় ম্যাথিউস-হারশিতা ও সিভার রদ্রিকে দলে ভেড়াতে মরিয়া বার্সেলোনা, অনিশ্চিত ডি ইয়ংয়ের ভবিষ্যৎ এশিয়ার তেলের বাজারের ‘ইরান-ধাক্কা’ একাই সামলে দিচ্ছে চীন

টক দইয়ের সঙ্গে চিনি বা লবণ মিশিয়ে খান? ক্ষতিগুলো জানুন

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৬-২৮, | ১৪:২৭:২৮ |
টক দই অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কার্যকর। এর স্বাদ কিছুটা টক হওয়ায় স্বাদ বাড়াতে অনেকেই চিনি বা লবণ মেশান। কেউ কেউ মিষ্টি লাচ্ছি বা নোনতা রায়তা বানিয়েও খান। টক দইয়ের সঙ্গে চিনি বা লবণ মিশিয়ে খাওয়ার এ অভ্যাস উপকারের বদলে ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। এমনটাই জানানো হয়েছে 'হিন্দুস্থান টাইমস'-এর এক প্রতিবেদনে। 

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় টক দই প্রোবায়োটিকসমৃদ্ধ খাবার। এর অর্থ হলো, দইয়ের মধ্যে কোটি কোটি জীবন্ত ও উপকারী ব্যাকটেরিয়া  থাকে, যা পাকস্থলি ও অন্ত্রের পরিপাক ক্রিয়াকে সচল রাখে এবং খাবার সহজে হজম করতে সাহায্য করে। কিন্তু যখনই এতে চিনি বা লবণ মেশানো হয়, তখনই এর ভেতরের মূল রাসায়নিক গঠন ও পুষ্টিগুণে বদল আসে।

চিনি মেশালে কী ক্ষতি হয়?
টক দইয়ে চিনি মেশালে তা দইয়ের প্রাকৃতিক গুণাগুণকে প্রায় নষ্ট করে দেয়। এছাড়া উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ধ্বংস হয়ে যায়। অতিরিক্ত চিনি দইয়ের অম্লতা বা পিএইচ মাত্রার পরিবর্তন ঘটায়। এর ফলে দইয়ে থাকা উপকারী প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়াগুলো নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে বা মারা যায়। ফলস্বরূপ, দই খেয়েও পেটের হজমশক্তির কোনো উন্নতি হয় না।

টক দই এমনিতে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খুব ভালো। কিন্তু এতে চিনি মেশালে এটি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়, যা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।

চিনি মেশানো দই ক্যালোরির পরিমাণ বহুগুণ বাড়ায়। এই অতিরিক্ত ‘এম্পটি ক্যালোরি’ শরীরে প্রবেশ করে মেদ বা চর্বি হিসেবে জমা হয়, যা স্থূলতার অন্যতম প্রধান কারণ।

লবণ মেশালে কী সমস্যা হতে পারে?
লবণের মূল উপাদান হলো সোডিয়াম। টক দইয়ে প্রাকৃতিকভাবেই কিছুটা সোডিয়াম থাকে। তার ওপর অতিরিক্ত লবণ বা বিট লবণ মেশালে শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা অনেকটা বেড়ে যায়। এটি রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয় এবং হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি করে।

আয়ুর্বেদ শাস্ত্র এবং আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান উভয়ের মতেই, দই ও নুনের মিশ্রণ পাকস্থলীতে গিয়ে পরিপাক রসকে পাতলা করে দেয়। এর ফলে বদহজম, বুক জ্বালা এবং পেট ফাঁপার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

দই খাওয়ার সঠিক নিয়ম কী?
চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের মতে, টক দইয়ের ১০০ শতাংশ পুষ্টি পেতে সম্পূর্ণ সাদা বা প্রাকৃতিক অবস্থায় খাওয়া উচিত। কোনো কিছু না মিশিয়ে দইয়ের নিজস্ব টক স্বাদ উপভোগ করাই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। তবে যারা একদমই সাদা টক দই খেতে পারেন না, তারা স্বাদের বদল ঘটাতে দইয়ের সঙ্গে মধু মেশাতে পারেন। চাইলে দইয়ের সাথে আপেল, বেদানা, কলা বা স্ট্রবেরির মতো মিষ্টি ফল মেশাতে পারেন। এক্ষেত্রে ফলগুলো ছোট ছোট করে কেটে মিশিয়ে ‘ফ্রুট সালাদ’ বানিয়ে খেতে পারেন। এতে দইয়ের টক ভাব কেটে যাবে এবং ফলের পুষ্টিও মিলবে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..