সর্বশেষ :
স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে দেশের প্রতিটি নাগরিককে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ডলফিনের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড চীন, সরানো হলো ১০ লাখের ‍অধিক মানুষ ইরান ইস্যুতে কার্টারের মতোই ফাঁদে পড়েছেন ট্রাম্প! আইসিসির ‘প্লেয়ার অফ দ্য মান্থ’ পুরস্কারের তালিকায় তানজিদ হরমুজ খোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা, বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম বাংলা কিউআর কোডে লেনদেন হবে ফ্রি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে রাজনৈতিক মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি : রিজভী আইসিসির সেরা ক্রিকেটারদের তালিকায় ম্যাথিউস-হারশিতা ও সিভার রদ্রিকে দলে ভেড়াতে মরিয়া বার্সেলোনা, অনিশ্চিত ডি ইয়ংয়ের ভবিষ্যৎ এশিয়ার তেলের বাজারের ‘ইরান-ধাক্কা’ একাই সামলে দিচ্ছে চীন

কার্বন অপসারণ প্রযুক্তিতে ৯১ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি টেক জায়ান্টদের

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৬-২৫, | ১৮:৫৫:১৫ |
বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড অপসারণ প্রযুক্তিতে আরো ৯১৫ মিলিয়ন বা ৯১ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিশ্বের কয়েকটি বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান।

এর মধ্যে রয়েছে অ্যানথ্রোপিক, গুগল, সেলসফোর্স এবং স্ট্রাইপ-সমর্থিত প্রতিষ্ঠান ফ্রন্টিয়ার। এর আগে একই উদ্যোগের আওতায় প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। খবর ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন নিয়ন্ত্রণ ও নেট-জিরো নির্গমন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য শুধু কার্বন নিঃসরণ কমানোই যথেষ্ট নয়। বায়ুমণ্ডলে এরই মধ্যে জমে থাকা কার্বনও অপসারণ করা জরুরি। ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় কার্বন অপসারণ প্রযুক্তির গুরুত্ব দ্রুত বেড়েছে।

ফ্রন্টিয়ার মূলত একটি ‘অ্যাডভান্সড মার্কেট কমিটমেন্ট’ বা আগাম ক্রয় প্রতিশ্রুতিভিত্তিক উদ্যোগ। প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘমেয়াদি ক্রয়চুক্তির মাধ্যমে নতুন কার্বন অপসারণ প্রযুক্তি উন্নয়নকারী কোম্পানিগুলোকে সহায়তা করে। ফলে নতুন উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপগুলো বিনিয়োগের নিশ্চয়তা পায়। একই সঙ্গে প্রযুক্তি উন্নয়ন ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়।

ফ্রন্টিয়ারের সহায়তায় বর্তমানে কয়েক ধরনের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ চলছে। এর মধ্যে রয়েছে সরাসরি বাতাস থেকে কার্বন সংগ্রহ বা ডিরেক্ট এয়ার ক্যাপচার, খনিজ শিলার মাধ্যমে কার্বন শোষণ এবং কার্বনধারণ ও সংরক্ষণ সুবিধাসহ জৈব জ্বালানি প্রযুক্তি।

এসব প্রযুক্তির লক্ষ্য হলো বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড সংগ্রহ করে দীর্ঘ সময়ের জন্য নিরাপদভাবে সংরক্ষণ করা।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও প্রতিষ্ঠান কার্বন নিঃসরণ কমানোর উদ্যোগ নিচ্ছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, কিছু খাতে নিঃসরণ পুরোপুরি বন্ধ করা এখনো কঠিন।

ভারী শিল্প, বিমান পরিবহন, জাহাজ চলাচল ও কিছু উৎপাদন খাতে এখনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ হয়। এসব খাতের অবশিষ্ট নিঃসরণ সামাল দিতে কার্বন অপসারণ প্রযুক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রতিবেদন বলছে, কার্বন অপসারণ প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার বায়ুমণ্ডলে জমে থাকা কার্বন কমাতে সহায়তা করতে পারে। এতে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের গতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।

তবে প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা নির্ভর করবে কয়েকটি বিষয়ের ওপর। এর মধ্যে রয়েছে প্রযুক্তির খরচ কমানো, কার্বন অপসারণের পরিমাণ সঠিকভাবে যাচাই করা ও বাজারের বিস্তার।

বর্তমানে কার্বন অপসারণের বাজার তুলনামূলকভাবে ছোট। বাজারটির বড় অংশই কয়েকটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের চাহিদার ওপর নির্ভরশীল।

বিশেষ করে মাইক্রোসফট এ খাতের অন্যতম বড় ক্রেতা হিসেবে পরিচিত। ফলে বাজারের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে আরো বেশি কোম্পানি ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

এছাড়া কার্বন অপসারণ খাতের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে বিভিন্ন দেশের নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অন্যান্য অঞ্চলে জলবায়ু নীতিমালার পরিবর্তন এ বাজারকে নতুন গতি দিতে পারে। একই সঙ্গে বিজ্ঞানভিত্তিক জলবায়ু লক্ষ্য নির্ধারণকারী সংস্থাগুলোর নতুন নির্দেশনাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩৫ সালের পর অনেক প্রতিষ্ঠান নেট-জিরো লক্ষ্যমাত্রা পূরণে কার্বন অপসারণ প্রযুক্তির ব্যবহার আরো বেশি করতে পারবে।

ফ্রন্টিয়ার ও এর অংশীদারদের তথ্য অনুযায়ী, এ উদ্যোগে এরই মধ্যে প্রায় ৪ কোটি ৯০ লাখ কার্বন অপসারণ ক্রেডিট বিক্রি হয়েছে। এসব ক্রেডিটের মোট বাজারমূল্য প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার।

খাতটির সামনে এখনো অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও দীর্ঘমেয়াদি ক্রেতা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দশকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার বৈশ্বিক কৌশলে কার্বন অপসারণ প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সে লক্ষ্যেই বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এখন থেকে বিনিয়োগ বাড়িয়ে বাজার তৈরির চেষ্টা করছে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..