সর্বশেষ :
স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে দেশের প্রতিটি নাগরিককে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ডলফিনের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড চীন, সরানো হলো ১০ লাখের ‍অধিক মানুষ ইরান ইস্যুতে কার্টারের মতোই ফাঁদে পড়েছেন ট্রাম্প! আইসিসির ‘প্লেয়ার অফ দ্য মান্থ’ পুরস্কারের তালিকায় তানজিদ হরমুজ খোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা, বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম বাংলা কিউআর কোডে লেনদেন হবে ফ্রি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে রাজনৈতিক মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি : রিজভী আইসিসির সেরা ক্রিকেটারদের তালিকায় ম্যাথিউস-হারশিতা ও সিভার রদ্রিকে দলে ভেড়াতে মরিয়া বার্সেলোনা, অনিশ্চিত ডি ইয়ংয়ের ভবিষ্যৎ এশিয়ার তেলের বাজারের ‘ইরান-ধাক্কা’ একাই সামলে দিচ্ছে চীন

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বিচ্ছু ছিল বেসবল ব্যাটের মতো, নতুন গবেষণায় রহস্য উন্মোচন

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৬-২৪, | ১৩:৪১:৪৩ |

পৃথিবীতে একসময় এমন এক বিশাল বিচ্ছু ছিল যার দৈর্ঘ্য প্রায় বেসবল ব্যাটের মতো অর্থাৎ এক মিটারেরও বেশি। নতুন এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা এই প্রাচীন প্রাণীর সম্পর্কে বিস্ময়কর তথ্য তুলে ধরেছেন। প্রায় ৪১ কোটি ৫০ লাখ বছর আগে, আজকের গ্রেট ব্রিটেন অঞ্চলে এই বিচ্ছুটি ঘুরে বেড়াত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই প্রাণীটির নাম Praearcturus gigas (পি. গিগাস)। দীর্ঘদিন ধরে এর জীবাশ্ম বিজ্ঞানীরা ভুলভাবে অন্য ধরনের প্রাণী বিশেষ করে লবস্টারের মতো ক্রাস্টেসিয়ান ভেবে এসেছিলেন। কিন্তু লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামে ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সংরক্ষিত জীবাশ্ম এবং নতুন কিছু নমুনা আবার পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা তাদের ধারণা বদলান।

গবেষণায় দেখা যায়, এই প্রাণীটি আসলে এক ধরনের বিশালাকৃতির প্রাচীন বিচ্ছু। এর দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ১ মিটার বা ৩ ফুটেরও বেশি। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি এতটাই বড় ও শক্তিশালী ছিল যে সামনে পড়লে ভয় পাওয়াই স্বাভাবিক।
এই বিচ্ছুর শরীরে বেশ কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল যেমন—পেটের নিচের অংশে ত্রিভুজাকৃতির একটি গঠন (স্টার্নাম), যা আধুনিক বিচ্ছুর মতোই। একই ধরনের বৈশিষ্ট্য ২০১৫ সালে কানাডায় আবিষ্কৃত আরেকটি প্রাচীন বিচ্ছুতেও দেখা যায়। এ থেকেই বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হন, এই দুই প্রাণী ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই বিচ্ছুর বড় আকৃতির পাঞ্জা বা চেলা ছিল প্রায় ৬ ইঞ্চি (১৬ সেন্টিমিটার) লম্বা যা বর্তমানের বড় বিচ্ছুর তুলনায় প্রায় চার গুণ বড়।

এই প্রাণীটি ডেভোনিয়ান যুগের শুরুতে বাস করত—যে সময় পৃথিবীতে বেশিরভাগ প্রাণই পানিতে ছিল। তাই বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এটি পুরোপুরি স্থলজ ছিল না। বরং জল ও স্থল দুই জায়গাতেই চলাফেরা করত। এর শরীরের কিছু অংশ, যেমন পেটের পাশে থাকা ফ্ল্যাপের মতো গঠন, সম্ভবত পানিতে সাঁতার কাটতে সাহায্য করত।

বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, এত বড় হওয়ার একটি কারণ ছিল শত্রুর হাত থেকে বাঁচা। তবে এটি কী খেত, তা নিয়ে কিছুটা রহস্য রয়ে গেছে। স্থলে ছোট প্রাণী খেয়ে এত বড় দেহ টিকিয়ে রাখা কঠিন ছিল। তাই ধারণা করা হচ্ছে, এটি পানিতে থাকা প্রাচীন মাছ বা নরমদেহী প্রাণী শিকার করত।

তবে সব বিজ্ঞানী এখনো একমত নন। কেউ কেউ বলছেন, এখন পর্যন্ত পাওয়া জীবাশ্ম অসম্পূর্ণ—বিচ্ছুর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ যেমন লেজের হুল বা পেকটিনস দেখা যায়নি। তবুও গবেষকরা মনে করেন, জীবাশ্ম অসম্পূর্ণ হলেও এটি বিচ্ছুই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

এই গবেষণা প্রমাণ করেছে, পুরোনো জীবাশ্ম আবার নতুনভাবে বিশ্লেষণ করলে অনেক অজানা তথ্য জানা যেতে পারে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও বড় ও অজানা বিচ্ছুর প্রমাণ পাওয়া যেতে পারে।

এই বিশাল বিচ্ছুর আবিষ্কার শুধু একটি অদ্ভুত প্রাণীর গল্প নয়—এটি পৃথিবীর প্রাচীন জীববৈচিত্র্য ও বিবর্তন সম্পর্কে আমাদের ধারণাকে আরও গভীর করে তুলছে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..