সর্বশেষ :
স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে দেশের প্রতিটি নাগরিককে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ডলফিনের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড চীন, সরানো হলো ১০ লাখের ‍অধিক মানুষ ইরান ইস্যুতে কার্টারের মতোই ফাঁদে পড়েছেন ট্রাম্প! আইসিসির ‘প্লেয়ার অফ দ্য মান্থ’ পুরস্কারের তালিকায় তানজিদ হরমুজ খোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা, বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম বাংলা কিউআর কোডে লেনদেন হবে ফ্রি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে রাজনৈতিক মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি : রিজভী আইসিসির সেরা ক্রিকেটারদের তালিকায় ম্যাথিউস-হারশিতা ও সিভার রদ্রিকে দলে ভেড়াতে মরিয়া বার্সেলোনা, অনিশ্চিত ডি ইয়ংয়ের ভবিষ্যৎ এশিয়ার তেলের বাজারের ‘ইরান-ধাক্কা’ একাই সামলে দিচ্ছে চীন

সামাজিক মাধ্যম

‘হা হা’ রিঅ্যাক্টের আড়ালে লুকিয়ে আছে যে সমাজ

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৬-২৩, | ১০:৫৯:০৯ |

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মৃত্যুসংবাদ বা মানবিক বিপর্যয়ের পোস্টে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট দেওয়ার প্রবণতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা বা শোকাবহ ঘটনার সংবাদে শোক ও সমবেদনার পাশাপাশি অনেক সময় বিদ্রূপাত্মক ‘হা হা’ প্রতিক্রিয়াও দেখা যাচ্ছে, যা ডিজিটাল সহমর্মিতার সংকটকে সামনে আনছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগ প্রকাশের জন্য বিভিন্ন রিঅ্যাক্ট ফিচার চালু থাকলেও এর অপব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে মৃত্যু বা বিপর্যয়ের মতো সংবেদনশীল ঘটনায় ভুল বা ইচ্ছাকৃতভাবে হাসির প্রতিক্রিয়া দেওয়া সামাজিকভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, অনলাইন পরিবেশে মানুষের আচরণ বাস্তব জীবনের তুলনায় ভিন্ন হয়ে যায়। পর্দার আড়ালে থাকা পরিচয় এবং তাৎক্ষণিক সামাজিক প্রতিক্রিয়ার অভাব অনেক সময় সহানুভূতির ঘাটতি তৈরি করে। একে সামাজিক বিজ্ঞানে ‘অনলাইন ডিসইনহিবিশন ইফেক্ট’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়।

বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীর সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও ডিজিটাল নাগরিকত্ব ও অনলাইন আচরণবিধি সম্পর্কে সচেতনতা তুলনামূলকভাবে কম। ফলে অনেক ব্যবহারকারী সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া উপযুক্ত, তা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখেন না।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, এই প্রবণতা শুধু অসংবেদনশীলতা নয়, বরং সাইবার বুলিংয়ের একটি রূপ হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে। রাজনৈতিক, সামাজিক বা ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে অনেকে অনলাইনে ইচ্ছাকৃতভাবে বিদ্রূপাত্মক প্রতিক্রিয়া ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, অনলাইন অপমান ও বিদ্রূপ মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে উদ্বেগ ও আত্মসম্মানহীনতার ঝুঁকি বাড়ায়। এ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে সামাজিক মেরুকরণ ও ট্রল সংস্কৃতি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য ডিজিটাল সাক্ষরতা বাড়ানো, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন আচরণ শিক্ষা দেওয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা জরুরি।

তাদের মতে, একটি রিঅ্যাক্ট দেওয়ার আগে ব্যবহারকারীদের উচিত ভাবা—নিজের জায়গায় থাকলে প্রতিক্রিয়াটি কেমন লাগত। কারণ প্রযুক্তির অগ্রগতি যতই হোক, মানবিকতা ছাড়া তা অর্থহীন।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..