সর্বশেষ :
স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে দেশের প্রতিটি নাগরিককে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ডলফিনের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড চীন, সরানো হলো ১০ লাখের ‍অধিক মানুষ ইরান ইস্যুতে কার্টারের মতোই ফাঁদে পড়েছেন ট্রাম্প! আইসিসির ‘প্লেয়ার অফ দ্য মান্থ’ পুরস্কারের তালিকায় তানজিদ হরমুজ খোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা, বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম বাংলা কিউআর কোডে লেনদেন হবে ফ্রি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে রাজনৈতিক মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি : রিজভী আইসিসির সেরা ক্রিকেটারদের তালিকায় ম্যাথিউস-হারশিতা ও সিভার রদ্রিকে দলে ভেড়াতে মরিয়া বার্সেলোনা, অনিশ্চিত ডি ইয়ংয়ের ভবিষ্যৎ এশিয়ার তেলের বাজারের ‘ইরান-ধাক্কা’ একাই সামলে দিচ্ছে চীন

‘এআই ফাঁকি’ দিতে নম্বরপ্লেট ঢেকে রাখা সেই যুবককে ধরেছে পুলিশ

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৬-০২, | ১৮:১৬:০৪ |
ঢাকার সড়কে এআইভিত্তিক ট্রাফিক নজরদারি ব্যবস্থা ফাঁকি দিতে মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেটের তিনটি ডিজিট ঢেকে চলাচল করছিলেন লাবলু হক (৩৮) নামের এক ব্যক্তি। অভিনব এই প্রতারণার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবি ও ভিডিওর সূত্র ধরে প্রায় এক সপ্তাহের তদন্ত শেষে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তিনি দোষ স্বীকার করলে তাকে এক মাসের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২ জুন) ডিএমপির এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান জানান, বিষয়টি প্রথমে কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলের প্রতিবেদনের মাধ্যমে তাদের নজরে আসে। পরে আরও কয়েকটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। তখনই পুলিশ বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত শুরু করে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টার মধ্যে এ ধরনের ঘটনা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারত। কারণ একজন ব্যক্তি সফলভাবে আইন ফাঁকি দিতে পারলে অন্যরাও একই ধরনের কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত হতে পারেন। সেই বিবেচনায় ঘটনাটির দ্রুত তদন্ত ও দায়ী ব্যক্তিকে শনাক্ত করা জরুরি হয়ে পড়ে।

পুলিশ জানায়, ভাইরাল হওয়া ছবিতে মোটরসাইকেল আরোহীর মুখ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল না। ফলে তদন্তকারীদের জন্য কাজটি ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে একই ধরনের মোটরসাইকেল খুঁজে বের করা হয়। পাশাপাশি আংশিক দৃশ্যমান নম্বরপ্লেটের তথ্যের সঙ্গে বিভিন্ন মোটরসাইকেলের নম্বর মিলিয়ে দেখা হয়।

তদন্তে শনাক্ত হওয়া লাবলু হক পুরান ঢাকার লালবাগ এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা আব্দুল হক ও মা আনোয়ারা বেগম। পুলিশ জানিয়েছে, দীর্ঘ অনুসন্ধান ও তথ্য বিশ্লেষণের পর সোমবার তাকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের উপকমিশনার রাকিব হোসেন তদন্তের বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, ঘটনাটি তাদের নজরে আসে প্রায় সাত দিন আগে। তবে ভাইরাল হওয়া ছবি কোথায় এবং কখন তোলা হয়েছে, সে বিষয়ে গণমাধ্যম থেকেও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে তদন্ত অনেকটাই অনুমানের ভিত্তিতে শুরু করতে হয়।

তিনি জানান, বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হয়, রাজধানীর সাতরাস্তা মোড়ের বিজি প্রেসসংলগ্ন এলাকায় ছবিটি তোলা হয়েছিল। এরপর ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়। যেহেতু নম্বরপ্লেটের তিনটি ডিজিট ঢেকে রাখা হয়েছিল, তাই সম্ভাব্য বিভিন্ন নম্বরের সমন্বয় ধরে অনুসন্ধান চালাতে হয়।

তদন্তকারীরা মোটরসাইকেলের রং, মডেল ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নিয়ে সম্ভাব্য যানবাহনের তালিকা তৈরি করেন। পরে একে একে সেসব মোটরসাইকেলের মালিকদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। ঈদের ছুটির মধ্যেও পুলিশ সদস্যরা বিভিন্ন ঠিকানায় গিয়ে তথ্য যাচাই করেন। ধাপে ধাপে সম্ভাব্য তালিকা ছোট করতে করতে শেষ পর্যন্ত প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি মোটরসাইকেল নিয়ে কাজ করা হয়।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..